Dr Khondaker Golam Moazzem on Pakistan’s EU-GSP privilege

Published in Kaler Kantho on Sunday, 14 January 2014.

ইইউয়ে পাকিস্তানের জিএসপি সুবিধা
২০০ কোটি ডলারের অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

এম সায়েম টিপু

Photo: Kaler Kantho
Photo: Kaler Kantho

 

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্প যখন হুমকির মুখে, তখন নতুন খৰ হয়ে নেমেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে পাকিস্তানের জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তি। এ শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, পাকিস্তান এ সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্রেতা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এতে ২০০ কোটি ডলারের অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের মতে, ইইউয়ে জিএসপি সুবিধা পাওয়ায় পাকিস্তানের ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি বাড়বে, যার পুরোটাই বাংলাদেশের রপ্তানি থেকে কমবে। বর্তমানে পাকিস্তান ইইউয়ের বাজারে বছরে ৬০১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে। এ ছাড়া ভারতসহ অন্যান্য বাজারেও বাংলাদেশ থেকে আরো ১০০ কোটি ডলারের অর্ডার ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারদের সংগঠন বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও তুলাসহ সব সুবিধাই রয়েছে। নতুন করে তারা পেয়েছে ইইউর জিএসপি সুবিধা। আমরা আশঙ্কা করছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ বছর কমপক্ষে ২০০ কোটি ডলারের অর্ডার হাতছাড়া হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির পতন ও বাংলাদেশি টাকার দর মূল্যায়িত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী এ দেশটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও নতুন প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক ক্রেতা ভারতে অর্ডার দিচ্ছে।

বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশের নানামুখী সংকটের সময় পাকিস্তানকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ায় সবচেয়ে বড় বাজারটিতে (ইউরোপে) বছরে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের আয় হারাবে বাংলাদেশ। আর এটা করা হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি চাপে ফেলার জন্য। আমেরিকা যেমন নানা অজুহাতে আমাদের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। অন্যদিকে ইইউ পাকিস্তানকে জিএসপি সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশকে অনেকটা চাপে ফেলে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

এ নিয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের মূল ঝুঁকি দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর সঙ্গে পাকিস্তানের জিএসপিপ্রাপ্তিও আরেকটি সমস্যা। যদিও দেশটির ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। তবুও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে অনেক অর্ডার চলে যেতে পারে।

বিজিএমইএর গবেষণা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৭৫টি পোশাক পণ্যের ওপরই এর প্রভাব পড়বে। নিজস্ব তুলাসহ অনেক সুবিধা রয়েছে পাকিস্তানের। তবে ওভেন খাতে দেশটির যথেষ্ট সক্ষমতা নেই। আপতত ওভেন খাতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়লেও নিট খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যার পর ইইউ দেশটিকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার (জিএসপি) সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে জিএসপি সুবিধা দিল ইইউ, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

সাদমা ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাসির উদ্দিন বলেন, পাকিস্তান জিএসপি সুবিধা পাওয়ায় আবারও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল দেশের তৈরি পোশাক খাত। এখন পাকিস্তান ও ভারত উভয় দেশের চাপে পড়বে এ খাতটি। টেক্সটাইল খাতের নানা সুবিধা থাকায় ইতিমধ্যে পাকিস্তানের বন্ধ থাকা শত শত কারখানা ফের চালু হয়েছে। অন্যদিকে দেশে নতুন বর্ধিত মজুরি আর কারখানার কমপ্লায়েন্স করার কড়াকড়ির কারণে প্রায় ১০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি আরো বলেন, ‘গত তিন-চার মাসে আমাদের ওর্ডার কমেছে অনেক। গত বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ শতাংশ। আর ভারতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। আর অর্ডার চলে যাচ্ছে এখন ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামে।’

বাংলাদেশ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ইইউয়ে ১২০০ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে পাকিস্তানের রপ্তানি ছিল ৬০০ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা দেশটির মোট রপ্তানির ২৫ শতাংশ।