Originally posted in risingbd.com on 7 October 2026

ড. ফাহমিদা খাতুন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো। ২০১৭ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিনি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মাল্টিডাইমেনশনাল ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স (এমভিআই)–বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলের সদস্য। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে (বিআইডিএস) গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-তে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশে ইউএসএআইডি মিশনে অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামষ্টিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতি, জ্বালানি, আর্থিক খাত, বাণিজ্য ও উন্নয়ননীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে আসছেন। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতি প্রণয়ন ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদক তুহিন সাইফুল ইসলাম।
রাইজিংবিডি: ১২ বছর পর নতুন জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলো। অর্থনীতির দৃষ্টিতে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব কী হবে?
ড. ফাহমিদা খাতুন: সবচেয়ে বড় এবং ইতিবাচক প্রভাব হবে সরকারি কর্মচারীদের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। দীর্ঘ সময় বেতন না বাড়ায় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকের প্রকৃত আয় কমেছে। নতুন বেতন তাদের ভোগব্যয়, সঞ্চয় ও জীবনযাত্রায় স্বস্তি দিতে পারে। এর ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদাও বাড়বে, যা ব্যবসা ও উৎপাদনে কিছুটা গতি আনতে পারে। তবে বেতন বাড়লেই উৎপাদন বাড়ে না। সরবরাহ না বাড়লে বাড়তি চাহিদা পণ্যের দাম আরো বাড়াতে পারে। তাই পে স্কেলের সাফল্য নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি সেবার মান ও কর্মদক্ষতা উন্নত করার ওপর।
রাইজিংবিডি: সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাতের কয়েক কোটি কর্মী এর বাইরে থাকছেন। এই বৈষম্য অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?
ড. ফাহমিদা খাতুন: সরকারি কর্মচারীরা সংগঠিত বেতন কাঠামোয় থাকেন, কিন্তু বেসরকারি খাতের বহু কর্মী, বিশেষত অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক নিয়মিত বেতন পর্যালোচনা বা সামাজিক সুরক্ষা পান না। তবে বেসরকারি কর্মীর বেতন সরকার নির্ধারণ করবে-এমন ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত নয়। বেসরকারি খাতে শিল্প, উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন ঠিক হয়। সরকারের কাজ হবে ন্যায্য ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং শ্রম আইন কার্যকর করা। বেতন আলোচনায় শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমানভাবে অংশ নেওয়া দরকার।
তাছাড়া, সরকারকে বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আমালাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, দুর্নীতি বন্ধ করা—ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের ব্যবসায় খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বেসরকারি খাত তাদের কর্মীদের বেতন বাড়াতে পারে।
রাইজিংবিডি: বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে চাপ রয়েছে, নতুন বেতন কী প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারবে?
ড. ফাহমিদা খাতুন: প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা নির্ভর করে বেতন যতটা বাড়ছে, পণ্যের দাম তার তুলনায় কতটা বাড়ছে তার ওপর। আগস্ট ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় একই ঝুড়ির পণ্য কিনতে গড়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি খরচ হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির টাকা যদি খাদ্য, বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার বাড়তি খরচেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে বাস্তব স্বস্তি সীমিত হবে। আবার বেতন বৃদ্ধি চাহিদা বাড়ালে এবং বাজারে সরবরাহ না বাড়লে দামের ওপর চাপ আসতে পারে। তাই উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজার তদারকি জরুরি।
রাইজিংবিডি: বেসরকারি খাতের জন্য কী জাতীয় মজুরি নীতি বা পে স্কেলের মতো কোনো কাঠামো এখন সময়ের দাবি?
ড. ফাহমিদা খাতুন: হ্যাঁ, তবে সরকারি পে স্কেলের মতো বেসরকারি খাতে সবার জন্য এক বেতন কাঠামো নয়। বেসরকারি খাতে দক্ষতা, শিল্পের ধরন, কাজের ঝুঁকি ও উৎপাদনশীলতা একরকম নয়। তাই একটি জাতীয় মজুরি নীতিতে ন্যূনতম মান থাকা উচিত—যেমন ন্যায্য মজুরি, নিয়মিত পর্যালোচনা, সমান কাজের সমান মজুরি, বেতন সময়মতো দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষা। খাতভিত্তিক মজুরি বোর্ড এসব মান ধরে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। এতে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা হবে, আবার প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সক্ষমতাও বিবেচনায় থাকবে। নীতিটি যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য শ্রম পরিদর্শন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
রাইজিংবিডি: ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতিতে কী কী সংস্কার দরকার?
ড. ফাহমিদা খাতুন: ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে জীবনযাত্রার খরচ, খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের আকার, উৎপাদনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা-সবগুলো বিবেচনা করতে হবে। শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার প্রতিনিধি যেন নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করেন। মজুরি দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত না রেখে, নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। মূল্যস্ফীতি হঠাৎ বেড়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেও পর্যালোচনার সুযোগ থাকা উচিত। নতুন শ্রম আইনে শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি তিন বছর পরপর পুনর্নির্ধারণের কথা আছে। বাস্তবে এই সময়সীমা মানা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। গৃহকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও আলাদা করে ভাবতে হবে।
রাইজিংবিডি: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ও বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এটি মূল্যস্ফীতিকে কতটা বাড়াতে পারে?
ড. ফাহমিদা খাতুন: জ্বালানির দাম বাড়লে প্রথমে বাস, ট্রাক ও নৌপরিবহনের খরচ বাড়ে। এরপর পণ্য পরিবহন, কৃষি সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের উৎপাদন খরচে প্রভাব পড়ে। ব্যবসায়ীরা এর কিছু অংশ পণ্যের দামে যোগ করেন, ফলে খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি ঠিক কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরিবহন ভাড়া ও বাজারদর কতটা বাড়ে, সরকার তদারকি করে কি না এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম কোথায় যায় তার ওপর। গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকানো এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া দরকার।
রাইজিংবিডি: সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। প্রধান বাধা কী?
ড. ফাহমিদা খাতুন: স্থিতিশীল বিনিময় হার বিনিয়োগের জন্য সহায়ক, কিন্তু একে একমাত্র শর্ত ভাবলে চলবে না। ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ চাহিদা, ঋণের খরচ, বিদ্যুৎ-গ্যাসের নির্ভরযোগ্যতা, আমদানি অনুমোদন, করনীতি ও নীতির ধারাবাহিকতা বিবেচনা করেন। এসব ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকলে তারা নতুন কারখানা বা যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ পিছিয়ে দেন। ব্যাংকঋণ পাওয়া কঠিন হওয়া এবং ঋণের উচ্চ ব্যয়ও বাধা। বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধির হার এখন অনেক কম, যা বিনিয়োগের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু ডলারের স্থিতিশীলতা নয়, জ্বালানি সরবরাহ, কর ও নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং ব্যাংক ঋণের সুস্থ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
রাইজিংবিডি: ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও সংস্কারের বর্তমান উদ্যোগকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ড. ফাহমিদা খাতুন: খেলাপি ঋণ এখনো ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা। এতে ব্যাংকের মূলধন, আমানতকারীর আস্থা এবং ভালো ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন ও আমানত সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক সামলানো এবং আমানতকারীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ। খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণ যাচাই, ব্যাংক তদারকি ও সুশাসন জোরদার, ইচ্ছাকৃত খেলাপির সম্পদ শনাক্ত, অর্থঋণ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি, জামানত নিলাম, পুনঃতফসিলের অপব্যবহার রোধ এবং স্বচ্ছভাবে আদায় নিশ্চিত করতে হবে।
রাইজিংবিডি: আগামী এক বছরে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় তিনটি ঝুঁকি কী দেখছেন?
ড. ফাহমিদা খাতুন: প্রথম ঝুঁকি উচ্চ মূল্যস্ফীতি। জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহনের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমতে পারে। দ্বিতীয় ঝুঁকি ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও কম বিনিয়োগ। ঋণ আটকে থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সম্প্রসারণ ধীর হবে। তৃতীয় ঝুঁকি হলো সরকারের সীমিত রাজস্ব ও বাড়তি ব্যয়ের চাপ। বেতন, ভর্তুকি ও ঋণের সুদ পরিশোধের পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় চালাতে হবে। রাজস্ব না বাড়লে সরকারকে বেশি ঋণ নিতে বা গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিস্থিতি এই তিন ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাইজিংবিডি: আপনি যদি সরকারকে এখনই তিনটি নীতিগত পরামর্শ দিতেন, সেগুলো কী হতো?
ড. ফাহমিদা খাতুন: প্রথমত, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে খাদ্য সরবরাহ ও বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে, আর সহায়তা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতের সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে। তৃতীয়ত, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, স্থিতিশীল করনীতি, দ্রুত ব্যবসায়িক অনুমোদন এবং দক্ষতা উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে সময়সীমা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যসহ প্রকাশ করা উচিত।
রাইজিংবিডি: পে স্কেলের সুফল যেন মূল্যস্ফীতিতে হারিয়ে না যায়, তার জন্য কী পদক্ষেপ জরুরি?
ড. ফাহমিদা খাতুন: বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে পণ্য ও সেবার সরবরাহও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য, গণপরিবহন, বাসা ভাড়া ও চিকিৎসার খরচে নজর দরকার। বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, মজুতদারি ও যোগসাজশ ঠেকানো এবং কৃষি ও পরিবহনের বাধা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় দরকার।
রাইজিংবিডি: বেসরকারি কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে কী ধরনের বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া যায়?
ড. ফাহমিদা খাতুন: প্রথমে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের পরিচয় ও কর্মসংস্থানের তথ্যভিত্তিক নিবন্ধন করা যেতে পারে। এরপর স্বল্প আয়ের শ্রমিকের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট নিয়মিত অবদান এবং সরকারের সহায়তায় পেনশন বা ভবিষ্যৎ সঞ্চয় তহবিল গড়া যায়। চাকরি হারালে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার পরীক্ষামূলক কর্মসূচিও করা যেতে পারে। মাতৃত্বকালীন সহায়তা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যবিমা এবং বেতন না পাওয়ার অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা জরুরি। সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত নিম্ন আয়ের কর্মীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য ডিজিটাল পরিচয় ও নিয়মিত তথ্য যাচাই দরকার।
রাইজিংবিডি: আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে কোন বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?
ড. ফাহমিদা খাতুন: এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা করা—দুটিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া। করজাল বাড়ানো, কর অব্যাহতি পর্যালোচনা, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং কর ফাঁকি কমানো ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও বিনিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যয় করা কঠিন। একই সময়ে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সুশাসন ঠিক না করলে সঞ্চয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যাবে না। সংস্কার বাস্তবসম্মত সময়সূচিতে করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও ছোট ব্যবসার ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
রাইজিংবিডি: এক বাক্যে বলুন—এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে জরুরি কাজ কী?
ড. ফাহমিদা খাতুন: এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান এবং ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো।


