আইনের সমান সুরক্ষা না পেলে নাগরিকের আস্থা কমে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

Originally posted in দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড on 4 October 2026

‘গণতন্ত্রের পাশাপাশি আইনের শাসনও রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থার অন্যতম ভিত্তি। নাগরিকেরা যদি সমানভাবে আইনের সুরক্ষা না পান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা কমে যায়।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি

নাগরিকেরা আইনের সমান সুরক্ষা না পেলে এবং আইনের শাসন যথাযথভাবে কার্যকর না হলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থায় সংকট তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেছেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের বৈধতা, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় সেবার মান—সবকিছুই জনগণের আস্থা তৈরির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশসহ প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হলেও এই আস্থা দুর্বল হয়।

রাজধানীতে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬ এর ‘দ্য ডেমোক্রেসি কনভারসেশন: রিবিল্ডিং ট্রাস্ট ইন অ্যান এইজ অব পোলারাইজেশন’ শীর্ষক আলোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সরকারের বৈধতা তৈরি করে। কিন্তু জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়ম সরকারের বৈধতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পাশাপাশি আইনের শাসনও রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থার অন্যতম ভিত্তি। নাগরিকেরা যদি সমানভাবে আইনের সুরক্ষা না পান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা কমে যায়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আইনের শাসন শুধু আইন থাকা বা আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান আচরণ ও সুরক্ষা পাচ্ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় সেবার মানকেও আস্থার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এসব সেবা যথাযথভাবে দেওয়া না হলে নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

সমাজ, অর্থনীতি ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই আস্থা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিপিডির এই ফেলো বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্যও রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক প্রয়োজন।

আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী আস্থার সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমছে। এর প্রভাব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ছে।

তার মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, সেটিও এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে আইনের শাসন, শান্তি, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক জনসেবা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ব্যবস্থায় পুরোনো ও নতুন শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হবে, ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বদলাবে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশগুলোর জন্যও বৈশ্বিক ব্যবস্থার এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে উঠবে, তার সঙ্গে এসব দেশের ভবিষ্যৎও সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.