Home / CPD in the Media / Professor Mustafizur Rahman on Trans-Pacific Partnership (TPP)

Professor Mustafizur Rahman on Trans-Pacific Partnership (TPP)

Published in Daily Sun on Wednesday, 19 August 2015.

US-led TPP Scheme
Govt, garment exporters worried

Abul Kashem

Ominous signs are there for the country’s RMG export business as 12 countries led by the United States of America are going to launch a new duty-free marketing system under a deal namely Trans-Pacific Partnership (TPP) from this year, which is likely to affect seriously the readymade garments market of Bangladesh.

The government of Bangladesh, the FBCCI and the RMG exporters are seriously worried over the future of the garments export business due to the possibility of losing the US market.

The 12 countries which comprise the TPP are the USA, Canada, Australia, New Zealand, Japan, Brunei, Chilli, Malaysia, Mexico, Peru, Singapore and Vietnam. These 12 countries control 40 percent of the world economy.

According to sources in the commerce ministry, at present the average rate of duty on commodity exports from Vietnam to the USA is 8.34 percent. But after the execution of the TPP deal, this duty will cease to exist. On the other hand, presently, in the US market the average duty rate on Bangladeshi garments is 15.68 percent. As a result, Bangladesh will be unable to compete with Vietnam when the TPP will come into force.

BGMEA sources state that RMG exports to the USA from Bangladesh stood at $5 billion last year while it was $ 5.29 billion in 2013. In other words, Bangladesh RMG exports to the USA declined by 5.47 percent in a year. Similarly, the RMG exports to Canada were $1 billion in 2013, but fell by 7percent to $ 0.93 billion.

Former president of the BGMEA and president of Bangladesh exporters’ association Abdus Salam Murshedy said, “Vietnam already exports much more RMG to the US market than the exports from Bangladesh. After the implementation of the TPP, Vietnam will be entitled to export garments to the USA without any duty and as a result, the RMG exports there from this Asian country will increase considerably. On the other hand, Bangladesh will have to pay export duty at the present rate. Consequently, the prices of Bangladesh RMG will increase compared to Vietnam and Bangladesh will lose US customers.”

The influential daily Guardian of the United Kingdom (UK) in a report on May 12 said the US is combining countries adjacent to China in the TPP to reduce the influence of this communist state.  No other country is anywhere near China in exporting readymade garments and steel to the USA. Under the new deal, other countries will be able to export these items to the USA without any duty. And as a result, the exports from China to the USA will decline.

The USA and the 11 other countries are moving quite secretly towards the implementation of the TPP. The initiative to form the TPP was taken in 2009 and the representatives of the 12 countries in their first meeting in 2011 reached a consensus on the issue. But what is incorporated in the TPP and the conditions required to be fulfilled for becoming a member of it, have not been disclosed by the USA.  There is a debate over the TPP in the USA also. President Barack Obama is facing criticism at home for maintaining strict secrecy over the TPP. In his defence, he has said it is not true that the deal is being concluded secretly.

Executive director of CPD Dr Mustafizur Rahman said that due to the TPP the buyers of the USA will now be able to import various commodities including RMG from Vietnam without duty. So they are opting for Vietnam and this will cause long-term harm to Bangladesh.

Commerce minister Tofail Ahmed said, “Consequent upon the TPP deal, Vietnam will be entitled to export RMG to the USA without any duty. On the other hand, Bangladesh will have to export garments there on payment of 15 percent duty and tax. Hence, Bangladesh may lose the capacity to compete with Vietnam and we are worried over this.”


Published in Kaler Kantho

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন হুমকি টিপিপি

আবুল কাশেম

যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপিভুক্ত পণ্য তালিকায় তৈরি পোশাক না থাকায় এত দিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা বাংলাদেশ এখন নিজেদের সবচেয়ে বড় বাজার তছনছ হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে। বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজার নিয়েও একই দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের। কারণ ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তির আওতায় এসব দেশে অবাধে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক রপ্তানি করতে পারবে ভিয়েতনাম। টিপিপি চুক্তির মাধ্যমে ১২টি দেশ নিজেদের মধ্যে শুল্কমুক্ত বাজারব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে এ বছর থেকেই। এর মধ্যে বাংলাদেশ নেই। ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পোশাক রপ্তানিকারক ও এফবিসিসিআই।

টিপিপিভুক্ত ১২টি দেশ হলো-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, ব্রুনেই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এই ১২টি দেশ বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনামের পণ্য রপ্তানিতে গড় শুল্কহার ৮.৩৪ শতাংশ। এ চুক্তি কার্যকর হলে তা আর থাকবে না। আর দেশটির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর আরোপিত গড় শুল্কহার ১৫.৬৮ শতাংশ। ফলে টিপিপি কার্যকর হলে ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবে না বাংলাদেশ।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৫০০ কোটি ডলারের। ২০১৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫২৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫.৪৭ শতাংশ। একইভাবে কানাডায় ২০১৩ সালে রপ্তানি ছিল ১০০ কোটি ডলার। পরের বছর তা ৭ শতাংশ কমে নেমেছে ৯৩ কোটি ডলারে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এখনই ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি পোশাক রপ্তানি করছে। টিপিপির ফলে দেশটি বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করতে পারবে। তখন সেখানে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি অনেক বাড়বে। অন্যদিকে বাংলাদেশের এখনকার মতোই ১৫-১৬ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে। এতে ভিয়েতনামের

পোশাকের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের দাম বেড়ে যাবে। তখন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা হারাবে। এ পরিস্থিতি সামলাতে করণীয় নির্ধারণ করতেই এ বছর বিজিএমইএর কমিটি নির্বাচনের বদলে সমঝোতার ভিত্তিতে করা হচ্ছে, যাতে দরকষাকষিতে দক্ষ নেতৃত্ব পাওয়া যায়।

গত ১২ মে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীনের প্রভাব কমাতেই যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বাদ দিয়ে তার আশপাশের দেশগুলোকে টিপিপির অন্তর্ভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক এবং স্টিল ও ইস্পাত রপ্তানিতে চীনের ধারেকাছে কেউ নেই। নতুন এই চুক্তির ফলে অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্কে এসব পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ও ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এ বছরই চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর কার্যকর করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ১১টি দেশ অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে এ চুক্তির পথে এগোচ্ছে। ২০০৯ সালে টিপিপি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার পর ২০১১ সালে প্রথম ১২ দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করে এ বিষয়ে একমত হন। তবে টিপিপিতে কী আছে, কোন কোন শর্ত পূরণ করলে এ চুক্তিতে থাকা যায়, তার কোনো কিছুই এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির ভেতরেও এ চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক রয়েছে। টিপিপি চুক্তির বিষয়ে প্রথম তথ্য ফাঁস করেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদি তুমি পড়ো, লেখো, প্রকাশ করো, চিন্তা করো, শোনো, নাচো, গাও অথবা আবিষ্কার করো; যদি তুমি খামার করো অথবা খাবার কেনো; যদি তুমি অসুস্থ হও অথবা একদিন অসুস্থ হবে বলে ভাবো-তাহলে তোমার স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু হবে টিপিপি।’

কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করায় এ চুক্তি নিয়ে নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কেন গোপনীয়ভাবে টিপিপি করা হচ্ছে, শ্রমিক সংগঠনগুলোর এমন প্রশ্নে গত ৮ মে ওবামা বলেছেন, ‘গোপনে চুক্তিটি করা হচ্ছে-এটা সত্য নয়। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ৬০ দিন আগে অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব। তারপর এটি কংগ্রেসে যাবে। তখন সবাই জানতে পারবে এ চুক্তির কোথায় কী আছে।’ প্রায় দুই দশক আগে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে করা এক চুক্তি আগেই প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মনোজ কুমার রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, টিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে যেসব শর্ত রয়েছে, চেষ্টা করেও সেগুলো জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে দেশগুলো এ চুক্তি করছে। ফলে বাংলাদেশ আগ্রহী হলেও এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে টিপিপি কার্যকর হলে তা বাংলাদেশের রপ্তানিতে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন গবেষণা করছে। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে ভিয়েতনাম। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম), ভিয়েতনামের এক প্রতিবেদনে আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাতে হের্মান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চালকের আসনে ছিল চীন ও বাংলাদেশ। তবে এখন ওই স্টিয়ারিং ভিয়েতনামের হাতে। ইউএস কমার্স ডিপার্টমেন্টের তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা এখন পড়তির দিকে।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজার ও তাতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অংশীদারি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছে অ্যামচেম ভিয়েনতাম। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১০৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক কিনবে। এর মধ্যে চীন রপ্তানি করবে ৪০ বিলিয়ন, ভিয়েতনাম ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ও বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র কিনবে ১০৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, যার মধ্যে চীন ৩৯ দশমিক ২ বিলিয়ন, ভিয়েতনাম ১২ দশমিক ৫ ও বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১০৭ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকের বাজারে চীনের ৩৮ দশমিক ৭, ভিয়েতনামের ১৪ দশমিক ৩ ও বাংলাদেশের অংশ হবে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজার হবে ১১১ বিলিয়ন ডলারের; যেখানে চীন ৩৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, ভিয়েতনাম ১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশ ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করবে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি কমবে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হবে আর ভিয়েতনামের রপ্তানি বাড়বে।

টিপিপির কারণে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ভিয়েতনামে ভিড় করছেন। আগে বাংলাদেশ থেকে পোশাক নিতেন, এমন অনেক ক্রেতাও এখন যাচ্ছেন ভিয়েতনামে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছর থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি যেখানে পড়তির দিকে, সেখানে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির হার ১২ শতাংশেরও বেশি। গত বছর জাপানের আমদানি বাণিজ্য আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ কমেছে, অথচ সেখানেও ভিয়েতনামের গার্মেন্ট রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ। আর ২০১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি বেড়েছে ৯ শতাংশ, সেখানে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে ১২.২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে রপ্তানির পরিমাণ এক হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছে ভিয়েতনাম। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৮০ কোটি ডলার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, টিপিপি চুক্তির কারণে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা বিনা শুল্কে তৈরি পোশাকসহ সব পণ্য আমদানি করতে পারবেন। ফলে তাঁরা এখন ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি ডেকে আনবে। এ কারণে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও ভিয়েতনামে তৈরি পোশাক খাতে বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তাতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।

বাংলাদেশে নতুন অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘টিপিপি চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে বিনা শুল্কে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে পারবে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক-কর দিয়ে পোশাক রপ্তানি করতে হবে। এতে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত।’

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি নিয়ে কান্নাকাটি করে কোনো লাভ নেই। বরং আমাদের সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, ভিয়েতনামকে তৈরি পোশাকসহ সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে টিপিপি চুক্তি করে এ বছর থেকে বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জিএসপি সুবিধা স্থগিতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো ধরনের আঘাত না এলেও সামনের দিনগুলোতে ভিয়েতনামের কাছে মার খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও বাংলাদেশ সরকার খুবই উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে কাজ করছি আমরা।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, টিপিপির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা দূর হতে পারে কেবল একটি উপায়ে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) ২০০১ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে টিপিপি সত্ত্বেও ভিয়েতনাম বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ তখন ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার শূন্য হলেও বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কহার এখনকার ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে নামবে। ভিয়েতনামে যেহেতু শ্রমের মজুরি বেশি, তাই ৫ শতাংশ শুল্ক দিয়েও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তবে দোহা সম্মেলনে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো কবে নিষ্পত্তি হবে, তা জানা নেই ডাব্লিউটিওর শীর্ষ কর্তাদেরও।


Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *