Originally posted in জাগো নিউজ ২৪ on 8 March 2026
বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে প্রধান অন্তরায় কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য পারিবারিক সহায়তা বাড়ানো, সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো দরকার।
এটা করতে পারলেই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ আরও সুগম হবে বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রধান অন্তরায় কী?
বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্তরায় একাধিক। প্রথমত, শিক্ষা ও দক্ষতার ঘাটতি। যদিও আমরা দেখি শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েরা ভালো করছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে শিক্ষার উচ্চ স্তরে যেতে যেতে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে যায়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে তাদের উপস্থিতি এবং ফলাফল ভালো থাকে। কিন্তু পরবর্তীসময়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
অনেক পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য থাকে না মেয়েদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার। আবার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় মনে করা হয়—মেয়েকে বেশি দিন ঘরে বসিয়ে রাখার চেয়ে বিয়ে দেওয়াই ভালো। ফলে শিক্ষায় বিনিয়োগ কমে যায়।
দ্বিতীয়ত, শ্রমবাজারে নারীর অবস্থান। বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ নারী শ্রমবাজারে যুক্ত থাকলেও তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন—যেখানে মজুরি কম, চাকরির নিশ্চয়তা নেই এবং সামাজিক সুরক্ষা নেই। নারীরা যদি মূলধারার অর্থনীতিতে, বিশেষ করে হোয়াইট-কলার ও সিদ্ধান্তগ্রহণমূলক পদে কাজ করতে না পারেন, তবে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর অনুপস্থিতি একটি বড় সমস্যা।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী?
প্রথমত, মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে—বিশেষ করে নিম্নআয় ও দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে। অনেক পরিবারে সীমিত আয়ের কারণে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বেছে নিতে হলে ছেলের পেছনে বেশি ব্যয় করা হয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ জরুরি।


