Latest

Dr Debapriya Bhattacharya on 2030 Agenda for Sustainable Development

Published in সকালের খবর  on Sunday, 29  November 2015.

টেকসই উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব

আবদুল হাই রঞ্জু

পুঁজির বিকাশ যত দ্রুত ঘটেছে ততই মধ্যবিত্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমেছে। অর্থাত্ যে শ্রেণি কল-কারখানার মালিক হয়েছে, তারাই অর্থকষ্টে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণির চাষের জমি কিনে নিয়েছে। ধীরে ধীরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অধিকাংশই জমি হারিয়ে হয়েছে ভূমিহীন। আর নিম্নশ্রেণির কৃষকরা চাষের জমি এমনকি বসতভিটা হারিয়ে ভাসমান হয়েছে অনেক আগেই। অথচ শোষণ বৈষম্য হতে মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেও গত ৪৪ বছরে পাকিস্তানি ২২ পরিবারের স্থলে বর্তমানে দেশে ৪৫ হাজার কোটিপতি পরিবারের জন্ম হয়েছে। পক্ষান্তরে কৃষক হারিয়েছে চাষের জমি, শ্রমিক হারিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ পাটকল আদমজীসহ অনেক পাটকল ও বস্ত্রকল। আখ চাষিরা ভুলতে বসেছে আখের চাষ, চিনিকলগুলো লোকসানের ভারে এখন মৃতপ্রায়, শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মক্ষম অবস্থায় বেকারের খাতায় নাম লিখছে। এখন অভাব-অনটন বেকারত্বের সমস্যা যেন পাহাড়সমান। ঘুষ দুর্নীতি, লুটপাট এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এতকিছুর পরও আমরা স্বপ্ন দেখছি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জীবনমানের সমান হতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ২০৪১ সাল অবধি, সময়ের অঙ্কে যা প্রায় ২৫ বছর। এজন্য প্রতি পাঁচ বছর পর পর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে করতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করায় ৩০ বছর পার করে আমাদের ৩১ বছরের যাত্রা শুরু, যে যাত্রার শেষ হবে ’৪১ সালে।

মানুষ আশা নিয়েই বেঁচে থাকে, এটাই সত্য। শুধু আশা নিয়ে বাঁচলেই হবে না, এগুতে হবে অনেক দূর। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের সনদ অর্জন করেছে। এজন্য দেশজ উত্পাদন বা জিডিপি অর্জন করতে হয়েছে টানা ক’বছর ধরে ছয় শতাংশের ওপরে, যা সম্ভব হয়েছে এই দেশের কৃষকের প্রচেষ্টার ফসল প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স, তৈরি পোশাক খাতের উপার্জিত অর্থের জোগান থেকেই। এই অবস্থা ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হলে অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হওয়া সহজ হবে, যা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে এজন্য সবচেয়ে যেটি আবশ্যক তা হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। মাঝেমধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই রাজনীতির যে নিষ্ঠুর খেলা আমাদের দেশে আবির্ভূত হয়, তা দেশের জন্য অকল্যাণকর হলেও অনেকের কাছে কিছুই যায় আসে না। মূলত ক্ষমতার রাজনীতিকে ঘিরেই দোষারোপের সংস্কৃতির মাঝেই আমরা এখনও ঘুরপাক খাচ্ছি। অথচ রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার গণতান্ত্রিক চর্চার পাশাপাশি সুশাসন এবং ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট না হলে স্বাধীনতা অর্জনের ৪৪ বছরে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কল্পনার সীমাকেও অতিক্রম করত। এই দীর্ঘ সময়ে প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন কিংবা সামরিক লেবাসে তথাকথিত গণতান্ত্রিক দুঃশাসন ও শোষণে শোষণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করাও সম্ভব হয়নি।

আগেই বলেছি, একসময় দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংখ্যাই ছিল বেশি। যাদের ছিল গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু। মূলত কৃষি চাষাবাদের ওপর ভিত্তি করেই যাদের সংসার ছিল সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যের। সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষ করে উপযুক্ত মূল্যে সে পাট বিক্রি করেই সারাবছরই সংসারের খরচ মিটিয়েও টাকা উদ্বৃত্ত থাকত। তখন রফতানি আয়ের প্রধান খাত পাটকে ঘিরে সরকারও অর্জন করত প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। সব মিলিয়ে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে মধ্যবিত্ত নিম্ন-মধ্যবিত্তের দিন ভালোই কাটছিল। বাস্তব এই চিত্র বেশিদিন আগের নয়। আমরা দেখেছি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সুখ স্বাচ্ছ্যন্দের দিনগুলো। অথচ আমাদের চোখের সামনেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কৃষি পরিবারগুলো কীভাবে নিঃশেষ হয়ে গেল। অবশ্য তখন জনসংখ্যাও খুব বেশি ছিল না। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনসংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। নব্য ধনিক শ্রেণির উত্থানের কারণে শুধু অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষত কৃষি অর্থনীতির দেশে গড়ে ওঠা কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহত্ পাটকল আদমজীসহ পাটকলগুলো চোখের সামনেই ধ্বংস হয়েছে। বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দিয়ে সরকার দেশীয় চিনিকলগুলোকে ধ্বংস করেছে। এভাবেই কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে বন্ধ হয়েছে অথবা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লোকসান দিয়ে কোনো রকমে টিকে আছে।

অথচ কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সেই কৃষি সেক্টরে জড়িত কৃষককুলের দুঃস্বপ্নের কালো রাত যেন প্রভাতই হয় না। এখনও দেশের চাষিরা ঝড়, বৃষ্টি, অকাল বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা করে চাষাবাদ করলেও উত্পাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ঠিকমতো পায় না। অথচ কৃষি চাষাবাদের উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিসহ কৃষি মজুরের বাড়তি মূল্যে কৃষককে এখন চাষাবাদ করতে হয়। শুধু কৃষি পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, পোশাক কারখানায় চাকরি কিংবা প্রবাস জীবনে কষ্টের উপার্জিত অর্থ কৃষি খাতে বিনিয়োগের কারণে হারিয়ে যাওয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান ঘটা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন। মূলত ঢাকা শহরের ১২টি এলাকায় বিআইডিএস গবেষণাটি পরিচালনা করে। মূল গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৯২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে। গবেষণা মতে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯ শতাংশ মধ্যবিত্ত ছিল। প্রায় দুই দশক পর এই মধ্যবিত্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণির দ্রুত বিকাশ ঘটায় দেশজ উত্পাদন বা জিডিপি ভালো হচ্ছে। এই গবেষণা সম্পর্কে বিনায়ক সেন আরও বলেন, উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও চাকরিজীবীর সংখ্যা যত বাড়বে, ততই মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি তা আরও সুসংহত হবে। তার মতে, যেভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৫ সালে মধ্যবিত্তের পরিমাণ ২৫ শতাংশ ও ২০৩৩ সালে তা ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এখন শুধু কৃষিতেই নয়, তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। শুধু মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশমান এই ধারা অব্যাহত থাকলে মধ্যম আয়ের দেশ বিনির্মাণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালের মধ্যেই অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

সম্প্রতি ২০২০ সালে মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অর্থাত্ ২০১৫-২০-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব সামসুল আলম সপ্তম পঞ্চবার্ষিকের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করে বলেন, প্রবৃদ্ধি ও তরান্বিতকরণ, সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনের সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের যাতে ক্ষমতায়ন হয়, সেই বিষয়গুলো সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গড়ে ৭.৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যের বর্তমান হার ২৪.৮ ভাগ থেকে কমিয়ে ১৮.৬ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। আর হতদরিদ্রের হার ১২.৯ থেকে ৮.৯ ভাগে নামিয়ে আনার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ২.০২ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ২০২০ সালে তা ২.৩০ ভাগ উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষেরও কর্মসংস্থান হবে। বাস্তবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা সম্ভব না হলে ৭.৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও সম্ভব হবে না। আবার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানসহ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ৩১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগের ৭৭.৩ ভাগ আসবে বেসরকারি খাত থেকে, বাকি ২২.৭ ভাগ আসবে সরকারি খাত থেকে।

যেহেতু সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) সফলভাবে সরকার অর্জন করেছে, সেহেতু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অভ্যন্তরীণ সম্পদ দিয়ে অর্জন করতে হবে।

‘টেকসই উন্নয়ন ২০৩০ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাংলাদেশের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত’ শীর্ষক সেমিনারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসডিজি বাস্তবায়নে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশকে মোকাবেলা করতে হবে মর্মে মন্তব্য করেন। চালেঞ্জগুলো হচ্ছে, বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা, সবার অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা, সম্পদের প্রাপ্যতা, বস্তুনিষ্ঠ পরিসংখ্যান ও তদারকি এবং কাঠামোগত কৌশল ও বাস্তবায়ন। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে এর পরিমাণ মাত্র মোট জিডিপির ১২ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগ মাত্র ২২ দশমিক ১ শতাংশ, এটাকে ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ষষ্ঠবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপির ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও কার্যত ২ শতাংশের বেশি ব্যয় করা হয়নি। দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমানোর ওপর নির্ভর করে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে এই খাতে বরাদ্দ কমিয়ে জিডিপির ২ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের অর্থে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল সঠিক নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ উন্নত দেশে জিডিপির ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ এই খাতে ব্যয় করা হয়। এখনও দেশের প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যের কারণে খাদ্য প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় ভোগে। বলাই বাহুল্য, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত। তা না হলে, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে, যা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

লেখক : সমাজকর্মী

Comments

Check Also

debapriya-bhattacharya-challenges-of-implementing-the-new-global-development-agenda

Dr Debapriya Stresses on Internalising SDGs with National Budgets

Bangladesh needs to internailse the ambitious goals and targets of the Sustainable Development Goals (SDGs) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *