Home / CPD in the Media / Professor Mustafizur Rahman on banking and interest

Professor Mustafizur Rahman on banking and interest

এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বাংলাদেশে ঋণের যে সুদ তা নিয়ে ব্যবসা করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, আমানতে সুদের হার আরও কমলে ঋণের সুদ হারও কমবে।

Published in Jugantor on Tuesday, 22 September 2015.

ভুলে ভরা ঋণনীতি

গোলাম মওলা

ভুল ঋণনীতির কারণে বিপাকে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাত। এ খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও উচ্চ সুদের কারণে পিছিয়ে পড়ছে। আর এ কারণেই অব্যাহতভাবে সঙ্কুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থান। সরকারের সর্বশেষ তৈরি করা অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৫ বছর ধরে অব্যাহতভাবে এ খাতে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও উচ্চ সুদের কারণে নতুন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না, বরং অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়েও নিচ্ছেন এ কারণে সঙ্কুচিত হচ্ছে কর্মসংস্থান।

সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে মাত্র এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৫ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগের ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৩ জনের। ২০১২-১৩ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল ৩ লাখ ৯ হাজার ৭০৯ জনের। ২০১১-১২ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল ৪ লাখ ৫১ হাজার ১১৫ জনের। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে কর্মসংস্থান হয়েছিল ৫ লাখ ৩ হাজার ৬৬২ জনের।

দেশের শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সুদ হার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হলেও বাস্তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। ২০১৩ সালে ঋণের সুদের হার সংক্রান্ত এফবিসিসিআইর ১১ দফা সুপারিশ আজও আমলে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে শিল্পায়ন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ২৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতকে চরমভাবে অবহেলা করা হচ্ছে।

যদিও রফতানিমুখী শিল্পে সুদের হার ৭ শতাংশ বেঁধে দেয়া হয়েছে। নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রেও বেঁধে দেয়া হয়েছে ৪ শতাংশ। আবার কৃষি ঋণেও সুদ হার বেঁধে দেয়া হয়েছে ১১ শতাংশ। গবাদিপশু পালনে ৫ শতাংশ সুদে এবং নারী উদ্যোক্তাদের ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দেশের শিল্প খাত একটি উৎপাদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া সত্ত্বেও সুদ হার বেঁধে দেয়া হচ্ছে না।

শিল্প উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, এত চড়া সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে অনেকে করলেও উচ্চ সুদের কারণে প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছেন। তারা অবিলম্বে সুদের হার সিঙ্গল ডিজিটে নামিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশের শিল্প খাতকে বাঁচাতে হলে ঋণের সুদ কমাতে হবে। এ ব্যাপারে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের নীতিমালাও সহজ করতে হবে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সুদের হার অনেক বেশি। সুদের ওপর ক্যাপ না বসানোর কারণে ব্যাংকগুলো যেমন ইচ্ছা সুদের হার বাড়াচ্ছে। এছাড়া পদ্ধতিগত জটিলতায়ও সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে। ভারতে শিল্প ঋণের গড় সুদের হার ৯ শতাংশ। ভারি শিল্প স্থাপন করলে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়। নিয়মিত ঋণ শোধ করলে সুদের ওপর বিশেষ ছাড় দেয়। এতে করে নিট সুদের হার কমে যায়। শ্রীলংকায় পরিবেশবান্ধব ও উৎপাদনমুখী খাতে শিল্প ঋণের সুদের হার ৮ শতাংশ। পাকিস্তানে ওইসব খাতে ৯ শতাংশ। এসব দেশে নিয়মিত ঋণ শোধ করলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন করলে এ হার আরও কম। লিবিয়ায় শিল্প স্থাপন করলে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনোরকম সুদ ছাড়াই ঋণ দেয়া হয়। ইউরোপের দেশগুলোতে ঋণের সুদের হার আরও কম। ওইসব দেশে আড়াই থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে উদ্যোক্তারা দেশী ব্যাংকের পরিবর্তে বিদেশ থেকে কম সুদে ঋণ নিচ্ছেন। এতে দেশী ব্যাংকে অলস টাকার পাহাড় জমেছে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিল্প ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত হিসাবে এই হার দাঁড়ায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। ব্যাংকগুলো সুদ হিসাব পদ্ধতিতে ফাঁকি দিতে তিন মাস পরপর সুদকে মূলধনে রূপান্তর করছে। মূলধনের পাশাপাশি সুদের ওপরও সুদ আরোপ করছে, যা আঞ্চলিক ভাষায় চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ বা মহাজনী ব্যবসা। এছাড়া ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে ঋণের মূল টাকা থেকে সুদ বা অন্যান্য সার্ভিস চার্জ আদায় করছে। এতে গ্রাহক ঋণের পুরো টাকা হাতে না পেলেও পুরো ঋণের ওপর সুদ দিতে হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সুদের হার আরও বেড়ে যাচ্ছে। সুদারোপের বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ রয়েছে সরল হারে অর্থাৎ ঋণের মূল টাকার ওপর বছর হিসাবে সুদ আরোপ করার জন্য। কিন্তু ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক সময়ে এ নির্দেশ মানছে না। তারা হিসাবের ফাঁকিঝুঁকির মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে চক্রবৃদ্ধি হারে বা সুদের ওপর সুদ আরোপ করছে। এতে সুদের হার বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। এর বাইরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মিলছে না গ্যাস ও বিদ্যুৎ। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার পর বেশিদিন টিকে থাকতে পারছে না। আর্থিক সংকটে পড়ে নিয়মিত ঋণ শোধ করতে না পেরে হয়ে যাচ্ছেন ঋণখেলাপি, যা ব্যাংকিং খাতে এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। শিল্পের চলতি মূলধন খাতে খেলাপি ঋণ ১৬ শতাংশ বাড়লেও তুলনামূলক বড় অংকের মেয়াদি ঋণে বেড়েছে ২৯ শতাংশ। ব্যাংকাররা জানান, শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারায় সময়মতো টাকা ফেরত দিতে পারছেন না। ফলে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় শিল্পে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে বিতরণ করা ঋণে খেলাপির হার ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। আর চলতি মূলধনে খেলাপি ঋণ ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বাংলাদেশে ঋণের যে সুদ তা নিয়ে ব্যবসা করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, আমানতে সুদের হার আরও কমলে ঋণের সুদ হারও কমবে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকের অনেক কুঋণ রয়েছে। এই সুদ ভালো ঋণের ওপর থেকে সমন্বয় করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের অবকাঠামো সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, উচ্চ সুদের ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হলে সুদের ওপর ক্যাপিং করে দিতে হবে। সুদের হারের ওপর এই ক্যাপিং করে দিলে বিনিয়োগের খরা কেটে যাবে।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *