Monday, February 9, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

জামায়াতের ইশতেহারে স্পষ্ট লক্ষ্য ও অর্থায়নের রূপরেখার ঘাটতি রয়েছে: ড. ফাহমিদা খাতুন

Originally posted in দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড on 4 February 2026

দেশকে বিশ্বের ২০তম অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখালেও জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি বলে জানান ফাহমিদা খাতুন। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে পরিকল্পনার কথা তারা বলেছে, তা বিদ্যমান রূপরেখা দিয়ে অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহারে কেবল স্লোগান ও কিছু ‘ভালো ভালো কথা’ আছে, তবে এতে টাইমলাইনসহ বাস্তবায়নযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই ইশতেহারে কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতিহার পর্যালোচনা করে ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন।

ইশতেহারের ভাষা ও উপস্থাপন নিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে “ইসলাম” শব্দটিরই উল্লেখ নেই। এটি দেখে মনেই হবে না যে এটি জামায়াতের ইশতিহার। আধুনিক তরুণ-তরুণীদের ছবি ব্যবহার করে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।’

জামায়াতের প্রতিশ্রুতিগুলোকে পর্যালোচনার পর সিপিডির নির্বাহী পরিচালক দুটি প্রধান ঘাটতি চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি কবে নাগাদ পূরণ করা হবে, তার কোনো সময়সীমা (টাইমলাইন) উল্লেখ নেই। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলা হলেও সেই অর্থের উৎস কী হবে, অর্থাৎ টাকা কোথা থেকে আসবে; তা স্পষ্ট করা হয়নি। তাই এগুলোকে কার্যকর প্রতিশ্রুতি না বলে কেবল স্লোগান বলা যায়।’

দেশকে বিশ্বের ২০তম অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখালেও জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেনি বলে জানান ফাহমিদা খাতুন। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে পরিকল্পনার কথা তারা বলেছে, তা বিদ্যমান রূপরেখা দিয়ে অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

মাথাপিছু গড় আয় ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করার বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেখানে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। ড. ফাহমিদা বলেন, ‘সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২০ শতাংশ এবং এফডিআই ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হলেও প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি “বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ” নিয়ে কোনো পরিকল্পনা না থাকাটা হতাশাজনক।’

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কবে নাগাদ অর্জন হবে তার উল্লেখ নেই। তাছাড়া ২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে হলে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কেবল অর্জন করলেই হবে না, তা দীর্ঘকাল স্থিতিশীল রাখতে হবে।’

একইভাবে ৭ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ড. ফাহমিদা বলেন, ‘এই বিপুল কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে এবং কতদিনের মধ্যে এটি করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ১৪ শতাংশ করার কথা বললেও তার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই।’

বেকারত্বের হার নিয়ে জামায়াতের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত দাবি করেছে তারা বেকারত্ব ডাবল ডিজিট থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনবে। অথচ সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে বর্তমানে বেকারত্বের হার ৪ শতাংশের নিচে।’

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জামায়াতের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে রপ্তানি দ্বিগুণ করার জন্য তারা যেসব পণ্যের কথা বলেছে, তা দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। বিশ্ব বাণিজ্যে বর্তমানে ট্যারিফ যুদ্ধসহ যে জটিল পরিস্থিতি চলছে, তা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ করছে। কিন্তু জামায়াতের ইশতেহারে এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই।’

জামায়াতের ৩০ শতাংশ আমদানি প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাকে ‘বাস্তবায়ন অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি পরামর্শ দেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যেসব পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দরে আমদানির সুযোগ আছে, সেগুলো উৎপাদনের চেষ্টা না করে দেশের সক্ষমতা আছে এমন পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া উচিত।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩ গুণ করার কথা বলেছে। তবে এই বর্ধিত বরাদ্দ ঠিক কবে নাগাদ দেওয়া শুরু হবে, তার কোনো উল্লেখ ইশতেহারে পাওয়া যায়নি।’