Home / CPD in the Media / CPD IRBD study on revenue collection cited

CPD IRBD study on revenue collection cited

Published in Bonik Barta on Sunday, 21 June 2015.

রাজস্ব সংগ্রহ
অ্যাকশন প্ল্যানে গুরুত্ব পাচ্ছে ট্রান্সফার প্রাইসিং

২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য বেঁধে দেয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত বাজেট অ্যাকশন প্ল্যান (বিআইপি) প্রস্তুত করছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি খসড়াও প্রস্তুত করেছে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। বড় লক্ষ্য পূরণে আগামী অর্থবছর থেকে চালু হতে যাওয়া ট্রন্সফার প্রাইসিং ইউনিটের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে বিআইপিতে। এটির মাধ্যমে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি কর আহরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্বের বড় অংশই আসে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) থেকে। গত অর্থবছর এখান থেকে কর আসে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। দেশের বড় কোম্পানি ছাড়াও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এ ইউনিটে কর পরিশোধ করে। কিন্তু আইনের নানা ফাঁক গলে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মূলধনি যন্ত্রাংশের দাম বেশি দেখানো, অন্য দেশে ঋণের সুদ পরিশোধ, হেড অফিস পরিচালন ব্যয়সহ নানা অজুহাতে অর্থ পাচার করে এ ধরনের কোম্পানিগুলো। কিন্তু এটি তদারকির জন্য আলাদা ইউনিট ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ট্রান্সফার প্রাইসিং রোধ করা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ ইউনিটকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাজেটের অ্যাকশন প্ল্যানেও এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে। ফলে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর বাজেটের পর রাজস্ব সংগ্রহের বিষয়ে এনবিআর থেকে একটি নির্দেশনা সব কর কমিশনারেট ও কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন কাস্টম হাউজ ও শুল্ক স্টেশনগুলোয়ও একটি গাইডলাইন পাঠানো হয়। এটি একটি নিয়মিত কার্যক্রম। তবে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা অ্যাকশন প্ল্যানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ অর্থবছরটিতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিশাল এ লক্ষ্য পূরণে তাই বিশেষ কর্মযজ্ঞ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছর আয়কর থেকে ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি এবং শুল্ক থেকে ৪৬ হাজার ৫৩৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশাল এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আগামী অর্থবছর তিন উইংয়ের সমন্বয়ে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে কর, ভ্যাট ও শুল্ক উইং নিজেদের রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনার খসড়া প্রস্তুত করেছে। গতকাল সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ে অ্যাকশন প্ল্যানের বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সব উইংয়ের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজস্ব সংগ্রহের বিষয়ে বছরের বিভিন্ন সময়েই নানা নির্দেশনা দেয়া হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত করা খসড়ার বিষয়ে সবার মতামত নেয়ার জন্যই আজকের (শনিবার) সভার আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, এবারের নির্দেশনায় করদাতারে সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এজন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়া রাজস্ব-সংক্রান্ত বিরোধ যতটা সম্ভব আদালতের বাইরে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে। নতুন করদাতা অনুসন্ধানের বিষয়েও থাকছে নির্দেশনা। একই সঙ্গে যেসব কর্মকর্তা অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নে ভালো পারফমর্যান্স দেখাবেন, তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে।

এদিকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এরই মধ্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, আগামী অর্থবছর ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপর রাজস্ব ঘাটতি হবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও রাজস্বের লক্ষ্য অর্জন হওয়া নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এত বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের নজির নেই। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হলে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ১২ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। তাই আগামী অর্থবছর বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য মাঠপর্যায়ে চাপ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান জানান, আগামী অর্থবছর সহজেই রাজস্বের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন। আগামী অর্থবছর থেকে ট্রান্সফার প্রাইসিং ইউনিট চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করা সম্ভব হবে এবং এসব বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হবে।

২০১৪-১৫ অর্থবছর ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ২৪ শতাংশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ লক্ষ্য অর্জনের পথে হাঁটতে পারেনি এনবিআর। ফলে এপ্রিলে লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১২ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে ৩০ শতাংশের উপরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বিশাল এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থবছরের শুরু থেকেই নানা পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে লক্ষ্যে একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে।

২০১১-১২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয় ৯৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি হয় ১৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা; এতে প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ। পরের অর্থবছর নিট রাজস্ব আহরণ হয় ১ লাখ ২০ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। এতে ২০১৩-১৪ অর্থবছর রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি আরো কমে মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়ায়।

Comments

Check Also

Press Reports on Recommendations for the National Budget FY2017-18

As part of the Independent Review of Bangladesh’s Development (IRBD) programme CPD organised a media …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *