Originally posted in Citizen’s Voice on 14 February 2026

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক নির্বাচন ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। তবে অর্থনীতিতে পূর্ণ গতি ফেরাতে এখন আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে—এমনটাই মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান।
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে স্থিতিশীলতার বার্তা গেছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তাঁর ভাষায়, এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন করে শুরু হয়েছে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্বাচন ছিল একটি ‘প্রয়োজনীয় শর্ত’। কারণ দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাত নতুন বিনিয়োগ বা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখায়নি। অনিশ্চিত পরিবেশে উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে চান না—এটাই বাস্তবতা।
তবে শুধু নির্বাচন আয়োজনই বিনিয়োগ বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয় না—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর মতে, অর্থনীতিতে টেকসই গতি ফেরাতে হলে ‘পর্যাপ্ত শর্ত’গুলোও পূরণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য। বিনিয়োগকারীরা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও নিরাপদ ব্যবসা পরিবেশও দেখতে চান।
একই সঙ্গে তিনি সঠিক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত হবে না।
দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক বার্তা পাবেন। এতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংস্কার নিলেই পরদিন থেকে বিনিয়োগ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। শুরুতে এর প্রভাব বার্তার মাধ্যমে আসবে। সেই ইতিবাচক সংকেত বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে। আর আত্মবিশ্বাসই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে দেবে।
সার্বিকভাবে তাঁর বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচন অনিশ্চয়তা দূর করেছে—এটি বড় অগ্রগতি। কিন্তু অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে এখন প্রয়োজন কার্যকর নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং দৃশ্যমান সুশাসন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংস্কারের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই টেকসই বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


