Originally posted in যুগান্তর on 5 October 2026
প্রযুক্তি দক্ষতা ও জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ জরুরি
সস্তা শ্রমের ওপর ভর করে অর্থনীতির পথ আর বেশি দূর এগোনো যাবে না। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে কম সময়ে, কম খরচে এবং ভালোমানের পণ্য ও সেবা দিতে হবে। আর এর মূল বিষয় হলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। কিন্তু এ পথে বড় বাধা হয়ে আছে প্রযুক্তির ঘাটতি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যবহার এখনো সীমিত। ফলে শ্রম ও পুঁজি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না। তবে সম্ভাবনাও কম নয়। দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্পের আকার বাড়ানো, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং সরকারি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে উৎপাদনশীলতায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস’ উপলক্ষ্যে ১ অক্টোবর গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অরগানাইজেশন (এনপিও) ও যুগান্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে কক্ষে এ আয়োজনের বিষয় ছিল : ‘বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়।’ তাদের মতে, শুধু নতুন যন্ত্র কিনলেই হবে না; প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে ছোট শিল্পকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। অপচয় কমিয়ে, সময় বাঁচিয়ে এবং কাজের পদ্ধতি বদলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীলতার নতুন পথ তৈরি করতে হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন যুগান্তরের বিজনেস এডিটর মনির হোসেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকে ছোট অবস্থায় আটকে না রেখে মাঝারি ও বড় শিল্পে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বড় প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগের সক্ষমতা থাকে। ছোট প্রতিষ্ঠানের সেই সক্ষমতা সীমিত। তাই প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনে সহায়তা দিতে হবে। এনপিও, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল ও হাইটেক পার্কের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু শ্রমিকের সংখ্যা কমানো নয়, দক্ষ ও নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে। কর্মরত নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা দরকার। উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সঙ্গে অর্থায়নের সম্পর্কও তৈরি করা যেতে পারে।


