Monday, February 9, 2026
spot_img
Home Uncategorized

আমদানি ব্যবস্থায় সংস্কার না হলে ভোক্তা বাজারে মূল্যচাপ আরও বাড়বে – ড. মোয়াজ্জেম

Originally posted in বাংলাদেশ প্রতিদিন on 31 January 2026

বিদেশে সস্তা, দেশে এলেই চড়া

বাংলাদেশের বাজারে বিদেশ থেকে আসা পণ্যের দাম অনেক সময় পাশের দেশ ভারত বা অন্য এশীয় দেশের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। দেশের অনেক পণ্যই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। যে পণ্যগুলোর কাঁচামাল বা উৎপাদন হয় না বা সীমিত পরিমাণে হয়, সেগুলো বাইরে থেকে আনা ছাড়া উপায় থাকে না। তবে বিদেশ থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ রয়েছে দেশের আমদানি ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে, যার মধ্যে পণ্যের আমদানি প্রায় ৬১ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে দেশের রপ্তানি মাত্র ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি, যার কারণে ভোক্তাদের কাছে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুসারে, অনেক পণ্যের ওপর ৬০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে কর আরোপ করা হয়। এর অর্থ হলো- যে পণ্য বিদেশ থেকে ৪ ডলারে আমদানি করা হয়, সেটির ওপর প্রায় অর্ধেক থেকে অধিক কর দিতে হয়। এমন করের চাপ পণ্য খুচরা বাজারে পৌঁছতে গিয়ে দামের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া আমদানির সময় বন্দরে যে বিলম্ব হয়, সেটাও খরচ বাড়ানোর এক বড় কারণ। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরে পণ্য খালাস করতে প্রায় ৯-১০ দিন সময় লেগে যায়। অনেক সময় এই সময় আরও বাড়ে। ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেখানে একই প্রক্রিয়ায় তিন-চার দিনের বেশি সময় লাগে না। দীর্ঘ সময় বন্দরে থাকার ফলে অতিরিক্ত ভাড়া, গুদামের খরচ ও অন্যান্য চার্জ যোগ হয়, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

আমদানিকারকরা বলছেন, অতিরিক্ত শুল্ক ও নানা আমদানি জটিলতার কারণে পণ্যের দাম বেশি হয়ে যায়, যা তাদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ ছাড়া আমদানি প্রক্রিয়া এতটাই জটিল যে, একটি চালান ছাড় করতে আমদানিকারককে অন্তত ১২-১৩টি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস, পরীক্ষাগার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনুমোদন নিতে হয়। এই জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমদানি ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো না গেলে দেশের বড় ভোক্তা বাজারে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হবে। এই চাপ সরাসরি দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের বাজারে বিদেশি পণ্যের দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য দরকার সুশাসন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নীতি সংস্কার। না হলে আমদানির পথে পণ্যের দাম বাড়ানো ও জটিলতা ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে, যা ভোক্তা থেকে শুরু করে পুরো অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করবে।

বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, কর ও আমদানিকারকের খরচ যোগ করে মূলত আমদানিকারকরাই পণ্যের দাম ঠিক করেন। খুচরা বিক্রেতাদের লাভের মার্জিন খুবই কম, তাই তারা দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো বড় ভূমিকা রাখতে পারেন না। আলী শাহ কসমেটিকসের স্বত্বাধিকারী মাহমুদ শাহ বলেন, আমরা পণ্য আমদানি করি নির্দিষ্ট দামে, কিন্তু শুল্ক ও অন্যান্য করের কারণে পণ্যের শেষ দাম অনেক বেশি হয়ে যায়। আমাদের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।