Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on RMG owners

Dr Khondaker Golam Moazzem on RMG owners

Published in Bhorer Kagoj on Friday, 3 July 2015.

দুই ক্রেতা জোটের সঙ্গেই দূরত্ব বাড়ছে পোশাকশিল্প মালিকদের

টুটুল রহমান ও ওবায়দুর রহমান

পোশাকশিল্পের দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দূরত্ব বাড়ছে শিল্প উদ্যোক্তাদের। যদিও ক্রেতা জোট দুটির কার্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়েছিল শিল্প মালিকরা। তবে এখন গার্মেন্টস শিল্প মালিকরা বলছেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স তাদের অধিকারের বাইরে কাজ করছে। খোদ অর্থমন্ত্রীও এ ব্যাপারে তার নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এদের কারণে অনেক কারখানা ক্রয়াদেশ পাচ্ছে না। আবার বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যাক কারখানা। তবে এই দুটি ক্রেতা জোটের পক্ষ থেকে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের পর দেশের পোশাকশিল্প কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়ে গোটা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা ও ইউরোপের ক্রেতারা দুটি জোট গঠন করে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত ও নিরাপদ করার বিষয়ে কাজ শুরু করে। প্রথম দিকে তাদের এমন সহযোগিতাকে স্বাগত জানালেও এখন পোশাকশিল্প মালিকরা তাদরে বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, তারা যেভাবে প্রতিটি কারখানা পরিদর্শন করছে, অন্য কোনো দেশে এর নজির নেই। প্রতিটি কারখানা মালিককে তাদের ইচ্ছামাফিক শর্তপূরণ করতে হচ্ছে। আর এ জন্য প্রতিটি কারখানায় ব্যয় বাড়ছে ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা। ফলে তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যেসব কারখানা তাদের শর্তপূরণ করতে পারছে না, তাদের কাছ থেকে পোশাক না কেনার জন্য ওয়েবসাইটে ক্রেতাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কারখানা সংস্কারে কোটি কোটি টাকা লাগবে। সেটি কোথা থেকে আসবে? বারবার বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি সামনে আনলেও অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ এড়িয়ে যান। কারখানা সংস্কারে এখন পর্যন্ত একটি টাকাও তারা ঋণ দিতে পারেননি। তা ছাড়া অ্যাকর্ডের মূল কমিটিতে আমাদের কাউকে রাখা হয়নি। ফলে আমাদের দাবি-দাওয়া ও অভিযোগ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তাদের নজরে নিতে হত। তবে অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের আমরা দেশের আইন ও নিয়মনীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলেছি। তারা সেটি মেনে নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে প্রতি সপ্তাহে বৈঠক করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই ক্রেতা জোট দুটি কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে ক্রেতাদের গাফিলতির কথা বলেছে।

এ ব্যাপারে আতিকুল ইসলাম বলেন, ৩০ বছর ধরে তিলে তিলে বাংলাদেশে পোশাকশিল্প গড়ে উঠেছে। তাই খুব দ্রুতই যে সবার মনমানসিকতা পরিবর্তন হবে, তেমনটি ভাবার কারণ নেই। তাই গাফিলতি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এটিও সত্য, কারখানা সংস্কারে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন, সেটি জোগাড় করতে অধিকাংশ মালিককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। ত্রুটি সংস্কারে মালিকদের চাপে রেখেছি।

অ্যার্কড ও অ্যালায়েন্সের সঙ্গে শিল্প মালিকদের এই দ্ব›েদ্বর বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পোশাক কারখানার পরিদর্শন ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কারখানার মালিকরা এক ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ সময় রপ্তানির নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধিও দুশ্চিন্তার কারণ। এটা সত্যি, যে কোনো সংস্কারই কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এসবের প্রতিক্রিয়া বড় পোশাক কারখানার চেয়ে ছোট, মাঝারি বা সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানার ওপর বেশি। সবমিলিয়ে তাদের অস্থিরতা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সমালোচনা করার মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে।

তবে সংগঠন হিসেবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আরো পরিণত আচরণ প্রয়োজন। সংগঠনের সদস্য কারখানার মালিকদের সংস্কার কার্যক্রম সময়মতো শেষ করতে চাপ দেয়া দরকার। মনে রাখতে হবে, সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতা কাক্সিক্ষত ফল প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠন দুটির পাশাপাশি সরকারের শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদ অঙ্গীকার ও চুক্তির বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন। অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে অগ্রসর না হয়ে অন্য উপায়ে গেলে সমস্যা বাড়াবে বৈকি কমবে না।

এদিকে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যালায়েন্সের স্বতন্ত্র চেয়ারপারসন অ্যালেন টসার। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা মোটেও ইতিবাচক নয়। অ্যালায়েন্সের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়া হয়। অ্যালায়েন্সের স্বতন্ত্র চেয়ারপারসন অ্যালেন টসার উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা দেশটির উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে- বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্যের এমন মন্তব্য হতাশাজনক।

অ্যালেন টসার বলেন, বাংলাদেশ দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ধারণক্ষমতা উন্নত করতে অ্যালায়েন্স এবং অন্য জোটের প্রয়াসকে দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেবে। বাংলাদেশ তার অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *