Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on savings certificate

Dr Khondaker Golam Moazzem on savings certificate

Published in Daily Janakantha on Thursday, 25 June 2015.

সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও বিক্রিতে রেকর্ড
১১ মাসে সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

সুদ হার কমানো সত্ত্বেও অর্থবছরের ১১ মাসে রেকর্ড সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। মে মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। তার আগের মাসে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়েনি। সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। মূলত ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সুদের হার কিছুটা বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর তরফ থেকে চাপ এবং নানামুখী আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী সঞ্চয়পত্রের সুদের হার গড়ে ২ শতাংশ হারে কমানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু এরপরও এ খাতে বিক্রি ঠেকানো যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কেউ কেউ এ খাতের সুদের হার আরেক দফা কমানোর দাবি তুলছেন। যদিও সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সংসদে বাজেট আলোচনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সমালোচনা করেছেন।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে এ খাতে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এই সময়ে অতীতে বিনিয়োগকৃত মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। মূল অর্থ বাদ দেয়ার পর নিট বিক্রি প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে মে মাসে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর আগের মাস এপ্রিলে এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আসে ২ হাজার ৯শ’ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এত বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকেনি।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। এ জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এগারো মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে মনে করেন এই গবেষক।

সরকারের নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হওয়ার অর্থ হলো সরকার দায় বৃদ্ধি পাওয়া, সেই সঙ্গে সুদের অর্থ বাবদ বেশি অর্থ খরচ হওয়া। অন্যদিকে এ খাতের সুদের হার বেশি হওয়ার অজুহাত তুলে ব্যাংকগুলোও ঋণের সুদের হার কমাতে চাইছে না। তারা বলছে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমলে তারাও কম সুদে আমানত নিয়ে কম সুদে ঋণ দিতে পারবে।

জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদি পারিবারিক ও পেনশন সঞ্চয়পত্র কিনলে ১৩ দশমিক ৪৫ ও ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে সুদ দেয়া হতো। কিন্তু সুদের হার কমানোর পর বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। ৩ বছর মেয়াদি ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম সমন্বয় করে মুনাফার হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।

Comments

Check Also

Press Reports on Recommendations for the National Budget FY2017-18

As part of the Independent Review of Bangladesh’s Development (IRBD) programme CPD organised a media …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *