Originally posted in বণিকবার্তা on 15 March 2026
জ্বালানি সংকটের মধ্যেই দীর্ঘ ছুটির কবলে দেশ, মূল্যস্ফীতি আরো উসকে ওঠার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের কবলে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর ফলে অর্থনীতিতেও নানা আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক-তৃতীয়াংশের বেশি বেড়েছে।
জ্বালানি সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায়। এমন নাজুক ও জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি। আনুষ্ঠানিকভাবে এর মেয়াদ টানা সাতদিন হলেও মার্চের বাকি দিনগুলোতেও দেশজুড়ে ছুটির আমেজ থাকবে । কারণ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় শুক্র-শনিসহ আবারো টানা তিনদিনের ছুটি থাকবে। দীর্ঘ এ ছুটির প্রভাবে দেশে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আরো উসকে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লম্বা ছুটি মূল্যস্ফীতিকে কীভাবে উসকে দেয় সেটির উদাহরণ ছিল গত বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটি। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা নয়দিনের ছুটি ছিল। আর সে বছর ঈদুল আজহায় ছুটি বেড়ে ১০ দিনে গিয়ে ঠেকে। ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটি শেষ হয়েছিল ১৪ জুন। এ ছুটির প্রভাবে বাজারে চাল, ডিম, মুরগি, সবজিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। ঈদুল আজহার লম্বা ছুটির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায়ও উঠে আসে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারের তথ্য বলছে, গত দুই সপ্তাহে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২-৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কোনো কোনো বাজারে কেজিতে ৩৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। আর ব্রয়লার মুরগি ২৫০ টাকার বেশি। ঊর্ধ্বমুখী ডিমের দামও। বাজারে বাড়ছে সব ধরনের সবজির দাম। দীর্ঘ ছুটিতে বড় শহরের মানুষ ঈদ উদযাপন করতে গ্রামে যাচ্ছেন। এতে শহরের তুলনায় বেশি দূরত্বে থাকা গ্রামে পণ্য পরিবহন বেড়েছে। সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।
অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর টানা ছুটি থাকলেও অর্থনীতি নিয়ে বাড়তি কোনো শঙ্কা ছিল না। কিন্তু এবার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশে অনেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে চাহিদামতো জ্বালানি তেল মিলছে না। এরই মধ্যে পণ্য পরিবহন ব্যয় ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে। লম্বা দূরত্বে পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রাক মিলছে না। ঈদের ছুটি শুরু হলে এ সংকট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বিনিয়োগ খরা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতাসহ দেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি গত কয়েক বছর ধরেই নাজুক। এমন অবস্থায় দীর্ঘ ছুটি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সারা বছরই এ দিবস, সে দিবস বলে সরকারি ছুটি থাকে। তার মধ্যে উৎসবকে কেন্দ্র করে এত বড় ছুটি পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকেই বিপদে ফেলে দিচ্ছে। দুই মাস পর দেশ আবারো একটি দীর্ঘ ছুটির কবলে পড়বে। আমার মনে হয় না, বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত সরকারি ছুটি হয়। চীনারা সারা বছর কাজ করে নববর্ষে দীর্ঘ ছুটিতে যায়। কিন্তু আমাদের সারা বছর এত ছুটি থাকার পরও উৎসব উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি অর্থহীন।’
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘গোটা বিশ্ব এখন এক রকম দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশের সরকারের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। টানা ছুটির অর্থ হলো দেশের প্রতিটি কাজ ৭-১০ দিন একই জায়গায় থমকে থাকা। অফিস-আদালত, কলকারখানা, উৎপাদন থেকে শুরু করে সবকিছুই বন্ধ। আর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। মূল্যস্ফীতি আরো উসকে উঠবে। এ রকম অবস্থায় সুদহার বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা তো অর্থহীন হয়ে যায়।’
দীর্ঘ ছুটি আমদানি-রফতানিসহ অর্থনীতির জন্য বড় বিপদের কারণ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত অমূল্য। দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রেও দীর্ঘ ছুটির বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কোনো জাহাজ যদি বন্দরে পাঁচদিন বসে থাকে, তাহলে সেটির ক্ষতিপূরণ দেশের ভোক্তাদের ওপরই বর্তাবে।’
দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম এরই মধ্যে ব্যাহত হতে শুরু করেছে। পণ্য পরিবহনে ভুক্তভোগী শিল্পগ্রুপগুলোর একটি দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য পরিবহনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাক ব্যবহৃত হয়। এসব ট্রাকের জ্বালানি সাধারণত ডিপো থেকে সংগ্রহ করা হলেও কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় অনেক ট্রাক চালানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে মেঘনা গ্রুপের আমদানীকৃত কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিপিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিদেশ থেকে মেঘনা গ্রুপের আমদানীকৃত কাঁচামাল মাদার ভেসেল থেকে প্রায় ১৩০টি লাইটারেজের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অবস্থিত কারখানায় আনা হয়। পরে এসব কারখানায় উৎপাদিত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহস্রাধিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
পরিস্থিতি সম্পর্ক জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানির অভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। কাঁচামাল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সময়মতো পণ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বন্দরে জ্বালানি তেল নিয়মিতভাবে আসছে বলে আশ্বস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে আমরা তা পাচ্ছি না। নদীপথে লাইটার জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল আনা কিংবা সড়কপথে পণ্য পাঠানো দুই ক্ষেত্রেই বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভাউচারে যে পরিমাণ ডিজেল দেয়া হচ্ছে তা শুধু আমাদের ট্রাকগুলোর প্রয়োজনের তুলনায়ও কম। জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে ভোগ্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি দুটিই দেখা দিতে পারে।’
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের আরেক বড় শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। প্রতিষ্ঠানটির ট্রাক প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় বাজারের পণ্য সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। টিকে গ্রুপের বিজনেস ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোফাসসেল হক বলেন, ‘বর্তমান তেল সংকট আমাদের সাপ্লাই চেইনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পণ্য পরিবহন ও ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় ডেলিভারি ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনের চাহিদার ৩০ শতাংশ জ্বালানি পাচ্ছি না। মূলত রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। কারখানা থেকে পণ্য ডিপো পর্যন্ত কোনোভাবে পরিবহন করা গেলেও ডিপো থেকে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বাজারে পৌঁছতে বড় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে এবং ভোক্তাকেই শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হবে।’
জ্বালানি সংকটে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ‘বনস্পতি’ বাণিজ্য সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের নিজস্ব পরিবহনের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করা যাচ্ছে না, এমনকি ভাড়ার যানবাহনও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ ছুটি শেষ হবে ২৩ মার্চ। এরপর ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা। এরপর ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। আর ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় এ দুই দিনও ছুটি থাকবে।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৪ ও ২৫ মার্চের জন্যও ছুটি নিচ্ছেন। এতে ১৭ মার্চে শুরু হওয়া ছুটির আবহ ২৮ মার্চ রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সে হিসাবে সরকারি অফিসগুলোতে ছুটি কিংবা ছুটির আমেজ থাকবে টানা ১২ দিন।
দেশে ২০২২ সালের শুরু থেকেই মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। আর ২০২৩ ও ২০২৪ সালজুড়ে এ হার ছিল দুই অংকের ঘরে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হয়। ওই বছরের অক্টোবরে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নামলেও এর পর থেকে মূল্যস্ফীতি আবারো ঊর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ টানা চার মাস ঊর্ধ্বমুখী থেকে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবেই মূল্যস্ফীতিতে এ চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
গত বছরের ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি কীভাবে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিয়েছিল সেটি উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণায়। ওই বছরের ১৫ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত দেশের ১৮ জেলার ৬১টি উপজেলায় কৃষিপণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে জরিপ চালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউনিট ও গভর্নরের দপ্তর। ‘আ স্টাডি অন ভ্যালু চেইন ইফিশিয়েন্সি অব দি এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টস ইন বাংলাদেশ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শিরোনামে যৌথভাবে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেশের বাজারের মোটা ও সরু চাল নিয়ে জরিপ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, জরিপ পরিচালনাকালে দেশের বাজারে মোটা চালের খুচরা বিক্রয়মূল্য ছিল ৬১ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে দাম ছিল ৫৫ টাকা। একই সময়ে সরু চালের দাম ছিল ৭৮ টাকা; যা এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা কেজি দরে। এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারে মোটা ও সরু চালের দাম বাড়ে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৯ ও ১১ শতাংশ। দর বৃদ্ধির পেছনে ঈদুল আজহার লম্বা ছুটি অন্যতম প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহার সময় অধিকাংশ চালকল টানা ১০ দিন বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ধান কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রি না করে মজুদ করেন। ঈদের পর মিলগুলো একসঙ্গে উৎপাদনে ফিরলে ধানের চাহিদা বেড়ে যায়, কিন্তু বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় ধানের দাম বাড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে চালের দামে। তবে ঈদের লম্বা ছুটির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ, মজুরি ও সেচ খরচ বৃদ্ধি, চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়া, অন্য পণ্য উৎপাদনে ঝুঁকে পড়া, আমদানির ওপর শুল্কারোপও চালের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে উঠে আসে এ গবেষণাপত্রে।


