ব্যবস্থায় সংস্কারের বিকল্প নেই – ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

Originally posted in সমকাল on 26 July 2021

তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এ সময়কালে বাজেটের নানা বাঁক ফেরানো মুহূর্ত দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। বাজেটের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য করেছি এর দর্শন, কাঠামো ও আকার, বরাদ্দের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন কৌশলের পরিবর্তন। সরকারের বার্ষিক বাজেট উপস্থাপন এবং তার অনুষঙ্গ বিবর্তন। এসব অভিজ্ঞতার কিছু অংশ স্মরণ করছি, যা কালানুক্রমিকভাবে নয়।

রাজনৈতিক দর্শন ও বাজেট এটি ব্যাপকভাবে গৃহীত যে, একটি সরকারের সময়কালে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে জাতীয় বাজেট অন্যতম মাধ্যম।

শাহ এএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রী থাকাকালে (১৯৯৬-২০০১) তখনকার অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে এক বিকেলে তার অফিসে আমাকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আওয়ামী লীগ সরকার সমাজের দরিদ্র শ্রেণির জন্য কিছু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হাতে নিতে চায়।

আমরা বেশ সহজেই একমত হলাম- আয় বিবেচনায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু, এমনকি তা সীমিত আকারে হলেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বস্তুত, এটি ছিল সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক ভাতা বিতরণের এখনকার সম্প্রসারিত কর্মসূচির সূচনা। ধরন, নকশা এবং বিতরণ বিবেচনায় এ উদ্যোগ ছিল টিআর বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি থেকে আলাদা।

যে কেউ স্মরণ করতে পারেন, ১৯৯৮ সালে ঢাকার অর্ধেকসহ দেশের ৭৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়। এ সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া (পরবর্তী সময়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করতে কী কী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে আমাকে ডাকেন।

জাতীয় বাজেট ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আমরা এ বিষয়ে একমত হলাম, আর্থিক পদক্ষেপকে সমর্থন দিতে ব্যাপক ঋণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেতে পারে। সামগ্রিক চাহিদা চাঙ্গা করতে অর্থনীতিতে বড় অঙ্কের তারল্য প্রবেশ করাতে অর্থমন্ত্রীকে রাজি করানোর দরকার হয়নি। গ্রামের দরিদ্র বিশেষত প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে অর্থমন্ত্রী কৃষি ব্যাংককে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন, যা পরে একটি দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বীকৃত হয়। বর্তমানের অতিমারি পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত ছিল সম্ভবত বাংলাদেশে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রবর্তনের প্রথম অভিজ্ঞতা।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষণীয় বিষয়টি খুব সাধারণ- যদি রাজনৈতিক নেতা এবং নীতিনির্ধারকরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন; পেশাদার অর্থনীতিবিদরা সাধারণত তা অর্জনে উপায় সহজেই খুঁজে বের করতে পারেন।

সংস্কার ও বাজেট

এটি লক্ষণীয়, আমাদের আলোকিত অর্থমন্ত্রীরা তাদের বাজেটীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত ও নীতি সংস্কারের পদক্ষেপ নিতেন। আমি ইতিহাস থেকে এ ধরনের দুটি পদক্ষেপের কথা স্মরণ করতে পারি, যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখেছে।

প্রথমটি হলো ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং দ্বিতীয়টি ২০০১ সালের পর মুদ্রার নমনীয় বিনিময় হার পদ্ধতি চালু করা। এ দুটি বড় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে ভিন্ন দুই মেয়াদে। পরবর্তী সময়ে সাইফুর রহমান একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

বাংলাদেশে ভ্যাট প্রবর্তন এবং বৈদেশিক মুদ্রার নমনীয় বিনিময় হার পদ্ধতি চালুর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও এ ধরনের সাহসী পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিষয়ে আমরা অনেকেই সংশয়ে ছিলাম। বস্তুত অর্থমন্ত্রী নিজেই প্রস্তাবিত পদক্ষেপের ওপর উন্মুক্ত বিতর্কে আমাদের সঙ্গে অংশ নেন। সাইফুর রহমান শেষ পর্যন্ত এসব সংস্কার নিয়ে এগিয়ে যান। এখন পেছনে ফিরে দেখলে মনে হয়, তিনি সঠিক ছিলেন।

বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করতে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণে সাইফুর রহমানের অবদানের মধ্য থেকে ‘ব্যাংকিং সংস্কার কমিটি’ গঠনের বিষয়টি স্মরণ করা যেতে পারে। কমিটির প্রধান ছিলেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং আমি ছিলাম একজন সদস্য।

বেসরকারি ব্যাংকের করপোরেট সুশাসনের উন্নয়ন এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ওই কমিটির সুপারিশ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিতাপের বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবার থেকে পরিচালক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মেয়াদের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে আগের অবস্থায় ফেরত নেওয়া হয়েছে।

বিভাজিত বাজেট

আমাদের বাজেট আলোচনায় রাজস্ব এবং উন্নয়ন বাজেটের সম্ভাব্য একত্রীকরণের ইস্যুটি তাদের বিভিন্ন সময়ের আলোচনায় এসেছে। আমরা জানি, এটি এখন পর্যন্ত একটি অনিষ্পন্ন বিষয়।

যাই হোক, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বাজেটের সম্পদ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনার বিধান প্রবর্তনের কিছু চেষ্টা দেখেছি। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জেন্ডার বাজেট (২০০৯-১০), জেলা বাজেট (২০১০-১১) এবং শিশু বাজেট (২০১৫-১৬) প্রবর্তন। এই তিনটি কাঠামোগত উদ্ভাবন আনা হয় এএমএ মুহিতের সাম্প্রতিক দুই মেয়াদে। অবশ্য এসব প্রতিশ্রুতিশীল উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় থেকে গেছে।

২০০৯-১০ অর্থবছরে চারটি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডারভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে সরকারের প্রথম জেন্ডার বাজেট উপস্থাপিত হয়। ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে জেন্ডার বাজেট সম্প্রসারিত হয়। তবে সংশ্নিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকে মোটা দাগে একসঙ্গে দেখানো, জেন্ডারভিত্তিক পৃথক উপাত্তের অভাব এবং ফলভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামোর অনুপস্থিতি এসব সম্ভাবনাময় বাজেটীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

শিশু বাজেটের প্রবর্তন হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। তবে ধারণাগত বিতর্ক, উপাত্তের ঘাটতি এবং মূল্যায়ন কাঠামোর অভাবে বহুল প্রশংসিত এ উদ্যোগের তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী কোনো শিশু বাজেট উপস্থাপন করেননি।

জেলা বাজেট প্রবর্তনের উদ্যোগ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি হতাশাজনক পরিণতি নিয়ে আসে। টাঙ্গাইল জেলাকে পাইলট হিসেবে ধরে ২০১০-১১ অর্থবছরে জেলা বাজেটের ধারণা প্রবর্তন করা হয়। পরে আরও পাঁচটি জেলা এ উদ্যোগে যুক্ত করা হয়। স্থানীয় সরকারকে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের এসব উদ্যোগ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কোনো ঘোষণা ছাড়াই পরিত্যক্ত হয়।

কাঠামোগত সংস্কার ব্যতিরেকে একটি প্রগতিশীল বাজেটীয় উদ্যোগের পরিণতির এটিই সম্ভবত একটি যথাযথ উদাহরণ। এ অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া বাজেট বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুব কম।

উপাত্তের যথার্থতা ও স্বচ্ছতা

আমাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, এম সাইফুর রহমান এবং শাহ এএমএস কিবরিয়া দু’জনেই বাজেটে প্রদত্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের যথার্থতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনের ওপর বেশ গুরুত্ব দিতেন। আমি সহজেই স্মরণ করতে পারি, সংবাদমাধ্যমে আমাকে উদ্ধৃত করে সরকারের কোনো নীতির সমালোচনা হলে আমার প্রদত্ত তথ্য-উপাত্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে কিবরিয়া সাহেব একাধিক বার আমাকে ফোন করেছেন।

উপাত্ত বিষয়ে আমাদের সমালোচনা বিবেচনায় নিয়ে সাইফুর রহমান ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে সিপিডির পুরো টিমকে তার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান এবং আমাদের সামনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে তিরস্কার করেন। আমরা মন্ত্রীর আচরণে প্রশংসা-মিশ্রিতভাবে বিস্মিত হলাম- তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের পরিবর্তে সমালোচনা গ্রহণ করে তার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আরও ভালো উপাত্ত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি আদায় করলেন।

বাজেটের স্বচ্ছতা বাড়াতে আমার আরও একটি সুখকর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে বাজেটের সামষ্টিক কাঠামোর মধ্যে আর্থিক ঘাটতির প্রাক্কলন সাধারণত থাকত না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দিতে গিয়ে বাজেট ঘাটতির কারণে নেওয়া ঋণের জন্য অর্থমন্ত্রীকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। এ অবস্থায় আমি একবার শামস কিবরিয়াকে পরামর্শ দিলাম, সামষ্টিক কাঠামোর মধ্যে তিনি বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলিত পরিমাণকে পূর্ব ঘোষণা দিতে পারেন। সম্ভবত ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাজেট ঘাটতি মেটাতে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশে বাজেটের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবনতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন- সাইফুর রহমান বাজেট উপস্থাপনের সময় কর আদায়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা দিতেন। এ পর্যালোচনায় নতুন পদক্ষেপের কারণে প্রস্তাবিত বাড়তি করের উৎস, আগের শুল্ক্ক ও কর যৌক্তিকীকরণের প্রকৃত ফল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর কারণে আদায় বৃদ্ধি সম্পর্কে বর্ণনা থাকত। সে প্রক্রিয়া এএমএ মুহিতের সময় বন্ধ হয়ে যায় এবং তার উত্তরসূরি এখনও তা শুরু করেননি।

বাজেট সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্তের ঘাটতিও পর্যায়ক্রমে বেড়েছে। এর একটি বড় কারণ হলো বিভিন্ন সরকারি সংস্থার উপস্থাপিত উপাত্তের মধ্যে অসামঞ্জস্য।

অর্থনীতিবিদদের ভূমিকা

শামস কিবরিয়া সম্ভবত প্রথম অর্থমন্ত্রী, যিনি পেশাদার অর্থনীতিবিদদের নিয়ে সীমিত পরিসরে একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্রুপ গঠন করেন। আমি ওই গ্রুপের একজন সদস্য ছিলাম। মন্ত্রীর সঙ্গে গ্রুপের আলোচনা হতো বেশ খোলামেলাভাবে, যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে।

দুঃখজনকভাবে পরে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর একটি লৌকিক আলোচনা এবং মৌসুমি হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অর্থমন্ত্রীর বাজেটপূর্ব আলোচনা পর্যায়ক্রমে একটি প্রচারণামূলক উপলক্ষে পরিণত হয়েছে, যেখানে যে পেশার দৃষ্টিকোণ থেকে আকর্ষণ অত্যন্ত সামান্য। আলোচনার কোনো যৌক্তিক কাঠামোর অভাব এবং কোনো ফলোআপ ব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন একটি অকার্যকর অনুশীলন।

বস্তুত, আমাদের অনেকের জন্য অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বাজেটপূর্ব আলোচনা বহুলাংশে পেশাদারসুলভ আকর্ষণ হারিয়েছে।

এ ছাড়া ‘পছন্দ’ ও ‘অপছন্দের’ ভিত্তিতে অর্থনীতিবিদদের শ্রেণিকরণ করার কারণে সরকার বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যসমৃদ্ধ নীতি-উপদেশ থেকে বঞ্চিত করছে। বস্তুত, সুনির্দিষ্ট তথ্যসমৃদ্ধ গঠনমূলক সমালোচনার প্রতি সরকারের আগ্রহ স্পষ্টত ক্রমান্বয়ে কমে এসেছে। বর্তমান ব্যবস্থার দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, কাঠামোগত অর্থনৈতিক নীতি-পরামর্শ বিষয়ে জাতীয় বিশেষজ্ঞদের দূরে রাখার ফলে সৃষ্ট শূন্যস্থান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমলাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দ্বারা পূরণ করা হচ্ছে।

বিগত তিন দশকে জাতীয় বাজেট প্রক্রিয়ায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে কিছু উৎসাহব্যঞ্জক, আবার কিছু তা নয়। যাই হোক, বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন অর্জনের সঙ্গে বাজেট চর্চার পরিপকস্ফতা, সংবাদমাধ্যমের উন্নত বোধগম্যতা এবং নাগরিকদের জোরাল কণ্ঠস্বর বিভিন্নভাবে জড়িত।

দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে বাজেট প্রস্তুতি, উপস্থাপনা ও মূল্যায়ন; একই সঙ্গে উপাত্ত প্রস্তুত সংক্রান্ত কার্যক্রমে বেশ কিছু সংস্কার দরকার। প্রয়োজনীয় এই পরিবর্তনের পথ দেখানো পেশাদার অর্থনীতিবিদদের একটি বড় কর্তব্য।

 

অর্থনীতিবিদ; সম্মাননীয় ফেলো, সিপিডি