Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on unutilised land

Dr Khondaker Golam Moazzem on unutilised land

Published in Bonik Barta on Monday, 29 June 2015.

খালি পড়ে আছে ১,২৮৮ একর সরকারি জমি
বিসিকের সাড়ে ৪ হাজার প্লট অব্যবহৃত

ফারজানা লাবনী

জমির দাম আকাশ ছোঁয়া। উচ্চ মূল্যেও সুবিধামতো জায়গা মিলছে না কারখানা নির্মাণে। তাই আগ্রহী উদ্যোক্তা শুধু জায়গার অভাবে বিনিয়োগে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কম্পানিও বিনিয়োগ ফিরিয়ে নিয়েছে প্রত্যাশিত জায়গা না পেয়ে। অথচ এখনই কারখানা নির্মাণে উপযুক্ত জমি রয়েছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে, যা অব্যবহৃত রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ৭৪টি শিল্প নগরীর ১০ হাজার ৩৩৮টি প্লটের ৪ হাজার ৫৯০টিই অব্যবহৃত রয়েছে। শিল্প-কারখানা নির্মাণে সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এসব জায়গায়। দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা এসব প্লটের মালিকানা বাতিল করে নতুনভাবে সরবরাহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি শিল্প মন্ত্রণালয়।

আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৩৯টি কলকারখানার ১ হাজার ২৮৮ একর জমি অব্যহৃত পড়ে রয়েছে। ২০১১ সালে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন থেকে ৩৯টি সরকারি কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসব অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে বেসরকারি খাতে ৯৯ বছরের জন্য লিজের মাধ্যমে সরবরাহে প্রস্তাব করা হয়।

২০১২ সালের জুন মাসে অব্যবহৃত ১ হাজার ২৮৮ একর সরকারি জমি বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যে জমি সরবরাহের সব কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় তিন বছর পার হতে চললেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বাস্তব অগ্রগতি নেই।

অব্যবহৃত সরকারি জমি বেসরকারি খাতে সরবরাহের ঘোর বিরোধিতা করে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। বিশেষভাবে তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ কোনো মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমি বেসরকারি খাতে সরবরাহ সম্ভব নয়। সরকারি কারখানার মধ্যে অব্যবহৃত জমি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগে শিল্প মন্ত্রণালয়েরও সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

প্রাইভেটাইজেশন কমিশন থেকে ৩৯টি সরকারি কল-কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনে তৈরি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারের ছয়টি করপোরেশনের অধীনে ১১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩৯টি কারখানার সীমানার মধ্যে অব্যবহৃত এক হাজার ২৮৮ একর জমি খালি পড়ে রয়েছে, যা কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না। দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা এসব জমিতে এখনই শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা যাবে। এসব অব্যবহৃত জমিতে কারখানা নির্মাণ হলে নতুনভাবে অবকাঠামো নির্মাণ এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন হবে না। কারণ এখানে আগেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে শিল্প, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমির পরিমাণ চিহ্নিত করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে শিল্প খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়বে। অব্যবহৃত জমির কোথাও কোথাও বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চল, শিল্প পার্ক বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ সম্ভব। প্রতিটি শিল্প-প্রতিষ্ঠানের জন্য গড়ে পাঁচ একর করে জমি বরাদ্দ দিলে এ পরিমাণ জমিতে ২৫৭টি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হলে দুই বছরের মধ্যে এ পরিমাণ জমিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি এই ৩৯টি কল-কারখানায় বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৬৭ জনের কর্মসংস্থান রয়েছে।

এসব জমি প্রাইভেটাইজেশন কমিশন থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে ড. মসিউর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের কমিটি লিজের মেয়াদ বাড়িয়ে ৯৯ বছরের জন্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ৩৯টি কারখানার মধ্যে ২২টি কারখানা বন্ধ। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে সাভারের ঢাকা লেদার কম্পানির ৫ দশমিক ৪ একর, চট্টগ্রামের উসমানিয়া গ্লাস শিটের ২ দশমিক ৯৪ একর, খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের ২ দশমিক ৯৮ একর, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের ২৬ দশমিক ২৮ একর, কর্ণফুলী পেপার মিলের ৬০০ একর, কর্ণফুলী রেয়ন অ্যান্ড কেমিক্যালের ৬ দশমিক ৪৯ একর, চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের ২৭ দশমিক ৩৫ একর, ছাতক সিমেন্ট কারখানার ১২ দশমিক ৭৮ একর ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরির ৯ দশমিক ১১ একর, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪৫.৩৭ একর অব্যবহৃত জায়গা চিহ্নিত করা হয়।

পরবর্তীতে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের করা হিসাব নিয়ে ড. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি পর্যালোচনা করে বিসিআইসির ২৪৮.৪৫ একর এবং বিএসইসির ৪৫.৩৭ একর অব্যবহৃত জমি বেসরকারি বা সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে নতুন শিল্প-কারখানা নির্মাণে দিতে একমত পোষণ করে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চিহ্নিত অন্যান্য জায়গা নিয়ে মশিউর রহমানের নেতৃত্বের কমিটি এখনো মতামত জানায়নি।

বর্তমান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বিসিকের ৭৪টি শিল্প নগরীর প্লটগুলোর বিষয়ে খোঁজ জানতে চান। মন্ত্রীর কাছে দিতেই শিল্প নগরীর প্লটগুলো নিয়ে বিসিক থেকে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, যেসব শিল্প নগরী বেশি প্লট অব্যবহৃত রয়েছে তার মধ্যে কেরানীগঞ্জে ৯০টি, নেত্রকোনায় ৬৭টি, শরীয়তপুরে ৪৮টি, কিশোরগঞ্জ ও হোসিয়ারিতে ৩৮টি, লক্ষ্মীপুরে ৩৬টি, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে ২৫টি, রাঙামাটিতে ২৯টি, পটুয়াখালীতে ২৩টি। এসব প্লট পাঁচ থেকে সাত বছর বরাদ্দহীন রয়েছে। বিসিকের শিল্প নগরীগুলোতে মোট প্লটের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৩৮টি। এর মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট ৯৮৭৬টি। বরাদ্দকৃত প্লটে মোট শিল্প ইউনিট ৫৭৪৮টি। এর মধ্যে উৎপাদনে থাকা শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৪২৭৮টি, বাস্তবায়নাধীন শিল্প প্লট সংখ্যা ৫০৭টি, নির্মাণকাজ শুরু হয়নি ৬৪২টিতে, বন্ধ ইউনিট সংখ্যা ৩২১টি। এখনো পর্যন্ত একবারের জন্যও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি ৪৬২টি প্লট। আবার ৪১২৮টি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরও অব্যবহৃত ফেলে রাখা হয়েছে। এভাবে ৪৫৯০টি প্লট খালি পড়ে আছে। ৭৪টি শিল্প নগরীর প্রত্যেকটির গড় আয়তন ২৬ দশমিক ৬১ একর।

এ প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিল্পমন্ত্রী বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পাঁচ বছরের বেশি ফেলে রাখা প্লটের মালিকানা বাতিল করে নতুন মালিকানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এ পর্যন্ত ১০০টি প্লটও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, জায়গার সংকটে নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। সুবিধামতো জায়গা সরবরাহ সম্ভব হলে শিল্প খাতে ইতিবাচক বিপ্লব হবে। এ বিষয়ে সরকারের জোর উদ্যোগের দাবি জানান ব্যবসায়ী এ নেতা।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের উচিত নিয়ন্ত্রণে থাকা অব্যবহৃত জমি ফেলে না রেখে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া। এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করা মানে অর্থনীতিকে পিছিয়ে দেওয়া।

শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার বেসরকারি খাতে জায়গা সরবরাহে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আশা করি বিরাজমান সব সমস্যার সমাধান হবে।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *