Home / CPD in the Media / Professor Mustafizur Rahman on GSP

Professor Mustafizur Rahman on GSP

Published in Kaler Kantho on Tuesday, 11 August 2015.

জিএসপি না পাওয়ার মূলে তিক্ত সম্পর্ক

আবুল কাশেম

cpd-mustafizur-rahman-gsp-bangladesh-august-2015

যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো কোনো রাষ্ট্রে কমিউনিজম না থাকা। সেই শর্তেই বাদ পড়ার কথা ভেনিজুয়েলার। দেশ দুটির মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কও তিক্ত। গত ৯ মার্চ ভেনিজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু উল্লেখ করে দেশটির সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওই সিদ্ধান্তের পরপরই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া এক কর্মকর্তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ভেনিজুয়েলার এক নম্বর শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন। ওই সময় ওবামার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভেনিজুয়েলাকে সমর্থন দেয় ইকুয়েডর। যুগ যুগ ধরে সম্পর্কের এই তিক্ততার মধ্যেও লাতিন আমেরিকার এই দেশ দুটিকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাদের দেওয়া ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে যথেষ্ট অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থগিত জিএসপি সুবিধা যে পুনর্বহাল করবে ওয়াশিংটন, তারও কোনো ইঙ্গিত দেখছেন না ব্যবসায়ী ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৬ দফা শর্তের সবই বাস্তবায়িত হয়েছে। আড়াই শরও বেশি গার্মেন্ট কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন চালু হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অনেক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলেও মালিক-শ্রমিকপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ট্রেড ইউনিয়নের মতোই কাজ করছে। এমনকি দেশটির শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থক শ্রমিক নেত্রী ও এনজিওকর্মী কল্পনা আক্তার ও বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে, পুনর্নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে তাঁদের সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটিকে (বিসিডাব্লিউএস)। কিন্তু ১৬ দফা বাস্তবায়নে যতটা অগ্রগতি হয়েছে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা ততটা কাটেনি। মূলত সে কারণেই বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বহাল করছে না দেশটি। এ প্রসঙ্গ এলেই যুক্তরাষ্ট্রের তরফে প্রতিবার বলা হয়েছে, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক, তবে আরো অনেক অগ্রগতি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিরোধী দলে থাকাকালেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলনে তখন আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সরকার গঠনের পরই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব বাড়তে থাকে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ও পরে ড্যান ডাব্লিউ মজিনা নানা ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানোয় সোচ্চার হয়ে ওঠেন মজিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা। ওই সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা হিলারি ক্লিনটন টেলিফোনে ও বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউনূসের পক্ষ নিয়ে নানা অনুরোধ করেন। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচন ঘিরে অনেকটাই সক্রিয় হয়ে ওঠেন মজিনা। ঢাকায় প্রকাশ্যেই সরকারের বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়া, সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভারতকে রাজি করাতে নয়াদিল্লিতে গিয়ে তাঁর বৈঠক করার ঘটনাকে ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা। তবে ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন ওয়াশিংটনে গিয়ে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েন কাটার যে সম্ভাবনা জেগেছিল, নির্বাচনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ঘোষণা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে না আসায় তা হয়নি। ফলে মজিনাকে বিদায়ী সাক্ষাতের সময় দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও মজিনা তাঁর বিদায়বেলায় বারবার বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ।

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিএসপি পুনর্বহালের শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা দিয়ে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছিল। সরকার সেগুলো করেছেও। তবু দেশটি জিএসপি পুনর্বহাল করছে না। আমার মনে হয়, এর পেছনে বড় কারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলেই কেবল জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যাবে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’

কয়েক বছর ধরে চলা এমন ‘অস্বস্তিকর’ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণেই যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করছে না, তা সরকারের নীতিনির্ধারকরাও প্রকাশ্যে বলছেন। ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা যতই বাস্তবায়ন করা হোক না কেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি পুনর্বহাল করবে না বলে ধারণা তাঁদের। মন্ত্রিসভার বিভিন্ন বৈঠকে কোনো কোনো মন্ত্রী জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সুবিধা ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল না করার কারণ হিসেবে সরাসরি দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে গত বছরের এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নানা বিষয়ে মাথা গলায়; কিন্তু সুযোগ-সুবিধা মোটেও দেয় না। গত পাঁচ বছর ধরে আমি এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে বলে আসছি; কিন্তু তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তারা এ বিষয়ে কথা বলতে চায় না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনেক দেশের জন্যই খোলা।’

দুই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের পর তারা বাংলাদেশের নতুন সরকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আসলে জন্মের শুরু থেকেই তারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করে আসছে। জানি না, সে কারণেই তারা হয়তো আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি মেনে নিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে না, বরং ঠাণ্ডাই ছিল। আমরা এটাকে একটু উষ্ণ করার চেষ্টা করছি। পলিটিক্যালি আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কটা কমফোর্টেবল (স্বস্তিদায়ক) নয়। এর একটি ঐতিহাসিক পটভূমি আছে। আমাদের স্বাধীনতার সময় যুক্তরাষ্ট্র জঘন্যভাবে বিরোধিতা করেছিল। ওই রকম বিরোধিতা কোনো পরাশক্তি কোনো দিন করেনি।’

ড. ইউনূস প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানাতে গিয়ে মুহিত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হইচই করে। অথচ এ ব্যাংকে তারা কোনো দিনই বিশেষ কোনো টাকা-পয়সা দেয়নি।’

১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জনের পর গত বছরের প্রথম দিক থেকেই জিএসপি পুনর্বহালের জোর দাবি করে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রতিবারই তিনি বলেছেন, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিরিখে জিএসপি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিলে তা বাংলাদেশকে অবশ্যই দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে রাজনৈতিক বিষয়াদিকে গুরুত্ব দিলে জিএসপি না পাওয়ার আশঙ্কা থাকবেই।’

গত বছর ১৪ জুন বোস্টনের উপশহর ক্যামব্রিজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ‘দ্য সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট’ মিলনায়তনে ‘বিশ্বায়ন এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের টেকসই সক্ষমতা’ নিয়ে একটি সেমিনার হয়। এতে ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে জিএসপি পুনর্বহালের পক্ষে জোর দাবি তুলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি কঠিন শর্ত রাতারাতি শতভাগ পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে ইতিমধ্যেই ৯৮ শতাংশ পূরণ হয়েছে।’

তাঁর এ বক্তব্যের পর ওই সেমিনারে থাকা ড্যান ডাব্লিউ মজিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘৯৮ বা ৯৯ শতাংশ নয়, শতভাগ শর্ত পূরণ করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিপন্ন হবে। বাংলাদেশ বিশ্বে রপ্তানিকারক হিসেবে তাদের অবস্থান হারাবে। অর্থনীতি হুমকির সম্মুখীন হবে।’

ওই সেমিনারে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের জিএসপিবিষয়ক আন্তর্জাতিক ব্যুরোর দক্ষিণ এশীয় প্রধান মাইকেল ডোনাভান, যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ম্যানেজমেন্ট আরবিট্রেটর আরনল্ড জ্যাক ও প্রতিনিধি সেলেসটে ড্রেক, ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি স্কট নোভা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার বিপক্ষে ড্যান মজিনাকে সমর্থন করেন। তবে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের (ইউএসটিআর) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মারা বার বলেন, ‘কেবল এসব অভিযোগ নয়, আরো অনেক কিছু মিলিয়েই জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের সঙ্গে জিএসপিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না।’

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের দেওয়া ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনার সব কাজ করার পরও তারা জিএসপি পুনর্বহাল করছে না। এমনকি ভবিষ্যতে যে পুনর্বহাল করবে তার কোনো ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না। আর যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু আমাদের তৈরি পোশাক জিএসপি সুবিধা পায় না, তাই এ নিয়ে কান্নাকাটি করেও কোনো লাভ নেই। আসলে বাংলাদেশ যে সামনের দিকে এগোচ্ছে, এটা অনেকেরই সহ্য হচ্ছে না। অথচ উন্নয়নশীল দেশ ভিয়েতনামকে তৈরি পোশাকসহ সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি করে এ বছর থেকে বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো ধরনের আঘাত না এলেও সামনের দিনগুলোতে ভিয়েতনামের কাছে মার খাবে আমাদের তৈরি পোশাক। বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ সরকার খুবই উদ্বিগ্ন।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচ হাজার পণ্যে জিএসপি সুবিধা চালু করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্য বলতে প্লাস্টিক, সিরামিক, তামার তৈষজপত্র, গলফ খেলার উপকরণ রয়েছে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির পরিমাণ ৫৫০ কোটি ডলারের মতো। এর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই তৈরি পোশাক পণ্য, যা জিএসপি সুবিধার বাইরে। মোট রপ্তানি আয়ের ১ শতাংশেরও কম রপ্তানি হয় জিএসপি সুবিধার আওতায়। এ কারণে জিএসপি সুবিধা না থাকলেও দেশটিতে রপ্তানি তেমন কমেনি। তবে বাংলাদেশের প্রতিযোগী অন্য দেশের সমানহারে শুল্কারোপ করলে দেশটিতে আরো বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করছে। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে গড় শুল্কহার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ, চীনের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ০৮ ও তুরস্কের ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ সারা বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের পর চতুর্থ অবস্থানে। ২০১৪ সালে ভিয়েতনাম সেখানে ৯৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫২৮ কোটি ডলার। টিপিপি স্বাক্ষরের পর ভিয়েতনাম-অ্যামচেম প্রণীত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯৯০ কোটি ডলার, সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি হবে ৯১০ কোটি ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিএসপির আওতায় দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও এ সুবিধা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আমাদের সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব দেখা দেবে। এ ছাড়া ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির কারণে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বিনাশুল্কে সব পণ্য আমদানি করতে পারবে। ফলে তারা এখন ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে, যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি ডেকে আনবে। কিন্তু টিপিপির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

জিএসপি পুনর্বহালের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বড় বাধা কি না, এমন প্রশ্নে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পৃথিবীর ১২২টি দেশকে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। তবে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই যে দেশটির রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো নয়। রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলাকেও জিএসপি দেওয়া হয়েছে। তাহলে কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা তারা করবে, এমনটা মনে হয় না।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *