Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on Special Economic Zone

Dr Khondaker Golam Moazzem on Special Economic Zone

Published in সমকাল  Monday, 30 November 2015

 

দু’বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে পোশাকের এসইজেড

 নাজমুল শুভ, চট্টগ্রাম থেকে
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তৈরি পোশাক খাতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষায়িত পোশাকপল্লী নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন উদ্যোক্তারা। বর্তমানে নগরী ও আশপাশের এলাকায় ভূমি সংকটে নতুন কারখানা স্থাপনের সুযোগ না থাকায় তাদের দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারও বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) একটি বিশেষায়িত পোশাকপল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৫০০ একর এলাকাজুড়ে তৈরি পোশাকের জন্য এ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড) স্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। গতকাল রোববার চট্টগ্রামে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন’ রোডশোতে এ ঘোষণা দেন বেজা চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ডেভেলপার ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে এ রোড শোর আয়োজন করা হয়। হোটেল র‌্যাডিসনে আয়োজিত এ রোড শোতে ‘বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারও অনুষ্ঠিত হয়।
পবন চৌধুরী বলেন, মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ডেভেলপার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর পাশে ৫০০ একর এলাকাজুড়ে পোশাক খাতের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এখানে আরও ২০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বেজা চেয়ারম্যান বলেন, আইন সংশোধনের ফলে অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে পারবে। এখন বেজা ছয় ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে পারবে। এসব অঞ্চল গড়ে তুলতে গত এক বছরে ৭৫ হাজার একর জমি নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার একর জমি চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এ অঞ্চলকে একটি বৃহৎ শিল্প করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পবন চৌধুরী জানান, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে সহজে পণ্য পরিবহনে সরকারি ও পিপিপির ভিত্তিতে মোট ১০ লেন মহাসড়ক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের সব এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকার অর্থনীতিতে গতি আনতে কাজ করছে। দ্রুত শিল্পায়নে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, বেজার নির্বাচিত অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা যাতে আইনি বাধার সম্মুখীন না হয়, সেজন্য আইন মন্ত্রণালয় সবসময় সেবা দিতে প্রস্তুত।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারকে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন নিয়ে অনেক কথা হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি নেই। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের খুব দ্রুত আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনের পর ‘বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমিকা’ ও ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ’ শীর্ষক দুটি পৃথক বাণিজ্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে বিনিয়োগ ও জিডিপির অনুপাত এখনও খুব নাজুক। এ অবস্থার পরিবর্তনে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের ধারণা (ইপিজেড) থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ সাহসী ও সময়োপযোগী। এশিয়ার উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর বেশিরভাগই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সফলতা পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ গবেষক বলেন, শিল্পভিত্তিক উৎপাদনের পাশাপাশি হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জায়গা নির্বাচনের ব্যাপারে সাবধান হওয়ার পাশাপাশি খুব দ্রুত অবকাঠামো, বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, বেসরকাির অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বেশি উৎসাহিত করতে হবে।
এতে দেশে বড় বিনিয়োগকারী তৈরি হবে। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সংযুক্তি থাকতে হবে।
প্রাইস ওয়াটার্স কুপার্সের পরিচালক বিকাশ সারদা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সঙ্গে তাল মিলাতে ইপিজেডের ধারণা থেকে ইজেডের ধারণায় যাওয়াটা খুবই সময়োপযোগী। অনুষ্ঠানে এ প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মানিশ শর্মা ও মাহিন্দ্রা কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার সিএস নারায়ণ ব্যবসায়ীদের সামনে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।
Comments

Check Also

Khondaker-Golam-Moazzem

ভ্যাট আইন চালু হলে আয়কর আদায়ও বাড়ত – খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

গতকাল ১ জুলাই থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শুরু হয়েছে। এ বছরের বাজেট সংসদে পাস হয়েছে ২৯ জুন, যা পেশ করা হয় ১ জুন। আগের বছরে দেশে অর্থনীতির সূচকগুলো মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ছিল ওঠানামা। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতির মন্দাভাবের কারণে রফতানি বাজারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *