Thursday, February 19, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

মজুতকৃত আমদানি পণ্যের কারণে বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে – ড. মোয়াজ্জেম

Originally posted in Independent on 17 February 2026

রোজায় ৪০ শতাংশ বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি, দাম বাড়ার শঙ্কা নেই

রমজান উপলক্ষে গত বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। চিনি, ডাল, তেল ও খেজুরের বাজারে ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত হলে দাম স্থিতিশীল থাকবে।

এবার রোজায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই রোজায় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত আমদানি করা পণ্য যদি বাজারে না ছেড়ে গুদামজাত করে রাখা হয়, তাহলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন ভোক্তারা।

রমজান মাস শুরু হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ১৯ তারিখের মধ্যে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। এবার রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আমদানি বাড়িয়েছে সরকার।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চিনি, ছোলা, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম গত রমজানের চেয়ে কিছুটা কম। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এসব পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই, ফলে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তেল, ডাল, চিনি আর খেজুরের দাম গতবারের তুলনায় দাম কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইফতার আইটেমগুলোর আমদানি মূলত বেশি হয়েছে। বাজারের এই পণ্যগুলোর কোনো প্রকার ঘাটতি নেই। কোথাও কোথাও উদ্বৃত্তও আছে।’

রমজানের ভোগ্যপণ্য আমদানি ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও বলছেন, অতিরিক্ত আমদানির ফলে ক্রেতারা এবার তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাচ্ছেন। তবে কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরকারের কঠোর নজরদারি জরুরি বলেও মত তাঁদের।

খেজুর আমদানিকারক রাশেদ কামাল মুন্না বলেন, ‘রমজানের খাদ্যপণ্য এবার অধিক আমদানি করা হয়েছে। এখন ইমপোর্টারের খরচ ঠিকভাবে উঠবে কিনা এই নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। সরকারের ডিউটি এবং ভ্যাল্যু স্টেটমেন্ট কমায় সকলেই খুশি। এর প্রভাবটা খাদ্যের দামের ওপর পড়েছে।’

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, বর্তমানে জিনিসপত্রের দামের যে ধারা রয়েছে। এটি ধরে রাখতে পারলে ভোক্তারা সুফল পাবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, যত বেশি পণ্য আমদানি করা হোক না কেন, তা যদি বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রাখা হয়, এর সুফল পাবে না ভোক্তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমদানি করা পণ্য যদি বাজারে সরবরাহ না হয়ে বঙ্গোপসাগরে ৭২০টি লাইটার জাহাজের মধ্যে মজুত করা হয় তাহলে ভোক্তারা কোনো সুবিধা পাবে না। বর্তমানে উচিত যে জাহাজগুলোকে খাদ্য মজুতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সেই সাথে যে পণ্যগুলো জাহাজে মজুত আছে সেগুলো দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা।’

বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে পণ্যের দামে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। দাম স্বাভাবিক রাখতে বড় আমদানিকারক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সহায়তার তাগিদ দেন তাঁরা।