Friday, April 3, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

জ্বালানি সংকটে তিন খাতে চাপ, ভর্তুকি ও আইএমএফ শর্তে নীতিগত অসামঞ্জস্য – ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

Originally posted in দৈনিক ইনকিলাব on 2 April 2026

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে : অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে মন্দা ও শিল্প-বাণিজ্য চরম বিপর্যস্ত এবং ভঙ্গুর শেয়ারবাজারে ‘বিদেশ থেকে বিনিয়োগ কি পরিমাণ আসবে’ এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারের পদক্ষেপের ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করা উচিত

বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির পথে দেশ!

দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে কার্যত ভঙ্গুর অবস্থা বিরাজমান। তবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে (পুনরুজ্জীবিত) সরকারের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সরকার ঋণ ও টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ঢালাওভাবে টাকা ছাপানোর যে প্রবণতা, তা থেকে বেরিয়ে আসবে সরকার। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হলে অর্থনীতিকে আগে শক্তিশালী করতে হবে। আর সেই শক্তির মূল উৎস হবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আর্থিক খাত থেকে শুরু করে সর্বত্রই যুক্তযুক্ত মনে হলেও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে সরকারের যে পরিকল্পনা তা সবাইকে জানানো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এই বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে বা কোন কোন দেশ সহযোগিতার কথা বলেছে। অথবা কোন কোন দেশের সঙ্গে কথা হচ্ছে। কি পরিমাণে বিনিয়োগ আসবেÑ এ সব কিছু তুলে ধরারও কথা বলেছেন আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা। কারণ দেশের ব্যাংকিং খাত চরম মন্দার মধ্যে চলছে। সেখান থেকেও ইতোমধ্যে অধিক পরিমাণে ঋণ নেয়া হয়েছে। আবার শেয়ারবাজারও ভঙ্গুর। স্বৈরাচার হাসিনার লুটপাটের সময় বাদ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিপর্যস্ত শেয়ারবাজার। চরম অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি ধসের সম্মুখীন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে। ধারাবাহিক দরপতন, লেনদেনে খরা, বিএসইসি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ ও ভুলনীতি এবং সংস্কার উদ্যোগের অভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা।

এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম পোশাক খাতে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ে রফতানি ব্যাহত এবং ইউরোপসহ পোশাকের বৈশ্বিক বাজার বিপর্যস্ত। যে কারণে চলতি বছরে পোশাক ও বস্ত্র খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তার শঙ্কা জেগেছে। যা আগামী দিনে রফতানি আয়কে বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া আগামী দিনে বিনিয়োগের অন্যতম নির্দেশক মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ বেসরকারি খাতের বিকাশে তেমন কোনো আমদানি নেই। ‘কান্ট্রি রেটিং’ খারাপ হওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলোও আগের মতো ক্রেডিট লাইনও দিচ্ছে না। দেশের এক ডজনের বেশি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অবস্থা খুবই নাজুক। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে। যা আগামী দিনে দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করবে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব মতে, দেশে বর্তমানে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। ইতোমধ্যে যুব বেকারত্বের হার এবং উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের মতে, অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিয়েছেন তা যথার্থ বা যুক্তিসঙ্গত। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং আগামী দিনে যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। আর এ জন্য এই পরিকল্পনার সঙ্গে যা কিছু আছে তা এখনই সবার সামনে তুলে ধরা যাতে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এগোতে পারে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। এতে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মুখে। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে চলমান জ্বালানি সঙ্কট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে অর্থনীতি চাপে রয়েছে। যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ড. দেবপ্রিয় বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান চাঙা করতে তিনি নতুন সরকারের প্রতি বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন ও সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিনিয়োগের বাধা দূর করা, নীতিগত সংস্কার এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব দিয়েছেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জ্বালানি সঙ্কট রাজস্বনীতি, বৈদেশিক খাত ও মুদ্রানীতি এই তিনটি ক্ষেত্রেই একযোগে চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির অধীনে দেয়া সংস্কার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের আইএমএফ শর্ত পূরণ এবং একই সঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বজায় রাখার মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা ইনকিলাবকে বলেন, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজমান। শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফিতী ইতোমধ্যে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির মূল্যস্ফিতী ছিল ৪ শতাংশ। যা চলতি বছরে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম চীন। তাই দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দ্রুত চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে বড় বিনিয়োগে তাদের আগ্রহী করে তুলতে হবে।

স্বৈরাচার হাসিনার অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুটপাটে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন থেকে গভীর সঙ্কটে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে আবার ১০ শতাংশের কাছে। উচ্চ পণ্যমূল্য দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এক রকম স্থবিরতা চলছে আগের দুই সরকারের আমল থেকেই। রফতানি আয় কমছে। অর্থের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী ব্যাংক ব্যবস্থা এখনো নড়বড়ে অবস্থায় আছে। যদিও সেই ব্যাংক খাত থেকেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এই ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে নেয়া ঋণের পুরোটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। ওই সময় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকা-ের গতি মন্থর ছিল। ফলে উন্নয়নের চেয়ে ঋণের বড় অংশই খরচ হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাবদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় আটগুণ। অন্যদিকে রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ায় সরকারের আয়েও চলছে টানাপড়েন। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো মাত্র ৮ শতাংশের মতো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। বর্তমানে অর্থনীতিতে এ রকম আরো কিছু ক্ষত রয়েছে, যা নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরো দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতির এসব ক্ষত আরো গভীর করে তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে (ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র) চলমান যুদ্ধ আগে থেকেই ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ চেইন বিঘিœত হওয়া, মূল্যস্ফীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এখনো ঊর্ধ্বগতি বিরাজমান থাকলেও আগামী দিনের জন্য শঙ্কা এবং রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করবে।

বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিগত সরকার থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘খুবই খারাপ’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারকে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যেমনÑ ভঙ্গুর অর্থনীতিকে উদ্ধার করা, নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলানো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পদ আহরণ বা ‘রিসোর্স মোবিলাইজেশনকে’ বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে সরকার।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন বন্ধ করার আশ্বাস দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত পলিসি অপরিবর্তিত রাখা হবে। এছাড়া বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বড় ধরনের ‘ডিরেগুলেশন’ বা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ফিনান্সিয়াল সেক্টর এবং ক্যাপিটাল মার্কেটে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। বাজেট প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলোÑ সমাজের বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো চালু থাকবে। বাজেটের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না। তাদের পাওনা নিশ্চিত করেই সামগ্রিক বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।

রফতানি খাতে কেবল গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর না থেকে অন্যান্য সেক্টরকেও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মতো সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার, এমন তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় জাপান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়াটিও চলমান রয়েছে।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.