Home / CPD in the Media / Dr Debapriya Bhattacharya on Swiss Bank transactions

Dr Debapriya Bhattacharya on Swiss Bank transactions

Published in দৈনিক জনকণ্ঠ  on Friday, 12 February 2016

অর্থপাচারের তথ্য জানতে চার দফা চিঠি ॥ অবশেষে মিলল সুইস ব্যাংকের জবাব

  • অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  • নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে

রহিম শেখ ॥

চার দফা চিঠি দেয়ার পর অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির জবাব দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রায় দেড় বছর পর দেয়া চিঠির জবাবে  জানিয়েছে, কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং বা আয়কর ফাঁকির বিষয়ে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলেই ওই নাগরিকের জমা টাকার ব্যাপারে সুইস ব্যাংক তথ্য দেবে। এজন্য সন্ত্রাস ও জঙ্গী কর্মকা-ে অর্থায়ন এবং বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোরভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া টাকা সম্পর্কে তথ্য জানতে অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তালিকা প্রস্তুত হলেই সুইস ব্যাংকে পাঠানো হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের নামে টাকা জমার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের জমা টাকার পরিমাণ ৪ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এটি আগের বছরের চেয়ে ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা বেশি। এক বছরে জমার পরিমাণ ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালের সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশীদের নামে জমা টাকার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১১৩ কোটি টাকা, যা ২০১২ সালের তুলনায় বেশি। এসব তথ্যে দেখা যায়, প্রতি বছরই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা টাকার পরিমাণ বাড়ছে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এটি সারাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশীদের টাকা উদ্ধারের বিষয়ে বক্তব্য দেন। এর তিন দিন পর অর্থাৎ ১ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুইজারল্যান্ডের এফআইইউর কাছে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশীদের অর্থের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে প্রথমবারের মতো চিঠি পাঠায়। এর কিছুদিন পরই তারা আরও একটি চিঠি দিয়ে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক করতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

এরপর ২০১৫ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নিজ-নিজ দেশ থেকে টাকা পাচার করে এইচএসবিসি ব্যাংকের সুইজারল্যান্ড শাখায় জমা রেখেছেন। এ খবরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হয়। এতে বাংলাদেশীও রয়েছেন। এরপরই বাংলাদেশ ব্যাংকও সব বাংলাদেশীর তালিকা চেয়ে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়। গত বছরের জুনে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে উঠে আসে সে দেশের ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের জমা টাকার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এতে আবার সারাদেশে আলোচনার ঝড় উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়। এসব চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন জবাব দেয়নি।

অবশ্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো একটি চিঠিতে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাচার করা টাকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেই ব্যাখ্যা অনুয়ায়ীও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন তালিকা পাঠাতে পারেনি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি সুইস ব্যাংক থেকে একটি জবাব পাওয়া গেছে। তারা সেখানে আইনী বিষয় তুলে ধরেছে। এখন এর আলোকে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তথ্য অনুসন্ধান করছি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গী কর্মকা-ে অর্থব্যয় এবং বিদেশে পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্যও সংগ্রহ করছে। এর আলোকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

চিঠিতে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশীদের টাকা জমা রাখার বিষয়ে তথ্য পেতে হলে সুনির্দিষ্টভাবে চাইতে হবে। তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে যে কোন দেশের আমানতকারী টাকা জমা রাখতে পারে। বিভিন্ন দেশে তাদের বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এছাড়া আছে বিভিন্ন বন্ড ও বিল। এগুলোয়ও যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে। এখন যে কোন দেশ থেকে কোন বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী নাগরিক যদি সুইজারল্যান্ডের কোন ব্যাংকে টাকা জমা রাখে তবে ওই টাকা বাংলাদেশের হিসাবে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়। এখন সেটি বাংলাদেশ থেকে রাখতে পারে বা অন্য যে কোন দেশ থেকেও রাখতে পারে। সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাগরিকদের নামে যে টাকা জমার তথ্য প্রকাশ করা হয়, তা যে শুধু বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে এমনটি নয়, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যেসব নাগরিক রয়েছেন তারাও ব্যাংকগুলোয় টাকা জমা রাখলে সেগুলোও বাংলাদেশী নাগরিকদের টাকা হিসেবে জমা হবে। এটাই তাদের নিয়ম। সুইস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কোন দেশের নাগরিকের টাকা যদি তাদের ব্যাংকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জমা থাকে এবং ওই নাগরিকের বিরুদ্ধে যদি সংশ্লিষ্ট দেশে মানি লন্ডারিং বা আয়কর ফাঁকির বিষয়ে মামলা থাকে এবং আদালতে সেগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলেই কেবল তারা ওই নাগরিকের জমা টাকার বিষয়ে তথ্য দিতে পারেÑ এর আগে নয়। এ প্রসঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বলেন, প্রাইভেসি আইনের আওতায় সুইস ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের তথ্য গোপন রাখত। সম্প্রতি ইউএসএর কাছে কিছু তথ্য দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ অনুন্নত রাষ্ট্র, তাই তারা আমাদের পাত্তা দেয় না। অবশ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাইতে হবে। তবে পাচার হওয়া টাকা সম্পর্কে তথ্য জানতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকা ফেরত আনার জন্য আদালতে মামলা করতে হয়। অন্য কোন দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হলে ‘লিগ্যাল এ্যাসিস্ট’ পারস্পরিক আইন সহায়তার চুক্তি থাকতে হবে। টাকা ফেরত আনার জন্য এ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে আবেদন পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুইস ব্যাংক যে আইনী যুক্তি দেখিয়েছে সেই পথে বাংলাদেশ ব্যাংককে হাঁটতে হবে। লিগ্যাল এ্যাডভাইজার রয়েছে, এ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছে তাদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনী ভিত্তি না থাকলে সুইস ব্যাংক কেন, কোন দেশই কোন ধরনের সহায়তা করবে না।

বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সুইস ব্যাংক থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া সহজ নয়। সেখান থেকে তথ্য উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংককে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে দেশটিতে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে হবে। রাজনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উপস্থাপন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Comments

Check Also

Dr Debapriya Bhattacharya, Chair of Southern Voice and Distinguished Fellow, CPD speaking at the session titled “Leveraging Interlinkages for Effective Delivery of SDGs,” at the UN High-Level Political Forum (HLPF), New York, on 14 July 2017

Global partnership must leverage national SDG delivery: Debapriya at UN

  The global 2030 Agenda is based on integrated and indivisible Sustainable Development Goals (SDGs). …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *