Wednesday, March 18, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

অন্যায্য বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in প্রথম আলো on 14 March 2026

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে ‘রাজাকার ছাড়া’ সব এমপিকে স্মারকলিপি দেবে সিপিবি

সিপিবির এই আলোচনায় মুখ্য আলোচক ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা। ১৪ মার্চ | ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিল চেয়ে আগামী ৭ মে সমাবেশ করবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। পাশাপাশি চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে (এমপি) স্মারকলিপি দেবে তারা। তবে ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের’ স্মারকলিপি না দেওয়ার কথা বলেছে দলটি।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমেরিকার সঙ্গে অসম বাণিজ্যচুক্তি: বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। সভা শেষে এই আয়োজনের সভাপতি ও সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান (সোহেল) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বাণিজ্যচুক্তি বাতিল চেয়ে ৭ মে অনুষ্ঠেয় সমাবেশটি কোথায় হবে, তা আজ জানায়নি সিপিবি। এ ছাড়া ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে কোনো সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ করেনি দলটি।

তবে ওই সমাবেশের আগে ১ থেকে ৭ এপ্রিল থানায় থানায় পথসভা-গণযোগাযোগ এবং ৮ থেকে ৩০ এপ্রিল চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিপিবি নেতা হাসান হাফিজুর।

সিপিবির এই আলোচনায় মুখ্য আলোচক ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে অসমতা ও অন্যায্যতা রয়েছে। চুক্তির শর্তের কারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়েছে। এর ফলে আমরা স্বাধীনভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।’

যুক্তরাষ্ট্র যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, সেটিও মার্কিন আইন অনুযায়ীই বৈধ নয় বলেও উল্লেখ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এই অন্যায্য চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ, এটি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

সভায় অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তির চেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক চুক্তি আর হতে পারে না। এই চুক্তির ফলে তথ্য গোপন রাখার সুযোগ থাকবে না, ভর্তুকি দেওয়াও কঠিন হয়ে যাবে। এতে দেশকে আবার এক ধরনের ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

চুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক এখতিয়ার না থাকলেও এটি করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির উদ্দেশে সিপিবির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘আমি সরকারকে আহ্বান জানাই, একটা উন্মুক্ত বিতর্ক হোক। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের লোকও নিয়ে আসুক, সমস্যা নেই। আমরা প্রমাণ করে দেব এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের কতটা পরিপন্থী।’

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, এই চুক্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার চুক্তি এবং বাংলাদেশকে এতে বিভিন্নভাবে বাধ্য করা হচ্ছে। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এ ধরনের চুক্তির অধীনে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় রুহিন হোসেন বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে। কারণ তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এ ছাড়া বাণিজ্যচুক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যাঁরা এর পেছনে মদদ দিয়েছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করতে হবে। এই গোলামির চুক্তি বাতিল করতে হবে।

সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর সভা সঞ্চালনা করেন। সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাংবাদিক আবু তাহের খান প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.