Home / CPD in the Media / CPD IRBD study on revenue collection cited

CPD IRBD study on revenue collection cited

Published in Samakal on Sunday, 7 June 2015.

বাজেট প্রস্তাব ২০১৫-১৬
উন্নয়ন লক্ষ্যে পেঁৗছাতেই হবে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন বৃহস্পতিবার। টানা সাতটি অর্থবছরের বাজেট পেশ করার বিরল সম্মান তিনি পেয়েছেন। তার এ অবস্থান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আর্থ-সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতারও সাক্ষ্য বটে। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী মনে করেন, বড় অঙ্কের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা_ উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে ‘উচ্চাভিলাষী’ মনোভাব পোষণের জন্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের মতো দায়িত্বশীল গবেষণা সংস্থা মনে করে, আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় দুরূহ। ধনবান শ্রেণীর সঙ্গে সমাজের অন্যান্য অংশের আয়ের বৈষম্য কমিয়ে আনায় তেমন পদক্ষেপ নেই_ এমন অভিযোগও উঠছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী ‘একটা বড় ধাক্কা’ দিতে চাইছেন, যাতে প্রকাশ পেয়েছে বর্ধিত রাজস্ব আদায় এবং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সংকল্প। বিনিয়োগ বাড়াতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার চ্যালেঞ্জও তিনি গ্রহণ করেছেন। এ লক্ষ্যে জ্বালানি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য অবকাঠামো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মানবসম্পদ খাতের উন্নয়নও রয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়। সময়মতো অর্থের জোগান না মিললে বছর শেষে উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁট করতে হয়, এটাই অভিজ্ঞতা। আগামী অর্থবছরে এর পুনরাবৃত্তি হবে না, এটাই কাম্য। কয়েক বছর ধরেই অর্থমন্ত্রী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ওপরে নিয়ে যেতে চাইছেন, কিন্তু থমকে থাকতে হচ্ছে কিছুটা পেছনে। সম্পদের জোগান এ ক্ষেত্রে যেমন বাধা, তেমনি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের কারণে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে বাড়তি দক্ষতা ও গতিশীলতা আসবে_ তেমনটিই প্রত্যাশা। অর্থমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক বাড়ানো, নারী ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আয়করের সীমা বৃদ্ধি, করপোরেট কর হার কমানো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর মতো ইতিবাচক কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কৃষক সমাজ কাঙ্ক্ষিত প্রণোদনা পায়নি, এমন অভিমত প্রকাশ পেয়েছে। কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, রফতানি পণ্যের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের চাল। এ অবস্থায় কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে কেন বঞ্চিত হচ্ছেন? বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পের জন্যও সুখবর নেই। নিউজপ্রিন্টের আমদানি শুল্কে বিশেষ ছাড় প্রদানের দাবি যৌক্তিক এবং বাজেট চূড়ান্ত করার সময়ে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা ও রফতানিকারকরা বলেছেন, এ খাতে উৎসে কর বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক। পোশাক খাতের জন্য ৬-৭ বছরের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে কর্মসংস্থান পরিবেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। এ অবস্থায় সরকারের নীতি কিংবা কর্মকৌশলে এমন কোনো পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত নয়, যা উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। বাজেটের লক্ষ্যগুলো অর্জন নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ এবং তাতে জয়ী হতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিরও দায়িত্ব রয়েছে। যে কোনো দেশেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া থাকা স্বাভাবিক। আমাদের দেশেও রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা চাই যে, দেশের স্বার্থ সবার উপরে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আমাদের সবার লক্ষ্য এবং কারও তরফেই এমন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত নয়, যা এই মহৎ লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত করতে পারে।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *