সম্পদের মালিকানা আরও বিস্তৃত মানুষের হাতে দিতে হবে: রেহমান সোবহান

Originally posted in প্রথম আলো on 18 September 2026

বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ, করপোরেট মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব প্রয়োজন

বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে করপোরেট মালিকানার নতুন মডেল প্রয়োজন। এমন একটি মডেল নিতে হবে, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে। সমাজে মুষ্টিমেয় লোকের হাতে বিপুল পরিমাণে সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশচুম্বী, অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। নীতিগত বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে শুধু লোকদেখানো কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানার একটি অংশ এমন একটি ফাউন্ডেশনের জন্য নির্ধারণ করতে হবে, যা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য স্থায়ী ও টেকসই অর্থের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এই মডেলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্মেলনে ‘ন্যায্যতা, সক্ষমতা ও জীবনকুশলতা’ শিরোনামের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা উপদেষ্টা সাজেদা আমিন। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক কৌশিক বসু।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, ‘সম্পদের মালিকানার অধিকারকে আরও বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এমন একটি মডেল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় তাদের শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে এবং সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের মানুষ মালিকানার সুযোগ পাবে। যত দিন না একাডেমিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এগুলোর গুরুত্ব স্বীকৃত হয়, তত দিন আমরা একটি অসম ও অন্যায্য বিশ্বে বসবাস করতে থাকব, যেখানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতাও অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে।’

বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ হুমায়ুন কবীরকে স্মরণ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর সিপিডি প্রতিষ্ঠার অন্যতম অনুপ্রেরণাদাতা ছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, কোনো বিষয়ে একমত না হলেও তা নিয়ে সভ্যভাবে আলোচনা করা যায় এবং যুক্তির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তিনি ফাইজার ইনকরপোরেশনে (মার্কিন বহুজাতিক ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান) প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই সময়ে তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি রেনাটা (দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তত ও বিপণন প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠা করেন।

হুমায়ুন কবীর যা করেছিলেন, তা একেবারেই নজিরবিহীন ছিল উল্লেখ করে রেহমান সোবহান বলেন, তিনি চাইলে রেনাটাকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারতেন। অথচ তিনি রেনাটাকে একটি ফাউন্ডেশনের নামে প্রতিষ্ঠা করেন, যে ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য ছিল জনকল্যাণ। এর মাধ্যমে তিনি করপোরেট পুঁজিবাদের কার্যকর একটি অনন্য মডেল তৈরি করেন। এই মডেলে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করতে পারে, মুনাফা অর্জন করতে পারে এবং সেই মুনাফা একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এমন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে পারে, যা লাখ লাখ বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নত করে।

প্রসঙ্গত সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের পরিবারের সদস্যরা সাজিদা ফাউন্ডেশনে সম্পৃক্ত। এই সংস্থা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশে অনেক এনজিও আছে, যেগুলো দাতা সংস্থার অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকও রয়েছে, যেগুলো আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থে কাজ করার জন্য এ ধরনের দেশীয় করপোরেট মালিকানা ও টেকসই অর্থায়নের মডেল খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। ইউরোপের অনেক দেশে, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো, জার্মানি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসে উচ্চমানের সরকারি শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এর ফলে সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির সন্তানেরাও উচ্চমানের শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। কেউ প্রধানমন্ত্রী বা নোবেলজয়ী হয়েছেন। এটাই ছিল সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয়। সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সাজেদা ফাউন্ডেশন তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ধারণা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এখানে তারা জোর দিয়েছে যে শুধু মানুষকে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া এবং তাদের আয় করার সুযোগ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশ।

করপোরেট খাতের উদ্দেশ্যে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, যদি সত্যিই বঞ্চিত মানুষের জীবনমানের মৌলিক উন্নয়ন করতে চান, তাহলে শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে কিছু লোকদেখানো কার্যক্রম করাই যথেষ্ট নয়; আপনার সামনে একটি কার্যকর মডেল রয়েছে। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানার একটি অংশ এমন একটি ফাউন্ডেশনের জন্য নির্ধারণ করতে পারেন, যা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য স্থায়ী ও টেকসই অর্থের উৎস হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশে জনকল্যাণমূলক সেবা দেওয়া অধিকাংশ এনজিওকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নিয়মিতভাবে দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। তাদের আয় ও কার্যক্রমের স্থায়িত্ব অনেকাংশে এই দাতা অর্থের ওপর নির্ভর করে।

রেহমান সোবহান বলেন, সাজেদা মডেল এখানে একটি দেশীয় সমাধান তৈরি করেছে। একটি সফল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সম্পদ জনকল্যাণমূলক সেবায় বিনিয়োগ করা হবে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, এটা ছোট বিষয় নয়। একইভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রায় ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং ব্র্যাকও বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, সম্পদের মালিকানার অধিকারকেও আরও বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কেউ রেনাটা মডেল ও সাজেদা মডেল ব্যবহার করতে পারেন। অথবা এমন একটি মডেল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় তাদের শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে এবং সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের মানুষ মালিকানার সুযোগ পাবে। যত দিন না একাডেমিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এগুলোর গুরুত্ব স্বীকৃত হয়, তত দিন আমরা একটি অসম ও অন্যায্য বিশ্বে বসবাস করতে থাকব। যেখানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতাও অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে।

অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, ‘সমাজের মুষ্টিমেয় লোকের হাতে বিপুল সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে। বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের সামনে নীতিগত বিকল্প কী আছে, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মতো পরিস্থিতি আমরা খুব কমই দেখেছি।’

দু-তিন সপ্তাহ ধরেই হঠাৎ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, ‘প্রচলিত শ্রমের চাহিদা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শ্রমের মাধ্যমে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে আমরা এমন একটি চাপ বা সংকটের লক্ষণ দেখছি, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংকট উত্তরণে জ্ঞান, নৈতিক চিন্তা, সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা ও সক্রিয়তা—এই বিষয়গুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে।’

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ‘নেতৃত্বের উদ্দেশ্য: সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ শিরোনামের প্যানেল আলোচনায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন সংবিধান প্রণেতা ও রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান রেনাটা ৫১ শতাংশ শেয়ার সাজেদা ফাউন্ডেশনকে দান করেছে। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। দান নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। রেনাটা ও সাজেদা ফাউন্ডেশন দুটোই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান, যাদের সুশাসন রয়েছে। এই পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে টিআইবি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হন সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে লক্ষ্য ছিল তাঁর, তা আজও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এই পর্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম। পর্বটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম।

এরপর ‘আগামীর জন্য নির্মাণ: প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবন ও গুণগতমান’ শিরোনামের পর্বে অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রথমে মানুষের মধ্যে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ আমাদের কাছে আসবে, সেই অপেক্ষা না করে আমরাই মানুষের কাছে গিয়েছি। যখন তালতলা বস্তি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে, মাঠকর্মীরা তাঁদের কাছে যেতেন, কী ঘটেছে তা নথিবদ্ধ করতেন, প্রমাণ সংগ্রহ করতেন এবং তাঁরা কী ধরনের সহায়তা চান বা কী প্রয়োজন, তা বোঝার চেষ্টা করতেন।’

আইসিডিডিআরবির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী বলেন, ‘আমাদের দেশে অর্থের অভাব রয়েছে, বিজ্ঞানের বিষয়ে চিন্তার অভাব রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ উদ্ভাবন নিয়ে অনেক কথা বলে, কিন্তু অনেক সময় তারা আসলে কী নিয়ে কথা বলছে, সেটিই পরিষ্কার নয়।’ তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগে তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করেন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যাতে এই টিকা ব্যবহার করা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে তিনি কাজ করেছেন। টিকা তৈরি করা এক বিষয়, কিন্তু কীভাবে সেই টিকাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে এবং কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ পর্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী ও রেনাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ছেলে। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ফারাবী হাফিজ।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী সাজেদা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক সাজেদা হুমায়ুন কবির, দুই মেয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদা ফিজ্জা কবির এবং লিগ্যাল, সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্টেগ্রিটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির।

Get latest updates of CPD's research, policy discourse, publications, and events.