Originally posted in বাংলাদেশ প্রতিদিন on 14 October 2026

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, আমাদের দেশে এমন অনেক প্রকল্প রয়েছে যেগুলোতে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বা বর্তমানেও হচ্ছে।
আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প নির্বাচনেও বড় ধরনের রাজনৈতিক বা কৌশলগত ভুল ছিল। অর্থাৎ যে প্রকল্পগুলো যেখানে হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল, সেখানে না করে অন্য কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ বা ভুল স্থানে করা হয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, যেকোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান ভিত্তি হলো এর অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি)। একটি প্রকল্প লাভজনক হবে কি না, তা নির্ভর করে এর সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে বহু প্রকল্পে অত্যন্ত দায়সারাভাবে এ কাজ শেষ করা হয়েছে। এমনকি প্রকল্প অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর বলা হয়েছে যে এর প্রারম্ভিক সম্ভাব্যতা যাচাই ঠিক ছিল না-এমন অনেক বাস্তব উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে। মাঝপথে এসে ভুল ধরা পড়ার কারণে একদিকে প্রকল্পের সময় বাড়ছে, অন্যদিকে জনগণের ট্যাক্সের টাকা গচ্চা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর যে অতিরিক্ত বা বিলাসী বাজেট বরাদ্দ রয়েছে, তা কমিয়ে বা স্থানান্তর করে দেশের অন্য কোনো উৎপাদনশীল, কর্মসংস্থানমুখী ও জরুরি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দ্রুত ব্যবহার করা উচিত। তবে বিগত সরকারের আমলের এসব অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়ে নতুন করে সমালোচনা করার চেয়ে বর্তমান সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. নাজনীন আহমেদ। তবে এই সংকট থেকে বের হওয়ার একটি পথও দেখিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সামগ্রিক আর্থিক ভাবমূর্তি যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সেই দিকটি বিবেচনা করে সরকারকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বা ধীরগতির প্রকল্পগুলোও সচল রাখতে হবে। কারণ প্রকল্প মাঝপথে হুট করে বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অংশীদারদের কাছে ভুল বার্তা যায়, যা দেশের সুনাম নষ্ট করতে পারে।


