Home / CPD in the Media / সব মিলিয়ে বৈশ্বিক হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ভালো: ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

সব মিলিয়ে বৈশ্বিক হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ভালো: ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

Published in ভোরের কাগজ on Thursday, 6 April 2017

৯ মাসে রপ্তানি আয় ২৫৯৪ কোটি ডলার

কাগজ প্রতিবেদক :

বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বাড়লেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৯ কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এদিকে একক মাস হিসেবে মার্চে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে ৩১০ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতকাল বুধবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রথম ৯ মাসের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৭১১ কোটি ১১ লাখ ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কম।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩১০কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে মোট ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে তৈরি পোশাক খাতের পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৯২ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার। এ খাতের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়লেও অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং ওভেন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে ১ হাজার ৭৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় অর্জিত হয় ২১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। পরের মাস আগস্টে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় আসে ২৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে ঈদুল আজহার কারণে বেশ কিছুদিন ছুটি থাকায় রপ্তানি আয়ে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে গত অক্টোবরে ২৫০ কোটি ১৩ লাখ, নবেম্বর মাসে কিছুটা কমে ২৩১ কোটি ৯৯ লাখ ও ডিসেম্বর মাসে ২৫৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার অর্জিত হয়। নতুন বছরের প্রথম মাসে জানুয়ারি মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ২৭০ কোটি ৩৫ লাখ, ফেব্রুয়ারি মাসে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। সবশেষ মার্চে রপ্তানি আয় এসেছে ২২৯ কোটি ডলার।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক‚লতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোর দরপতন, ব্রেক্সিট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কারণে আমাদের পণ্যের দরপতন হলেও গত ২ বছরে গ্যাস সংকটসহ নানাবিধ কারণে আমাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে আমাদের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্যে উক্ত সময়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫.১৯ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সারা বিশ্বেই বর্তমানে অর্থনীতিতে একটি শ্লথগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চীনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অন্য দেশেও প্রবৃদ্ধি বেশি ইতিবাচক ধারায় নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের সরে আসার সিদ্ধান্ত (ব্রেক্সিট), পাউন্ড ও ইউরোর দরপতন- সব মিলিয়ে বৈশ্বিক হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ভালো। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এখনও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ‘নন ট্র্যাডিশনাল মার্কেটে’ আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হবে।

Comments

Check Also

পরিবেশবান্ধব কারখানা

পরিবেশবান্ধব কারখানা বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করবে নি:সন্দেহেঃ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

বিশ্বব্যপী বাংলাদেশের গার্মেন্টস নিয়ে সরব আলোচনার মধ্যে অনেকটা নীরবেই বিশালসংখ্যক পরিবেশববান্ধব ও কর্মপরিবেশসম্পন্ন (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা স্থাপন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছে।