Latest
Home / CPD in the Media / Professor Mustafizur Rahman on finalising the public service act

Professor Mustafizur Rahman on finalising the public service act

বেতন-ভাতা বাড়ানো যৌক্তিক। পাশাপাশি সরকারের দুই বছর ধরে পড়ে থাকা পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্টের খসড়াটিও চূড়ান্ত করে কার্যকর করা উচিত ছিল।

Published in Samakal on Wednesday, 9 September 2015.

বাড়ূক সেবা কমুক দুর্নীতি

সমকাল প্রতিবেদক

‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হলো। তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে খুশির আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আমরাও খুশি। কিন্তু এই যে বেতন বৃদ্ধি তার সুফল কি সাধারণ মানুষ পাবেন? সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নূ্যনতম সেবা নিশ্চিত হবে তো? ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কমবে তো? সচিবালয়ে রাজনৈতিক নেতা, পাতিনেতা, কর্মীদের তদবিরবাজি কিছুটা বন্ধ হবে তো?’ সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। সাধারণ মানুষের এসব প্রশ্নের জবাব জানতে সমকাল দেশের বিশিষ্টজন_ একাধিক সাবেক ডাকসাইটে আমলা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, সমাজ বিশ্লেষক, ব্যবসায়ী নেতাসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অনেকেই মনে করেন, অবস্থার কিঞ্চিৎ হলেও পরিবর্তন হবে। কেউ কেউ বলেছেন, লাভ হবে না। একবার যারা দুর্নীতির পথে হেঁটেছেন, তারা অন্য পথ ধরতে পারবেন না। অনেকে বলেছেন, প্রশাসনের পুনর্গঠন ছাড়া সেবা বাড়বে না, ঘুষ-দুর্নীতি কমবে না।

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নতুন পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই শোনা যায়, সরকারি চাকুরেদের বেতন কম, তাই তারা ঘুষ-টুস খায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভালো বেতন না পাওয়ায় দুর্নীতি বেড়ে গিয়েছিল। নতুন পে-স্কেলে বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় এখন দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে। তবে যারা দুর্নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে তাদের কথা আলাদা। সেটা কোনোদিনই বন্ধ হবে না।’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষক সমাজ।

সরকারি অফিসে জনগণের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সমলোচনাও কম হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুনজর না হলে ‘লালফিতায় ফাইলবন্দি’ চলছে যুগ যুগ ধরে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানই একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসাধু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ‘বেতন কম সংসার চলে না’_ এমন কথা বলে এ সিন্ডিকেট সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ফায়দা লুটছে। বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সিন্ডিকেট যেন ভেঙে যায় এমন প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বেতন বাড়ার সঙ্গে সেবার মান বাড়বে_ এমনটা আশা করা যায়। কিন্তু বাস্তবে ফল শূন্য। অতীতেও কখনও পে স্কেল দেওয়ার পরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সেবা প্রদানের মনোভাবের কোনো পরিবর্তন আসেনি। এবারও আসবে না_ এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, নতুন পে স্কেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে। তবে আমরা যারা সরকারি সেবা প্রত্যাশী জনগণ. আমাদের অবস্থা আগের মতোই থাকবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ এখন যার বেতন বেড়ে গেছে তার জীবনযাত্রার ধরনও বদলাবে। ওই কর্মকর্তা আয়েশের সঙ্গে অফিসে আসবেন আর আয়েশের মধ্যে অফিস ত্যাগ করবেন। তাই সরকারের উচিত ছিল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা। প্রশাসন পুনর্গঠন না করে শুধু বেতন বৃদ্ধির মতো সহজ কাজটি সম্পন্ন করে কখনোই নাগরিকের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করা যাবে না।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে দুর্নীতি একেবারেই কমে যাবে বলে মনে হয় না। তবে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি কিছুটা কমবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, সরকারি অফিসে দুর্নীতি মোটা দাগে কমাতে হলে বেতন-ভাতা যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ করতে তবে। এ ছাড়া মেধাবী কর্মকর্তাদের দলীয় বিবেচনার ঊধর্ে্ব রেখে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, যারা সেবা দেবেন তারা সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মানসম্মত সেবা দিতে উৎসাহী হওয়ার কথা। সরকার যে হারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে তাতে পুরোপুরি না কমলেও একটি বিরাট অংশ দুর্নীতি থেকে সরে আসবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক নিম্ন বেতনের কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে টানাটানি করে সংসার চালাচ্ছেন। বাধ্য হয়েই তারা বাড়তি পয়সার দিকে তাকিয়ে থাকেন। এবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও জাতি-ধর্ম নির্বেশেষে সবার জন্য একটি উৎসব বোনাস ঘোষণার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছু অংশ এখন সৎভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করবেন। তবে এমন অনেক দুর্নীতিবাজ আমলা রয়েছেন, তাদের স্বভাব হাজার গুণ বেতন বাড়ালেও বদলাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বেতন কাঠামোর মধ্যে থেকে যদি চাকরিজীবীদের পরিবার স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে, তবে দুর্নীতি তো বটেই অনেক অনিয়মও হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক। কর্মপরিবেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বেতন-ভাতা বাড়ানো যৌক্তিক। পাশাপাশি সরকারের দুই বছর ধরে পড়ে থাকা পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্টের খসড়াটিও চূড়ান্ত করে কার্যকর করা উচিত ছিল। সময়মতো ও মানসম্মত সেবা জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সময়মতো প্রত্যাশিত সেবা পাবেন জনগণ_ এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। জনসেবা বাড়াতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়ানো, জবাবদিহি, দায়বদ্ধতা ও সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মত তার।

সাবেক তথ্য কমিশনার সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, শুধু বেতন-ভাতা বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে না। সরকারি কর্মকর্তারা চাইলেই দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হবে না। সরকারি অফিসে সেবা সঠিক ও সহজলভ্য করতে হলে জনপ্রতিনিধিদেরও মানসিকতার পরিবর্তন হতে হবে।

এফবিসিসিআইর প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেসরকারি খাতনির্ভর হলেও সরকারি খাত প্রণোদনা জুগিয়ে থাকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে। সেখানে কিছুটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভুলে গেলে চলবে না, জনগণের করের অর্থে তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। তাদের দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার মানসিকতাও পরিহার করতে হবে। অষ্টম পে কমিশন বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এতে দেশের অর্থনীতি-ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়তি গতি পাবে।

একাধিক সরকারি কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতিশীলতা আনতে অনুপ্রাণিত করবে। তাদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতাও কমবে। মেধাবী তরুণরা সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট হবে। সরকারি চাকরিতে মেধাবীরা না এলে প্রশাসনে দক্ষতা বাড়বে না।

সচিবালয়ে কর্মচারী সংগঠনের একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরোপুরি না হলেও নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে অনেকটাই সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশা করেন।

 

Published in Amader Shomoy

পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারকে কৌশলী হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
নতুন পে-স্কেল ঘোষণার ফলে দুর্নীতি কমবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার মতো অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরাও এ ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তাদের মতে, নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পেতে হলে কৌশলী হতে হবে সরকারকে। সরকারি যে কোনো সেক্টরে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দিতে হবে পদোন্নতি। তাহলেই দুর্নীতি কমে আসবে। একই সঙ্গে সরকারের কৌশলের ওপর নির্ভর করছে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআইআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর আমাদের সময়কে বলেন, ৬ বছর পর নতুন পে-স্কেল দেওয়া হয়েছে। এটি দরকার ছিল। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা দেখা উচিত ছিল। কিন্তু তা দেখা হয়নি। ফলে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো সরকার। আর দুর্নীতি বন্ধ হওয়া নির্ভর করছে সরকারের কার্যপ্রণালির ওপর। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। তাহলেই ভালো ছেলেমেয়ে আসবে। একই সঙ্গে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে কর্মদক্ষতা। তাহলে তারা অপরাধ করার সুযোগ পাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, নতুন পে-স্কেলের ফলে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তবে সরকার যদি করের টাকায় এ খাত থেকে ব্যয় করে তাহলে এর প্রভাব কিছুটা কম থাকবে। কিন্তু ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে এ ব্যয় মেটালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তিনি বলেন, পে-স্কেলের মাধ্যমে কোনোভাবেই ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। এটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কারণ এর আগেও পে-স্কেল ঘোষিত হয়েছে; কিন্তু দুর্নীতি-ঘুষ বন্ধ হয়নি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন রাশেদ আল মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর ফলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় ষুঘ-দুর্নীতি কমবে। কিন্তু এটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার। তাই অর্থ দিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এছাড়া আমাদের জোর-জবরদস্তি করে অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি রয়েছে। ফলে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও আইন দিয়েই এ সংস্কৃতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডির) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, নতুন পে-স্কেলে বেতন প্রায় দ্বিগুণ এবং বৈশাখী উৎসব বোনাসসহ বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাই আমি মনে করি, এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর অসৎ পথে যাওয়ার দরকার পড়বে না। তবে সরকারি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বাড়তে পারে। সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে। অন্যদিকে সাধারণত দেখা যায় সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করলেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগে ফায়দা নিতে চায়। পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে পণ্যের দাম বৃদ্ধিরও কোনো কারণ নেই। যদি বাড়ে তাহলে সেটা ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই বাড়বে। আর এ কারসাজি ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। এসব কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে তা ঠেকানোই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।
Comments

Check Also

SDG-16-in-the-Bangladesh-Context-04

Press reports: citizen dialogue on SDG 16 in the Bangladesh Context

A citizen dialogue titled SDG 16 in the Bangladesh Context: Peace and Security, Human Rights …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *