Tuesday, March 10, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি দরকার ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন: ফাহমিদা খাতুন

Originally posted in সমকাল on 8 March 2026

নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএসইসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। বিশেষত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন গতকাল শনিবার শিক্ষার্থীদের এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মত দেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ঢাকার এফডিসির একটি মিলনায়তনে ‘ছায়া সংসদ’ নামে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমেই নতুন সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে’ শিরোনামের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে অংশ নিয়ে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। বিরোধী দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

বিতর্কের বিষয়ের ওপর ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি টেকসই রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী রাখতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও আইনের শাসনের অভাব থাকলে বিনিয়োগে গতি আসবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সন্ধিক্ষণে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আয়, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা, জ্বালানি খাতে সংকটসহ বিভিন্ন কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ পরিস্থিতি চলছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার একটা অভিঘাত ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ফলে এ রকম একটি পরিস্থিতিতে সঠিক নীতি গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন নতুন সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

নতুন সরকারের প্রতি পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, উন্নয়নকে কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে হবে না। দেখতে হবে উন্নয়নের সুফল যাতে সবাই পায়। উন্নয়নের গুণগত মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষার জন্য ভালো। তবে বেশি দরকার হলো প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যাতে মানুষ নিজেরটা নিজে করে নিতে পারে। সবাই অফিস-আদালতে চাকরি পাবে না। এ কারণে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

দর্শক সারি থেকে আসা প্রশ্নের উত্তরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনীতিতে সম্পদের জোগান দেয়। একই সঙ্গে জনগণের অর্থের পাহারা দেয়। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিকরণের উদাহরণ রয়েছে এবং গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রেও তা দেখা গেছে। রাজনৈতিক যোগসূত্রকে ব্যবহার করে অনেক প্রভাবশালী ইচ্ছে করে ঋণ পরিশোধ করেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। খেলাপি ঋণ এত বেশি বেড়ে যাওয়ার যা অন্যতম কারণ।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অর্থনীতির ৮০ শতাংশই বেসরকারি খাতের। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে বেসরকারি খাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি দরকার। ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর কালিমা লেপন করা উচিত নয়। যারা অন্যায় করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আগের আমলে যারা ব্যবসা করেছে, তাদেরকে ঝামেলায় থাকতে হবে– এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি যাতে না থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের এ মুহূর্তে বড় চিন্তার বিষয় উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কিনতে হলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। অন্যদিকে গ্রাহকের জন্য তেলের দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি দিতে গেলে সরকারের কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। কিন্তু বাড়তি চাপ নেওয়ার মতো রাজস্ব আয় হচ্ছে না। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কর্মে নিয়োজিত। ওইসব দেশের অর্থনীতি ভালো না থাকলে কর্মীরা ভালো থাকবেন না। নতুন করে জনশক্তি রপ্তানির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া অর্থনীতির এ মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী সূচক রেমিট্যান্স আহরণ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনা জরুরি। তাই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা উচিত। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা, দেশে ফিরে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারা, ব্যাংক হিসাব জব্দ করাসহ নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.