Originally posted in প্রথম আলো on 29 March 2026
উন্নয়নের গল্প কাগজেই সীমাবদ্ধ
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ
নতুন অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে বড় বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে (ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত) দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা গত ৯ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ রাজনৈতিক অস্থিরতার ও সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে থাকার পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা চলতি বছরের চেয়েও বেশি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং কাঠামোগত দুর্বলতা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই এবার প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ অতীতে অনেক বড় প্রকল্প অনুমোদন পেলেও উন্নয়নের গল্প কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতায় কাক্সিক্ষত ফল আসেনি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধীরগতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা এবং অতিরিক্ত মূলধনি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ-সব মিলিয়ে এডিপি বাস্তবায়নে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অবকাঠামো-নির্ভর প্রকল্পের আধিক্যের কারণে মানবসম্পদ উন্নয়ন খাত-যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য-যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এতে উন্নয়নের গুণগত দিক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে চলমান থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি খুবই সীমিত। যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার ১০ শতাংশের নিচে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। একইভাবে ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতির ‘ক্যারি-ওভার’ প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা নতুন করে যাচাই করা দরকার। অপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাদ দিতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্প পরিহার করা জরুরি। অবকাঠামোকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ ৮৫ শতাংশ বা তার বেশি শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে। বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ, সংসদীয় নজরদারি এবং স্বচ্ছ অডিট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হতে পারে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত এডিপির হার বাড়ালেই হবে না, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে বড় বাজেট কতটা কার্যকর হবে- তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।


