Latest
Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on trade facilitation

Dr Khondaker Golam Moazzem on trade facilitation

Published in প্রথম আলো on Wednesday, 2 December 2015.

 

ডিসিসিআইয়ের সেমিনার

ব্যবসায়িক সুবিধা যেন রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার না হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক |

এদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগকে রাজস্ব আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে চিন্তা করা হয়। এই মানসিকতা থেকে বেরোতে না পারলে দেশে কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ বাড়বে না। সে জন্য ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা (ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন) শুধু রাজস্বমুখী না করে শিল্প ও বিনিয়োগমুখী করতে হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা: টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এমন মতামতই উঠে এসেছে।

রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের সম্মেলনকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএসএআইডির উপপ্রধান খায়রুজ্জামান মজুমদার।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো ধীরগতির শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আমদানি-রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র পেতে দীর্ঘসূত্রতা। এতে জানানো হয়, বাণিজ্য উদারীকরণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নির্ধারিত ৩৮টি মানদণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে তিনটি অর্জন করতে পেরেছে। ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর নবম সম্মেলনে এসব মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে আধুনিক করা হলেও তা এখনো অনেক সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে করপোরেট করহার সবচেয়ে বেশি, তার একটি হলো বাংলাদেশ।

মসিউর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেট (করের হার) বেশি, এটি কমিয়ে আনতে হবে। এটা না করতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে চলে যাবেন। সরকারের আইনে আছে—যদি কেউ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অপরাধ করে, তার ভারী শাস্তি দেওয়া যাবে না। ভোগ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বসতে পারে, কিন্তু বিনিয়োগের ওপর ভ্যাট বসানো যাবে না।

পণ্য খালাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যে জটিলতা রয়েছে, তা শুধু কর্মকর্তাদের জন্য হচ্ছে এটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরও স্বচ্ছতার অভাব আছে।

এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বা ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ডব্লিউটিওতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। তবে এটা সত্য যে এনবিআরের একার পক্ষে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগও জড়িত আছে।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য এ দেশে চার ধরনের সমস্যা রয়েছে। এগুলো হলো: নীতিগত সমস্যা, নীতি বাস্তবায়নের সমস্যা, সমন্বয়ের সমস্যা ও জ্ঞানের অভাব। তিনি আরও বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে, নতুবা এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আসলাম সানি ও সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

  


 

Published in আলোকিত বাংলাদেশ  Wednesday, 02 December 2015

 

ডিসিসিআই সেমিনারে ড. মশিউর রহমান

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে বাণিজ্যমুখী করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে (ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা) শুধু রাজস্বমুখী না করে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বিনিয়োগমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাঙ্ রেট (কর হার) বেশি, এটি কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপরসুনিটিস ফর সাসটেনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মশিউর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্য রয়েছে, এ লক্ষ্যে পেঁৗছতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুসম্পর্কের মাধ্যমে। এছাড়া পণ্য খালাসের বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা শুধু কর্মকর্তার জন্য হচ্ছে এটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, যেসব কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের শায়েস্তা করতে চান, তাদের সরকারি কাজ করার অধিকার নেই। পাবলিক সার্ভিস বা সার্ভেন্ট প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের জন্য যে ইনপুট দেয়ার কথা, তাও তারা দিতে পারছে না। সরকারের আইনে আছে- যদি কেউ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অপরাধ করে, তাদের ভারি শাস্তি দেয়া যাবে না। আপনারা ভোগ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন, কিন্তু বিনিয়োগের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন না। এতে করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এছাড়া এ সংক্রান্ত ডবিস্নউটিএতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি। তিনি বলেন, এনবিআরের একার ক্ষেত্রে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্পর্কযুক্ত সব বিভাগের সঙ্গে এনবিআরের সুসম্পর্ক আছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে। নতুবা এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলেটেশন বাস্তবায়নে আমাদের দেশে চার ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেগুলো হলো নীতিগত সমস্যা, অপারেশনাল সমস্যা, কোঅর্ডিনেশনে ঘাটতি এবং ট্রেড ফ্যাসিলেটেশন সম্পর্কে স্টেকহোল্ডার ও বেসরকারি খাতের অজ্ঞতা।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভা চক্রবর্তী বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন খুব জটিল বিষয় নয়। আলোচনার মাধ্যমে এটা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য এর এ, বি, সি ক্যাটাগরি চিহ্নিত করতে হবে। এখন আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি- তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ডবিস্নউটিএর এগ্রিমেন্টগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থবিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থল বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 


 

Published in The Daily Star on Wednesday, 2 December 2015.

 

Reforms needed to fast track trade facilitation: analysts

Star Business Report

Analysts attend a discussion on trade facilitation at the office of Dhaka Chamber of Commerce and Industry in the capital yesterday. Photo: DCCI

Reforms are needed to fast track the introduction of trade facilitation measures, as Bangladesh lags behind others in implementing global rules, Mashiur Rahman, economic affairs adviser to the prime minister, said yesterday.

“The trade facilitation committee should also be trade friendly, instead of focusing on revenue,” he said.

He spoke at a seminar on “trade facilitation: challenges and opportunities for sustainable growth” at the office of Dhaka Chamber of Commerce and Industry.

Trade facilitation has to be done through an effective economic analysis so that it removes distortions, Rahman said.

“It will ultimately help entrepreneurs. Once their business starts operating smoothly, their costs will go down and they will be able to explore untapped markets.”

The government will have to remove the obstacles that stand in the way of trade, he said, adding that harmonisation of duties and taxes and simplification of procedures are also crucial to attracting foreign investors.

“If they have to pay taxes in their home countries as well as in Bangladesh, their aggregate tax will be higher. As a result, they will not come here, and go to other countries instead, where corporate taxes are low.”

Rahman also agreed with suggestions made by a number of speakers at the seminar that the trade facilitation committee should be enlarged, taking think-tanks and chambers in board.

Khairuzzaman Mozumder, deputy chief of USAID, said trade facilitation is viewed as the most effective means of overcoming slow and archaic customs clearance systems, cumbersome documentation requirements and inadequate transport infrastructure.

There are 38 trade facilitation measures as per the World Trade Organisation’s ninth ministerial meeting in Indonesia in 2013.

Some 52 countries, including a number of least developed countries, have already ratified the WTO agreement on trade facilitation. The agreement will come into effect, if 108 countries ratify it.

In a presentation, Mozumder said Bangladesh has fully complied with three measures — pre-shipment inspection; separation of release from final determination of duties/taxes/fees; and national committee on trade facilitation.   “In many measures, only legislative changes will lead to full compliance,” he said, adding that if parliament ratifies the Customs Act, five to six measures will be complied with.

Despite modernisation and automation, the time taken for customs clearance is still beyond acceptable limits for businesses, said Mozumder.

At Chittagong Port, the average time from arrival of vessels to release of imported goods is 11 days 9 hours and 45 minutes, while for exported goods, it takes four days 22 hours 38 minutes, he said, quoting a study.

In absence of an elaborate policy, a detailed procedural guideline and a strategic management plan on risk management, the customs department tends to examine a large number of consignments, he said. The problem is more acute in land ports, where 100 percent consignments are subject to some form of physical inspection, he added.

Trade processes are cumbersome and time-consuming, adding costs to traders.

The trade cost per container for import is $1,515 and for export is $1,281, according to the World Bank’s Doing Business Report of 2015.

Md Nojibur Rahman, chairman of the National Board of Revenue, said trade facilitation is a priority for them. “We will provide all kinds of cooperation to businesses.”

Import clearance time at Chittagong Port has come down to 8.5 hours from 11 hours; there have been improvements in other areas as well, he said.

DCCI President Hossain Khaled said implementation of the trade facilitation agreement is expected to benefit Bangladesh by lowering the cost of doing business by 16.5 percent and lead time by 10 percent.

It is also expected to increase cross border trade by 15 percent and earn an additional $4 billion in annual export earnings, raise employment by 5 percent and accelerate GDP growth to 8 percent by 2021, he added.

Amitava Chakraborty, director general of the WTO cell at the commerce ministry, said the government will have to notify the WTO about the measures it will undertake within one year of the agreement, the measures it will implement on its own and the ones it will not be able to put into action on its own.

 

The World Bank, Asian Development Bank and International Finance Corporation are ready to provide assistance to implement trade facilitation measures, said Khondaker Golam Moazzem, additional research director of the Centre for Policy Dialogue. An action plan has to be formulated to this effect, he added.

“The benefits of trade facilitation measures far outpace the demerits.”

A high-level committee should be formed to oversee the implementation of the trade facilitation measures, he added.

 

Mohammad Hatem, former first vice president of Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association, requested the government to empower the customs department, so it can conduct pre-shipment inspection if any trader makes a mistake in the procedure.

DCCI Senior Vice President Humayun Rashid also spoke.

 

 


 

 Published in বণিক বার্তা  on Wednesday, 2 December 2015.

 

ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে বক্তারা

বাণিজ্য সহজীকরণে শিল্পায়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার প্রয়োজন

বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোয় অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহজীকরণ: টেকসই উন্নয়নের জন্য সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল এ কথা বলেন তিনি। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ব্যবসা পরিচালনায় স্তর কমানো, মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি প্রভৃতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমবে। এছাড়া বার্ষিক রফতানি আয় বাড়বে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জিডিপিতে এফডিআইয়ের অবদান আরো ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ।

ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। সরকারের নির্ধারিত রপকল্পের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের আরো সম্যক ধারণা লাভ করা প্রয়োজন।’ বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর জন্য রফতানি বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটিকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে এখন সময় লাগছে গড়ে ৮ ঘণ্টা। এমডিজিতে উল্লিখিত শর্তগুলো বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে। এসডিজিতে উল্লিখিত শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরো বাড়ানো আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত ২০২১ ও ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের বদ্ধপরিকর। তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং বিকেএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।

 

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের স্থলবন্দরগুলোর সেবার মান আরো বৃদ্ধির জন্য কার্যকর  ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানা

 

 


 

Published in Dhaka Tribune on Wednesday, 2 December 2015.

 

DCCI: Cost of doing business to fall 16.5% if trade facilitation ensured 

Tribune Report

Trade facilitation implementation is expected to lowering cost of doing business by 16.5%,  said Dhaka Chamber of Commerce and Industries President Hossain Khaled at a seminar yesterday.

He said it would also help achieve $4bn additional annual export earnings, see foreign direct investment at 3% of GDP and above all 8% growth by the year 2021.

He came up with this statistics at a seminar on “Trade Facilitation Challenges and Issues for Sustainable Growth” organised by the DCCI at its auditorium yesterday.

Khaled said Bangladesh is yet to make any significant achievement as only three out of 38 criteria in trade facilitation have been fulfilled.

Trade plays the fundamental role in industrialisation, product diversification, building productive capacity and inclusive development in Bangladesh, he said.

Khaled said trade volume of Bangladesh stood at $70bn in 2015 with an annual growth 3.8% on average since 2000.

 

Presenting the keynote paper at the event, Central for Policy Dialogue’s additional research director Khondaker Golam Moazzem identified some barriers to implementing trade facilitation. These include lack of policy or regulatory framework, operational bottlenecks, lack of coordination among the state-run departments and ignorance of stakeholders.

For trade facilitation, he suggested government formulating an action plan. “Bangladesh is going to be linked with the region through BBIN, BCIM, Asian Silk Road etc. We have to be prepared for that.”

 

Speaking as the chief guest, Adviser to Prime Minister on Economic Affairs Mashiur Rahman said trade facilitation measures should be pro-industry and pro-investment instead of revenue-oriented.

He urged the government bureaucrats to be more efficient and technically sound to keep pace with the development goals of the government.

NBR Chairman Md Nojibur Rahman said NBR was working hard to facilitate trade in the country after WTO negotiation in Bali back in 2013. “Now Chittagong port takes only 8 hours to release imported goods,” he said.

Director General (Additional Secretary), WTO Cell, Amitav Chakrabarty Amitav Chakrabarty said the main challenge of trade facilitation was the proper coordination among the government agencies. He again called for forming a high-level Trade Facilitation Committee to properly monitor development activities.

 

 


 

Published in দৈনিক ইনকিলাব on Wednesday, 2 December 2015.

 

টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশি বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার :

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে বা বাণিজ্য সহজিকরণকে শুধু রাজস্বমুখী না করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বিনিয়োগমুখী করার আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নে যে লক্ষ্য রয়েছে সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সু-সম্পর্কের মাধ্যমে।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপুরচ্যুনিটিস ফর সাস্টেনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেট (কর হার) বেশি, এটি কমিয়ে আনার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের শায়েস্তা করতে চান তাদের সরকারি কাজ করার অধিকার নেই। পাবলিক সার্ভিস বা সার্ভেন্ট প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের জন্য যে ইনপুট দেয়ার কথা তাও তারা দিতে পারছেন না। সরকারের আইনে আছে, যদি কেউ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কোনো অপরাধ করে তাদের ভারী শাস্তি দেয়া যাবে না। আপনারা ভোগ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন, কিন্তু বিনিয়োগের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন না। এতে করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাজার উন্নয়নে তেমন কিছু করতে পারিনি, কিন্তু আমাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। বাজার উন্নয়নে পণ্যের উন্নয়ন করতে হবে। আমরা পরীক্ষা করে দেখিনি কোন বাজারের উৎপাদন ব্যয় কেমন। এটা করতে পারলে আমাদের উৎপাদন ব্যয় কমানো যেত।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়্যারম্যান মো. নজিবুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ।

এছাড়া বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি এএইচ আসলাম সানি, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 


 

Published in দৈনিক ইত্তেফাক on Wednesday, 2 December 2015.

 

কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন

বাণিজ্য সহজীকরণ শীর্ষক সেমিনারে ড. মসিউর রহমান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের ধারণা আরো বাড়াতে হবে। বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে রপ্তানি বাড়ানোর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি আয় বাড়াতে হলে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহজীকরণঃ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এছাড়া বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে ডব্লিউটিএতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে- তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি। তিনি বলেন, এনবিআরের একার ক্ষেত্রে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব না। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত। তবে সবার সঙ্গে এনবিআরের সুসম্পর্ক আছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল-এর মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশ আসে মাত্র ৬টি পণ্য থেকে। এজন্য পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ করা খুব জরুরি। তিনি জানান, কাস্টমস আইন বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিবন্ধকতা আরো কমে আসবে।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ট্রেড ফেসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, ব্যবসা পরিচালনায় স্তর কমানো, মানব সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় সাড়ে ১৬ শতাংশ কমবে। বার্ষিক রপ্তানি আয় ৪ বিলিয়ন ডলার বাড়বে। জিডিপিতে  বৈদেশিক বিনিয়োগের অবদান আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

সেমিনারে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশের স্থলবন্দরগুলোর সেবার মান আরও বৃদ্ধি করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

বিকেএমই’র প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য টেকসই উন্নয়ন দরকার। আর টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুত্ পাচ্ছি না। বিষয়টি সরকারের ভাবা উচিত। তাছাড়া সমুদ্র ও স্থলবন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

ইউএসএআইডি-এর ডেপুটি চিফ অফ পার্টি ড. খাইয়রুজ্জামান মজুমদার সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণের জন্য পণ্য সরবরাহে সাপ্লাই চেইনের মধ্যে সমন্বয় সাধন, ট্যারিফ কাঠামো সহজীকরণ, এলসি বিহীন আর্থিক লেনদেন কার্যক্রম গ্রহণে উত্সাহিতকরণ এবং বন্দরগুলোতে পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।

 

 


 

Published in দৈনিক জনকন্ঠ on Wednesday, 2 December 2015.

 

বাণিজ্য সহজীকরণে ৪ বাধা

ডিসিসিআইয়ের সেমিনারে অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥

বাংলাদেশে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৪টি বিষয় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। এসব হলো নীতিগত সমস্যা, বাস্তবায়নে সমস্যা, এর সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও সব অংশীদার এ সম্পর্কে অবগত না থাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ‘বাণিজ্য সহজীকরণ ॥ টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ মত দেন। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রমে ইউএসএআইডির উপ-প্রধান কর্মকর্তা ড. মোঃ খায়রুজ্জামান মজুমদার। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী। মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান এনবিআর, বদলে যাওয়া এনবিআর। যার বয়স মাত্র ১১ মাস। এখন এনবিআরে বাণিজ্য সহজীকরণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তবে আরও পরিবর্তন দরকার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন পণ্য খালাসে মাত্র সাড়ে ৮ ঘণ্টা সময় নেয়া হয়।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। তবে এজন্য উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে যে সাহায্য পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রথমেই টেকসই উন্নয়ন দরকার। আর টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুত পাচ্ছি না। তিনি বলেন, এখনও সামান্য কারণে রফতানি পণ্য বা মূলধনী যন্ত্রপাতি বন্দরে মাসের পর মাস আটকে থাকে।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ৪ ধরনের সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নীতিগত সমস্যা, বাস্তবায়নের সমস্যা, সমন্বয়হীনতা ও এ সম্পর্কে স্টেকহোল্ডারগণ অবগত না থাকা। অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ কোন জটিল বিষয় নয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। এতে এ, বি ও সি তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। বাস্তবায়নের আগে নিশ্চিত করতে হবে আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি। এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থবিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, যে কোন কাজে সময় নষ্ট করার মানে হলো অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ানো। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বন্দরের পণ্য খালাসে ১১ দিন সময় লাগে। এ ধরনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের নীতিতে বিশাল পরিবর্তন দরকার। প্রসঙ্গত, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, কাস্টমস নীতিমালা সহজ ও দ্রুততর করা, সীমান্তে পণ্য চলাচলে দেরির কারণে বাড়তি খরচ কমানো, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করা, যা বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে। বাণিজ্য খরচ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমবে।

 

 


 

Published in দৈনিক যুগান্তর on Wednesday, 2 December 2015.

 

বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগাতে কর কমাতে হবে

যুগান্তর রিপোর্ট |

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে (ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা) বাস্তবায়নে চার ধরনের সমস্যা রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেট (করহার) বেশি, এটি কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপরচুনিটিজ ফর সাসটেনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে শুধু রাজস্বমুখী না করে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বিনিয়োগমুখী করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেট (করহার) বেশি, এটি কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

মশিউর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্য রয়েছে, এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুসম্পর্কের মাধ্যমে। এ ছাড়া পণ্য খালাসের বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা শুধু কর্মকর্তার জন্য হচ্ছে এটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, যেসব কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের শায়েস্তা করতে চান, তাদের সরকারি কাজ করার অধিকার নেই। পাবলিক সার্ভিস বা সার্ভেন্ট প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের জন্য যে ইনপুট দেয়ার কথা, তাও তারা দিতে পারছে না। সরকারের আইনে আছে, যদি কেউ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অপরাধ করে, তাদের ভারি শাস্তি দেয়া যাবে না। আপনারা ভোগ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন, কিন্তু বিনিয়োগের ওপর ভ্যাট বসাতে পারেন না। এতে করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত ডব্লিউটিএতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি। তিনি বলেন, এনবিআরের একার ক্ষেত্রে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব না। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্পর্কযুক্ত সব বিভাগের সঙ্গে এনবিআরের সুসম্পর্ক আছে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে। নতুবা এর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নে আমাদের দেশে চার ধরনের সমস্যা রয়েছে। সেগুলো হল : নীতিগত সমস্যা, অপারেশনাল সমস্যা, কো-অর্ডিনেশনে ঘাটতি এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্পর্কে স্টেকহোল্ডার ও বেসরকারি খাতের অজ্ঞতা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন খুব জটিল বিষয় নয়। আলোচনার মাধ্যমে এটা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য এর এবিসি ক্যাটাগরি চিহ্নিত করতে হবে। এখন আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিএর চুক্তিগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।  এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থলবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 


 

Published in মানবজমিন on Wednesday, 2 December 2015.

 

ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বিনিয়োগমুখী করার আহ্বান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার |

ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধাকে রাজস্বমুখী না করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বিনিয়োগমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন: চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অফরচুনিটিস ফর সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সু-সম্পর্কের মাধ্যমে। বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাক্স রেট (কর হার) বেশি, এটি কমিয়ে আনার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ড. মশিউর। তিনি বলেন, পণ্য খালাসের বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের জন্য হচ্ছে এটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছ হতে হবে। তাহলে জটিলতা কমে আসবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত রিজার্ভের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রিজার্ভ বাড়ছে কিন্তু তা অলস পড়ে আছে। এই রিজার্ভের কোন উপকার নেই। মশিউর রহমান বলেন, রিজার্ভের বেশি অংশ আসে প্রবাসীদের আয় থেকে। প্রবাসীদের আয়ের কারণে গ্রামের অর্থ বাড়ছে। কিন্তু এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোন এনবিআর কর্মকর্তা যদি ব্যবসায়ীদের শাস্তি দেয় তাহলে তার সরকারি চাকরি করার সুযোগ নেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান  নজিবুর রহমান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এনবিআর’র এমন সুসম্পর্ক, যাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হাঁচি দিলে এনবিআরের সর্দি লেগে যায়। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। তবে এটা সত্য যে, শুধু এনবিআর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়ন করতে পারে না। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থমন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত আছে। তবে এটুকু বলতে পারি এনবিআরের সঙ্গে সব বিভাগের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।

 

সিপিডি অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দেশে এখনও ৪ ধরনের সমস্যা বিদ্যমান আছে। এর মধ্যে ১. সমস্যা নীতিগত, ২. অপারেশনাল সমস্যা, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না, ৩. এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে পারি না ও ৪. অনেক ব্যবসায়ী ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। যার কারণে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারছি না।

 

এতে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ। এ ছাড়া বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি এএইচ আসলাম সানি, সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


 

Published in দৈনিক সংবাদ on Wednesday, 2 December 2015.

 

সেমিনারে বক্তারা

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন শিল্প বিনিয়োগমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে (ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা) শুধু রাজস্বমুখী না করে, বাণিজ্য ও শিল্পবিনিয়োগমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, বাণিজ্য বাড়াতে হলে আমাদের পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় কমাতে হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজার উন্নয়ন করা সম্ভব। আমরা পরীক্ষা করে দেখিনি- কোন বাজারে উৎপাদন ব্যয় কেমন। এটা করতে পারলে উৎপাদন ব্যয় কমানো যেত। তাই আমার মনে হয় আমরা বাজার উন্নয়নে তেমন কিছুই করতে পারিনি। এ সময় তিনি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অফ কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপরটিউনিটিস ফর সাসটেনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান। ডিসিসিআই’র সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ চক্রবর্তী, বিকেএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএসএআইডি-এর ডেপুটি চিফ অফ পার্টি ড. খাইয়রুজ্জামান মজুমদার।

মশিউর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন। এটি হতে পারে সরকার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সু-সম্পর্কের মাধ্যমে। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ট্যাঙ্রেট (কর হার) বেশি, এটি কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া পণ্য খালাসের বিষয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা শুধু কর্মকর্তার জন্য হচ্ছে এটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করার কথা বলেন তিনি। তাতে জটিলতা কমে আসবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা) আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিশেষ নজর রাখেন। এছাড়া এ সংক্রান্ত ডবিস্নউটিওতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক এগিয়েছি। তবে এটা সত্য যে, এনবিআরের একার পক্ষে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ জড়িত আছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, এনবিআরের সঙ্গে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকল বিভাগের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (অতিরিক্ত সচিব) অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন খুব জটিল একটা বিষয় নয়। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। এর এ, বি, সি ক্যাটাগরি রয়েছে। সেগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডবিস্নউটিওর এগ্রিমেন্টগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা কোন ক্যাটাগরিতে আছি। এরপর বাস্তবায়নের জন্য এনবিআরসহ দেশের অর্থ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্থল বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের দেশে এখনও চার ধরনের সমস্যা আছে। এর মধ্যে নীতিগত সমস্যা, যেটার সিদ্ধান্তহীনতায় আমরা সব সময় ভুগি। দ্বিতীয়ত, অপারেশনাল সমস্যা, যা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না। তৃতীয়ত, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা কো-অর্ডিনেশন করতে পারি না। আর চতুর্থ হচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন। যার কারণে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারছি না। একই সঙ্গে ট্রেড ফ্যাসিলেটেশন বাস্তবায়নে বা এর কাজের অগ্রগতি বৃদ্ধিতে বাণিজ্যসহজীকরণ কমিটিকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রী পর্যায়ের একজনকে প্রধান করে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আলাদাভাবে বাজেটারি মেজারমেন্টের মধ্যে নিয়ে আসা যায় কি-না সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জনান তিনি।

 


 

 

Published in দৈনিক সমকাল on Wednesday, 2 December 2015.

 

টিএফএ বাস্তবায়নে শুল্ক ব্যবস্থা আরও সহজ করতে হবে

ঢাকা চেম্বারের সেমিনারে বক্তারা

সমকাল প্রতিবেদক

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডবি্লউটিও) ঘোষিত বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি (ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট-টিএফএ) বাস্তবায়নে এখনও প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে দেশের শুল্ক ব্যবস্থা এখনও সহায়ক নয়। একই সঙ্গে প্রচলিত জোগান ও সরবরাহ ব্যবস্থা, বন্দরের প্রতিবন্ধকতা, ঋণপত্র ও পণ্য খালাস পদ্ধতি আরও সহজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে।
গতকাল রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য টিএফএর চ্যালেঞ্জ ও কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা। চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএসএইডের ডেপুটি চিফ অব পার্টি ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার।
মূল প্রবন্ধে খারুজ্জামান টিএফএ বাস্তবায়নে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামোর পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি জাতীয় ট্রেড পোর্টাল স্থাপন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক করার পরামর্শ দেন। ব্যবসায়ী নেতারা ঋণপত্র সংক্রান্ত ধাপগুলোর জটিলতা কমিয়ে একে আরও সহজ করা এবং আমদানি-রফতানিবান্ধব করার পরামর্শ দেন।
ড. মসিউর বলেন, অনেক দেশের তুলনায় এখানে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য শুল্কহার অনেক বেশি। তিনি পণ্য খালাসের জটিলতার জন্য শুধু কর্মকর্তাদের দায়ী না করে ব্যবসায়ীদের আরও স্বচ্ছ হওয়ার আহ্বান জানান। টিএফএ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এনবিআরের একার পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। এজন্য সব সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ডবিল্গউটিওতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনেক এগিয়েছি। এজন্য এনবিআরের সঙ্গে সব বিভাগের সুসম্পর্ক আছে বলেও জানান তিনি। নাইরোবিতে আসন্ন ডবিল্গউটিওর সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, টিএফএ বাস্তবায়নে পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনায় স্তর কমানো, মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে সাড়ে ১৬ শতাংশ এবং রফতানি আয় ৪০০ কোটি ডলার বাড়বে।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, টিএফএ বাস্তবায়নে দেশে নীতিগত, অপারেশনাল, সমন্বয়ে ঘাটতি এবং এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডার ও বেসরকারি খাতের অজ্ঞতা_ এ চারটি ঘাটতি রয়েছে। টিএফএ বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বহিঃসম্পদের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করতে হবে। তা ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

মোয়াজ্জেম বলেন, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই বরং লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। দেশে টিএফএ কমিটির কার্যক্রম মন্ত্রী পর্যায়ে হলে বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়বে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, এ চুক্তির বিষয় খুব জটিল কিছু নয়। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

 

আরও বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি এএইচ আসলাম সানি ও সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ প্রমুখ।

 


 

 

Published in সকালের খবর on Wednesday, 2 December 2015.

 

বাণিজ্য সহজীকরণে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করা প্রয়োজন। আর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য সহজীকরণ : টেকসই উন্নয়নের জন্য সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, নীতিগত সমস্যা এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সম্পর্কে স্টেকহোল্ডার ও বেসরকারি খাতের অজ্ঞতা ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা (ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন) বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া পণ্যের মান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কম ব্যবহারও বাণিজ্য সুবিধা বাধাগ্রস্ত করছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি এএইচ আসলাম সানি, সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী, সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মসিউর রহমান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে কর আহরণের চেয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন তথ্য-প্রযুক্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের আরও সম্যক ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। তিনি বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর জন্য রফতানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে উদ্যোক্তাদের। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বাড়ানো দরকার। সরকার দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার প্রদান করেছে এবং এ লক্ষ্যে সার্বিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, এমডিজিতে উল্লেখিত শর্তগুলো বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে এবং এসডিজিতে উল্লেখিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে পার্টনারশিপ আরও বাড়ানো একান্ত আবশ্যক। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অভ্যন্তরীণ সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত ২০২১ ও ২০৪১ সালের রূপকল্প বস্তাবায়নের বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

 

সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্থলবন্দরগুলোর সেবার মান আরও বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করা দরকার। এছাড়া ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বিষয়ে একটি হ্যান্ডবুক প্রণয়নে দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিসিআইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

Comments

Check Also

south-asia-ready-for-fdi-promotion

South Asia ready for FDI promotion

Author: Khondaker Golam Moazzem The article titled “South Asia ready for FDI promotion” was published …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *