Tuesday, February 24, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

অর্থনীতি ও ঋণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ট্রানজিশন টিম জরুরি – ড. দেবপ্রিয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিতে খাদের কিনারায় অর্থনীতি

Originally posted in দৈনিক ইনকিলাব on 24 February 2026

ঋণের ভারে ন্যুব্জ নতুন সরকার

দেশের বর্তমান অর্থনীতি ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এখান থেকে আগামী ৮ বছরের মধ্যে ২০৩৪ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে। ভুল নীতির কারণে একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকঋণে উচ্চ সুদের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে উন্নয়ন কর্মকা-ে সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থ ব্যয় করা হলেও ঋণের লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে সরকারকে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধ করে এখান থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে নিয়ে আসা একটি দেশের জন্য কঠিন উল্লেখ করে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদের হার অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলের সমালোচনার মুখে রয়েছে। অনেকে মনে করেন, শুধু মুদ্রানীতি নয়, বরং খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মূল কারণ বণ্টন ব্যবস্থার বাধা। এটি সরকারের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। এছাড়া টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয় বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কার। তাদের মতে, তারেক রহমান এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন দেশ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ১৮ মাসের বিশৃঙ্খলা, একটি কঠোর বিরোধী পক্ষ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনÑ এসবই তার সামনে বড় বাধা। তবে তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরানো। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই অর্থবছর শেষে বাংলাদেশকে দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ মেটাতে সব মিলিয়ে ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। বৈশ্বিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, বাংলাদেশ যদি নিজস্ব আয় বা রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে না পারে, তবে দেশটিকে তীব্র ‘রোলওভার রিস্ক’ বা ঋণ নবায়নের ঝুঁকিতে পড়তে হবে। সহজ কথায়, পুরনো ঋণ শোধ করার জন্য নতুন করে যে আবার ঋণ নিতে হয়, সেই সুযোগটা সংকুচিত হয়ে আসবে। ফলে নতুন ঋণ পাওয়া শুধু কঠিনই হবে না, বরং অনেক চড়া সুদে সেই টাকা ধার করতে হবে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ নেওয়ার পর দিন থেকেই নেমে পড়েছেন রাষ্ট্র মেরামাতে। মন্ত্রীপরিষদ নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি ফেরাতে সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে আগের মতোই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে পরিকল্পনা মাফিক এগোনোর পরামর্শ। একই সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, চীন বাংলাদেশের একমাত্র বন্ধু দেশ। অন্যরা উপদেশ দেবে। কিন্তু কিছুই করবে না। চীন তার বাজারে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রেখে বাংলাদেশের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর ওপর শতভাগ শুল্কমুক্ত ঘোষণা আগেই দিয়েছে। অথচ আমরা এখনও চীনে রফতানির বড়সড় সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারিনি। চীনে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগকেও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ইনকিলাবকে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে। বিশেষ করে ঋণ পরিস্থিতি নাজুক করে গেছে। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক দায়-দেনা, ক্রয়চুক্তি ও বৈদেশিক চুক্তির ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য নতুন সরকারকে একটি শক্তিশালী ট্রানজিশন টিম গঠনের কথা বলেছেন। অনেক চুক্তি সম্পর্কে হয়তো আমরা এখনো অবহিত না। এসব বৈদেশিক চুক্তিকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ট্রানজিশন টিম গঠনের প্রচলন রয়েছে। এই টিম পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সবকিছুর স্বচ্ছ ও পদ্ধতিগত মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের প্রক্রিয়া নয়; বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ‘ফরেনসিক রিভিউ’ বা ময়নাতদন্তের মতো নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। এ ছাড়া আগামী মার্চ মাসের শেষ নাগাদ আইন অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী যেন জাতীয় সংসদে একটি আর্থিক বিবৃতি দেয়, সেই পরামর্শ দেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। নতুন সরকারকে একটি উত্তরণকালীন দল গঠনের পরামর্শ দেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই দলের প্রাথমিক কাজ হবে গত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ময়নাতদন্ত করে একটি দলিল বা ব্রিফিং ডকুমেন্ট তৈরি করা। সেটার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশুরুর রিয়াজ ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। এর মধ্যে সিংহভাগ দায় সরকারি খাতের। তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের শেষের ৭/৮ বছর ছিল ঋণনির্ভর উন্নয়ন ও লুটপাট। এই সময়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অত্যধিক ঋণ এবং অল্প টাকার প্রকল্পকে বেশি টাকায় দেখিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। যার দায় বর্তমান সরকারকে নিতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র এই অর্থনীতিবিদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ লাগবে। তবে আগের সমস্যার কারণে আগামীতে এটি সীমিত হয়ে আসবে। তবে বিশ্বব্যাংক, এডিবির সঙ্গে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে গুরুত্ব দিতে হবে নতুন সরকারকে। একই সঙ্গে চীন সবসময়ই বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহজেই তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারকে চীনের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত মাসে প্রকাশিত আইএমএফ’র ‘আর্টিক্যাল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারকে প্রায় ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করতে হবে। গত বছর এই অঙ্কটা ছিল ২৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন। সামনের বছর এটি আরো বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আইএমএফের তথ্যমতে, বর্তমানে (২০২৪-২৫ অর্থবছর) বাংলাদেশের ঘাড়ে মোট ঋণের বোঝা প্রায় ১৮৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশের মোট অর্থনীতির (জিডিপি) তুলনায় এই ঋণের হার এখন ৪১ শতাংশ। এই ঋণের মধ্যে ১০১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ৮৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল জিডিপির ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ১ দশমিক ২ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। তবে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপের পরিমাণ ছিল ভয়াবহ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ৬ শতাংশ, কিন্তু এই ঋণ পরিশোধ করতেই সরকারের মোট রাজস্বের ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এটা সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই অনুপাত দু’টি সামনে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ ইস্যু জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি সামনে গড়ে ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। গত এক দশকে এর গড় ছিল প্রায় ১ শতাংশ। আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সুদসহ ঋণ পরিশোধ ও রাজস্বের উচ্চ অনুপাত মধ্যমেয়াদে ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সংস্থাটি লক্ষ্য করেছে যে, উচ্চ ঋণ গ্রহণ ব্যয় এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে ঋণের সব সূচকই আগের বিশ্লেষণের তুলনায় এখন ঊর্ধ্বমুখী।

যদিও কর সংস্কারের ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর নাগাদ ঋণ পরিশোধ ও রাজস্বের অনুপাতে সামান্য উন্নতি হতে পারে। তবে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো চরম পরিস্থিতিতে ২০৩০ সাল নাগাদ ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আইএমএফ বলেছে, এটি ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণের ঝুঁকি কমাতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যা ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা। এই সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিএনপি সরকার আগামী বাজেটে এই অনুপাত ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আইএমএফ সতর্ক করেছে, অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নির্ভরতা বেসরকারি খাতকে ‘ক্রাউড আউট’ করতে পারে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাবে এবং আর্থিক খাতের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেবে।

এছাড়া, সরকার যদি দেউলিয়া ব্যাংকগুলো টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা নেয়, তাহলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি থাকে। এটি মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটিয়ে একটি ক্ষতিকর অর্থনৈতিক চক্র তৈরি করতে পারে, যা ঋণের স্থায়িত্বকে আরো সংকটাপন্ন করবে। আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার সামগ্রিক ঝুঁকি ‘সুস্পষ্ট এবং ক্রমবর্ধমান’। ব্যাংক খাতের সংস্কারে দেরি বা রাজস্ব বৃদ্ধিতে ধীরগতি নিকট ও মধ্যমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ১২ দশমিক ২ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে প্রতিবেদনে সরকারি সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ‘প্রাইমারি ডিলার সিস্টেম’ সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে। ‘প্রাইমারি ডিলার সিস্টেম’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক সরকারের সাথে সরাসরি সিকিউরিটিজ লেনদেন করে এবং এর বাজারজাতকরণে সহায়তা করে।

আইএমএফ আরো জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ঋণ নবায়ন ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি দায় ব্যবস্থাপনা কাঠামো অপরিহার্য। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার উত্তরসূরির জন্য রেখে যাওয়া নোটে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশের ঋণের ঝুঁকি ‘নি¤œ’ থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে নেমে এসেছে। যদিও আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণের মাত্রা এখনও সহনীয়, তবে তিনি সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি লক্ষ করেছেন, রফতানি আয় ও সরকারি রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের হার দ্রুত বাড়ছে। ওই নোটে রাজস্ব আদায় জোরদার করা এবং উচ্চ সুদের বাণিজ্যিক ঋণ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আইএমএফের কাছে এসব চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছিল। তারা মেনে নিয়েছে, নি¤œ রাজস্ব, ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দেশের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে জরুরি বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

অথনৈতিক দুরবস্থার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন অনেকেই। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ফলে একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। যার ফলে অর্থনীতিতে গতি না ফেরায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশ, যারা নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে যাত্রা করেছে, সেখানে এত নি¤œ অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি। অল্প সময়ের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করে খুব দ্রুত মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার নজির বহু দেশে রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে এই সরকার লম্বা সময় ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করেও মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।