Home / CPD in the Media / Dr Debapriya Bhattacharya on capital flight

Dr Debapriya Bhattacharya on capital flight

Published in Prothom Alo on Saturday, 20 June 2015.

সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার
পরিবেশ না থাকা ও রাজনৈতিক অস্থিরতাই কারণ

ফখরুল ইসলাম

বাংলাদেশি নাগরিকেরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে (সুইস ব্যাংক) দেদার অর্থ পাচার করছে। এ পাচার রোধে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। এক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক সামান্য উদ্যোগ নিলেও কোনো লাভ হয়নি। অর্থ পাচার কমার বদলে উল্টো বেড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতা অর্থ পাচারের বড় কারণ।

সুইজারল্যান্ডের সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৪’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ অর্থ বেশি জমা হয়েছে। পাঁচ বছরের হিসাবে এ পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনের বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এক বাক্যে এই পাচারের জন্য দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকাকে দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় বিনিয়োগের যে হার রয়েছে, তার চেয়ে সঞ্চয়ের হার বেশি।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগের তুলনায় সঞ্চয়ের হার ২-৩ শতাংশ বেশি। টাকা তো আর মানুষ বালিশের তলায় রাখে না। তাই পাচার করে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলামও মনে করেন, প্রত্যাশা মাফিক বিনিয়োগ পরিবেশ না থাকাই অর্থ পাচারের বড় কারণ।

অথচ অর্থ পাচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ বলতে তেমন কিছুই নেই। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য মনে করেন, অর্থ পাচার রোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই। সরকার সত্যি সত্যিই অর্থ পাচার রোধ করতে চায় কি না, সে ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে। সন্দেহের কারণ ব্যাখ্যা করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘অর্থ পাচার রোধ শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের একার চাওয়ার ব্যাপার নয়। বিষয়টি রাজনৈতিক।’

দেবপ্রিয়র প্রশ্ন, অর্থ পাচার কারা করে? শক্তিশালী লোকেরা। দেখার বিষয় যে সরকার তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করতে চায় কি না।

টাকা পাচারের নিরাপদ জায়গা হিসেবে সুইস ব্যাংকের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে ২০১৪ সালে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা রয়েছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ সুইস ফ্রা, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা (১ ফ্রা ৯০ টাকা হিসাবে)। ২০১৩ সালের জমা ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা থেকে তা ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা বেশি।

নাগরিকত্ব গোপন রেখে যারা সুইস ব্যাংকে টাকা রেখেছেন, তাদের তথ্য অবশ্য প্রতিবেদনে আনা হয়নি। স্বর্ণালংকার, শিল্পকর্ম বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রের আর্থিক মূল্যকেও রাখা হয়েছে হিসাবের বাইরে। সব বিবেচনায় নিলে পরিমাণ আরও বাড়বে।

সুইস ব্যাংক কখনোই আমানতকারীদের তথ্য প্রকাশ করে না, টাকার পরিমাণও জানতে দেয় না। ব্যাংক টাকা জমা রাখে একটি কোড নম্বরের ভিত্তিতে। বেশ কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে বিশ্বব্যাপী টাকা পাচার রোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ব্যাপকভাবে কার্যকর হওয়ায় সুইস ব্যাংক গত বছর থেকে দেশওয়ারি অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন।

গত বছর সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য বিনিময়ের আগ্রহ দেখিয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে চিঠি দেয় সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ওই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি তারা। হংকং-সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও একই আগ্রহের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও চিঠি দেয় সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এরও জবাব পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক দেশই এ বিষয়ে সোচ্চার। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের মনোভাব হচ্ছে আইন সংশোধন ছাড়া তারা কিছু করতে পারবে না।

সম্প্রতি বারবাডোজে অনুষ্ঠিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বেলজিয়ামের পক্ষ থেকে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয় বলে জানান মাহফুজুর রহমান।

অর্থ পাচার রোধে সরকারের অমনোযোগিতাকে দায়ী করে মির্জ্জা আজিজ বলেন, ‘সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ভারসাম্য নেই। আর কম দামি পণ্য বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ পাচারের কথা তো সবারই জানা। বিনিয়োগ হচ্ছে না, অথচ মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ২০ শতাংশ।’ এর মানে কি সরকার জানে না? মির্জ্জা আজিজের প্রশ্ন।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৪ সালে বাংলাদেশিদের ৪ কোটি ১০ লাখ ফ্রা ছিল সুইস ব্যাংকে। এরপর ২০০৫ সালে ৯ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০০৬ সালে ১২ কোটি ৪০ লাখ ফ্রা হয়। ২০০৭ সালে তা আগের বছরের দ্বিগুণ ছাড়িয়ে হয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ। তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলে ২০০৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৭০ লাখ ফ্রাতে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ‘দেশে যখন নির্বাচন আসে, তখনই অর্থ পাচার অনেক বেড়ে যায়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা এ পাচারের বড় কারণ।’ ২০০৬-এর পর থেকে প্রতি বছর মিলিয়ে দেখলে অবশ্য তাঁর বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

আগের বছর কমে এলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় প্রথম বছর অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে অর্থ পাচার আবার বাড়তে থাকে। ওই বছর ১৪ কোটি ৯০ লাখ, ২০১০ সালে ২৩ কোটি ৬০ লাখ, ২০১১ সালে ১৫ কোটি ২০ লাখ, ২০১২ সালে ২২ কোটি ৯০ লাখ এবং ২০১৩ সালে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ফ্রাঁ জমা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি পদক্ষেপে কিছু না কিছু কাজ হয়ই। ২০০৮ সালে যে অর্থ পাচার কমেছিল, তা সরকারি পদক্ষেপেরই কারণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান অবশ্য দাবি করেন, বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেন, তাহলে কিছু করার নেই।

জানা গেছে, যেসব দেশের সঙ্গে সুইস ব্যাংকের এমওইউ রয়েছে, সেসব দেশ সুইস ব্যাংক থেকে তথ্য আনতে পারে। যে সুযোগটি সম্প্রতি কাজে লাগিয়েছে ভারত। যে কারণে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতের পাচার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি অর্থ চীনা নাগরিকদের ৮১০ কোটি ফ্রাঁ। এরপর মালয়েশিয়ার ৩৩৬ কোটি, থাইল্যান্ডের ৩০৫, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৭৬, ভারতের ১৭৭, পাকিস্তানের ১২৩, বাংলাদেশের ৫০ কোটি ৬০ লাখ, নেপালের ১০ কোটি ২০ লাখ, শ্রীলঙ্কার ৮ কোটি ২০ লাখ, মিয়ানমারের ৬ কোটি, মালদ্বীপের ১ কোটি ৭০ লাখ এবং আফগানিস্তানের ১ কোটি ৪০ লাখ ফ্রাঁ জমা আছে।

পাচার রোধে করণীয় জানতে চাইলে মির্জ্জা আজিজ বলেন, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো দরকার।

খলীকুজ্জমান আহমদ বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি এনবিআরকেও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেন। এ জন্য অবশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনের শাসনকেও তিনি জরুরি মনে করেন।

আর দেবপ্রিয় মনে করেন, সুইস ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ করতে না পারার অর্থই হচ্ছে এ ব্যাপারে সরকারের দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাব রয়েছে। এটা বাড়াতে হবে। অর্থ পাচার রোধে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কার্যকারিতা খুবই ক্ষীণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *