Home / CPD in the Media / Dr Khondaker Golam Moazzem on savings

Dr Khondaker Golam Moazzem on savings

Published in Bhorer Kagoj on Tuesday, 9 June 2015.

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে রেকর্ড : ১০ মাসে ২৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ

কাগজ প্রতিবেদক

সুদ হার কমানো সত্ত্বেও অর্থবছরের ১০ মাসে রেকর্ড ২৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। সুদ কমানো নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই গেল এপ্রিলের এক মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এত বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকেনি।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে গত ২৩ মে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্রে প্রায় ২ শতাংশ সুদ কমিয়ে ১১ শতাংশের আশপাশে নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য কমিয়ে আনা সুদহারও বর্তমানে ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। গত এপ্রিলে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়েনি।

১০ মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। সব চেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। মূলত এই তিন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিক্রিই বেশি হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে ডাকঘরের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৯০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরোর মাধ্যমে ১০ মাসে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূল্য পরিশোধ বাবদ ১১ হাজার ৩৩ কোটি ০৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আর সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে এপ্রিলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৯৫৭ কোটি ১ লাখ টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এত বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা থাকেনি।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। এ জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। গত ১০ মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে বলে মনে করেন এই গবেষক।

জানা গেছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা এসেছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেশি হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক থেকে খুব বেশি ধার করতে হয়নি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, গত বছরে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়নি। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে চাহিদা পূরণ করেছে। ব্যাংকিং খাতে যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। সরকার ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে নিলে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ঋণ হিসেবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদ ঋণ (নিট) ২৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। আর স্বল্পমেয়াদ ঋণ (নিট) নেবে ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে দীর্ঘমেয়াদ ঋণের (নিট) লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা নেবে। আর স্বল্পমেয়াদ ঋণ (নিট) নেবে ১১ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা।

 

Published in Jugantor

সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও বিক্রি কমেনি

যুগান্তর রিপোর্ট

সুদ হার কমানো হলেও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েনি। একক মাস হিসেবে এপ্রিলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এসেছে ২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এর আগে কখনোই সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে এত বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা পড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতের সুদের হারের চেয়ে তা এখনও বেশি। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে মুুখ ফিরিয়ে নেননি বিনিয়োগকারীরা। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। সুদ সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে গত ২৩ মে পাঁচ ধরনের সঞ্চয়পত্রে প্রায় ২ শতাংশ সুদ কমিয়ে ১১ শতাংশের আশপাশে নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য কমিয়ে আনা সুদহারও বর্তমানে ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। গত এপ্রিলে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২৪ হাজার ১৪১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা বেশি। এ বছর নিট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমলেও ব্যাংকের আমানতে সুদহারের তুলনায় অনেক বেশি। এ জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে।

Comments

Check Also

National Budget FY2017-18 Post-Approval Observations 01

Time to be vigilant, not to be complacent

There is hardly any room for us to be complacent, rather we need to be vigilant with every component of the fiscal framework. However, careful steps need to be taken while implementing the budget as the changed financial structure will have to depend more on domestic resources.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *