নারীর কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না – ফাহমিদা খাতুন

সাক্ষাৎকার - ড. ফাহমিদা খাতুন, অর্থনীতিবিদ

Originally posted in বাংলাদেশ প্রতিদিন on 6 November 2026

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন

নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চ পদে তাঁদের উপস্থিতি কম। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করা প্রায় ৯০ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। অটোমেশনের যুগে নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা, যন্ত্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। -ড. ফাহমিদা খাতুন

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নারীর বড় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও (যেমন তৈরি পোশাক শিল্প বা কৃষি খাত) জাতীয় জিডিপিতে তাদের প্রকৃত অবদানের প্রতিফলন কেন কম দেখা যায়?

ড. ফাহমিদা খাতুন: বাংলাদেশের পোশাক ও কৃষি খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তাঁদের কাজের পুরো মূল্য জিডিপিতে দেখা যায় না। কৃষিকাজের অনেক অংশ অনানুষ্ঠানিক, আর ঘরের কাজ-যেমন রান্না, শিশুর যত্ন ও পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা-বাজারে কেনাবেচা হয় না। প্রচলিত জিডিপিতে সাধারণত বাজারে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য ধরা হয়।

প্রশ্ন: নারীদের ঘরের ভিতর অবৈতনিক কাজ (গৃহস্থালি কাজ) যা অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি, সেটিকে জিডিপির হিসাবের মধ্যে আনার জন্য আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে কোনো গাণিতিক মডেল কি কার্যকর করা সম্ভব?

ড. ফাহমিদা খাতুন: অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের মূল্য হিসাব করা সম্ভব। সময় ব্যবহার (টাইম ইউজ) পদ্ধতিতে নারীরা দিনে কত ঘণ্টা কাজ করছে এবং একই কাজের জন্য বাজারে কত মজুরি দিতে হতো-এই ভিত্তিতে একটি আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়। জিডিপি হিসাবের পাশাপাশি আলাদা ‘স্যাটেলাইট হিসাব’ করলে কাজটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বোঝা যাবে।

প্রশ্ন: বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার বাড়লেও নীতিনির্ধারণী বা উচ্চ পদে তাদের উপস্থিতি এখনো সীমিত কেন?

ড. ফাহমিদা খাতুন: নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়লেও উচ্চ পদে তাঁদের উপস্থিতি কম। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ করা প্রায় ৯০ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। উচ্চপদে কম অংশগ্রহণ করার পেছনে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সুযোগের অভাব ও অনেক সময় পক্ষপাত, ঘরের এবং কেয়ার (যত্নের) কাজের অসম ভার, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব এবং নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত থাকা দায়ী।

প্রশ্ন: একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে মজুরি বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন?

ড. ফাহমিদা খাতুন: মজুরি বৈষম্য কমাতে একই কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত, বেতন প্রকাশ, বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দরকার।

প্রশ্ন: প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অটোমেশনের ফলে নারীরা কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। যেমন পোশাক খাতে নারীদের হার কমে যাওয়া। এই ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে নারীদের শ্রমবাজারে টিকিয়ে রাখতে কেমন পুনঃদক্ষতা প্রয়োজন?

ড. ফাহমিদা খাতুন: অটোমেশনের যুগে নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা, যন্ত্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন কাজে প্রবেশের সুযোগও জরুরি।

Get latest updates of CPD's research, policy discourse, publications, and events.