অনলাইনে হয়রানিও নারীর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা – ফাহমিদা খাতুন

নির্বাচন ও নারী

Originally posted in বণিকবার্তা on 10 February 2026

ড. ফাহমিদা খাতুন, অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ শুধু অধিকার নয়, এটা নৈতিক প্রয়োজন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ শুধু অধিকার নয়, এটা নৈতিক প্রয়োজন। জুলাই চার্টারে আমরা দেখেছি যে নারী ইস্যুতে বেশকিছু ইতিবাচক ধারা দেয়া হয়েছিল। বিশেষ করে নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ নারী অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ ছিল। এটি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও দৃশ্যমানতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে সে প্রতিশ্রুতির যথেষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। আমরা জানি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ অনেক আগে থেকেই হয়েছে। এ ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। কিন্তু এখনো সেটা কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন, সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। এক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্বের চাপ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে। এমনটি অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে হয়রানি ও চরিত্র হননও নারীর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনী পরিবেশ যদি নারীবান্ধব না হয়, তাহলে নারীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। এ কারণ আগামী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নটা শুধু প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সেটা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুপাত নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সহায়তা তহবিল গঠন, নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বে উন্নয়নের জন্য কর্মসূচি চালু করাটা জরুরি। দলে নারী উইংয়ের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, তৃণমূল পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব তৈরি করা, নারীর সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনায় দলীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নারীকে কেবল ভোটার নয়, ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবেও দেখতে হবে। এখানে নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। নারীবান্ধব আচরণবিধি প্রণয়ন এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। এগুলো করতে পারলে রাজনীতির প্রতি নারীদের আস্থা বাড়বে।

Get latest updates of CPD's research, policy discourse, publications, and events.