Latest
Home / CPD in the Media / Professor Mustafizur Rahman on development, infrastructure and income

Professor Mustafizur Rahman on development, infrastructure and income

Published in Prothom Alo on Saturday, 11 July 2015.

বিশ্ব জিডিপির ২০% জোগান দিচ্ছে ১০০ শহর

আশরাফুল ইসলাম

বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়া মহাদেশের ৭৫টি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৫টি শহর এখন জোগান দেয় ২২ লাখ কোটি বা ২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১০০টি শহরকে যদি একটি দেশ বিবেচনা করা হয়, তাহলে এটিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ার প্রভাব যে দিন দিন বাড়ছে, তারই প্রমাণ এ হিসাব। বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়া মহাদেশের ৭৫টি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৫টি শহর এখন জোগান দেয় ২২ লাখ কোটি বা ২২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্থ বিশ্বের মোট সম্পদের ৫ ভাগের ১ ভাগ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক গবেষণায় এশিয়ার শহরগুলোর উঠে আসার এ চিত্র পাওয়া গেছে। যে ১০০ শহর ব্রুকিংসের তালিকায় উঠে এসেছে, এর মধ্যে চীনের শহরই আছে ৪৯টি। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের ২৬টি শহর আছে। বাকি ২৫টি শহরের ১৯টি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের, আর ছয়টি শহর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের।

গবেষণাটি করেছেন ব্রুকিংসের গবেষক জোসেফ পেরিলা ও জিসাস লিল। এর ফলাফল সম্পর্কে তাঁরা বলেন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের উন্নতির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী হচ্ছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় শহরগুলোই এ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলই যে ভবিষ্যৎ বিশ্বের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হবে, সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, এ উন্নয়ন যাতে শুধু নগরকেন্দ্রিক না হয়।

দুটি বিষয়ের প্রভাব মাথায় রেখে এ গবেষণা করা হয়েছে। একটি হলো, মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অন্যটি হলো নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শহরগুলোর ভূমিকা। দুটি বিষয়কে এক করে ১০০টি শহরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সূচকের একটি তালিকা করা হয়েছে। এতে শীর্ষ ১০টি শহরের আটটিই চীনের।

ব্রুকিংসের গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রাচ্যের দেশগুলো। ব্যাপক নগরায়ণ যেমন একদিকে এই উন্নতিতে অবদান রেখেছে, একই সঙ্গে বিশ্বায়ন এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিকে আরও বেগবান করেছে।

.মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বৈশ্বিক হিসাবে ২০১৪ সালে এই অঞ্চলের ১০০ শহরের অবদান ২০ শতাংশ। আর বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির ২৯ শতাংশই এসেছে এসব শহর থেকে।

মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের শহরগুলো এ সময়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে। এ সম্পর্কে গবেষণায় বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ ও উদারীকরণের যে নীতি চীন নিয়েছে, এর সুফল এখন পাচ্ছে তারা। চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোয় সেটিরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আবার এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

উন্নতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের শহরগুলোর যেখানে জয়জয়কার, সে তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলো। হিরোশিমা, ওসাকা, কোবে, নিগাতা, অ্যাডিলেড, মেলবোর্নের মতো শহরগুলোর প্রবৃদ্ধি হলেও তা ছিল অনেক কম। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে সবচেয়ে কম উন্নতি করা ২০ শহরের ১৩টিই জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার। ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ শহরগুলোর প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশামাফিক হয়নি। ২০১৪ সালটা সামগ্রিকভাবে জাপানের অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না।

বিশ্বের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে তাদের পণ্য উৎপাদনের জন্য এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। খরচ কমানোর জন্য অ্যাপল, ইন্টেলের মতো সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলো তাদের বেশির ভাগ কারখানা এই অঞ্চলে করছে। বিশ্বখ্যাত উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাস এখন ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন কারখানার পেছনে বিনিয়োগ করছে। চীনের ম্যাকাও, জিয়ামেন, ফুজু, কুনমিং, হ্যাংজুর মতো শহরগুলো এখন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, এই অঞ্চলের ৩০টি বড় শহরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা ওই সব দেশের জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়নকে ছাড়িয়ে গেছে। এ নগর এলাকাগুলোকে ‘পকেটস অব গ্রোথ’ বা উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুর প্রায় অর্ধেক এলাকা চীনে অবস্থিত। এশিয়ার বাইরে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, স্যান জোস, সিয়াটল, কানাডার ভ্যানকুভার শহরের প্রবৃদ্ধিও ওই দেশগুলোর জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে।

নগরকেন্দ্রিক উন্নয়নের সমস্যা তুলে ধরে সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নগরায়ণের সঙ্গে নগরে বস্তীকরণও বাড়ছে। এর ফলে শহরের ধনী বস্তিবাসীর মধ্যে আয় বৈষম্য যেমন বাড়ছে, তেমনি নগরের সঙ্গে গ্রামের আয়বৈষম্যও বাড়ছে। ন্যায় ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ন্যায় ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

Comments

Check Also

south-asia-ready-for-fdi-promotion

South Asia ready for FDI promotion

Author: Khondaker Golam Moazzem The article titled “South Asia ready for FDI promotion” was published …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *