Originally posted in কালেরকন্ঠ on 25 October 2026
এশিয়ায় বাণিজ্য বাড়ছে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক পরিবর্তনের হাওয়া সর্বত্র। এর প্রভাব পড়েছে এশিয়ায়ও।
পরিবর্তনের ডামাডোলে ক্রমেই এশিয়া হয়ে উঠছে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র। এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলো বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো অর্থনীতিকে ঘিরে বাড়ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পোৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগও গভীর হচ্ছে। এর বিপরীতে এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো সীমিত।
তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে দুর্বল সংযোগের কারণে সুযোগ হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য বেড়েছে ২৩.৯ শতাংশ। একই সময়ে উচ্চ প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য বেড়েছে ৫০.৩ শতাংশ। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১.৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এশিয়ার বাজারে সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, ভৌগোলিক নৈকট্য, প্রতিষ্ঠিত উৎপাদন সক্ষমতা ও তুলনামূলক কম ব্যয় কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব, সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা ও বাণিজ্যচুক্তির সীমাবদ্ধতা সেই সুযোগ কাজে লাগানোর পথে বাধা হয়ে আছে।
অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পশ্চিমা দেশগুলোর যে প্রভাব ছিল, তা কমছে। এশিয়া এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ অঞ্চলের রপ্তানি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তি বেড়েছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈদেশিক সাহায্য, বিনিয়োগ ও মূলধনের জন্য আগের মতো পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল নয়।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে আসার প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে।
এক পণ্যে নির্ভরতায় সুযোগ হাতছাড়া : বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বড় দুর্বলতা পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০.৬২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। পোশাকের বাইরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। যদিও একই অর্থবছরে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২১.৮ শতাংশ এবং ওষুধের ১১.৯ শতাংশ, মোট রপ্তানিতে এসব খাতের অংশ এখনো ছোট।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৈচিত্র্যহীন কৌশল ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ নতুন বাজারের পূর্ণ সুযোগ নিতে পারছে না। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাজারে চীন ও ভিয়েতনাম এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা স্থাপন, গবেষণা ও বিপণন ইউরোপ-আমেরিকাকেন্দ্রিক থাকায় নতুন বাজার ও পণ্যে বিনিয়োগের প্রবণতা গড়ে ওঠেনি। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবের মতো বাজারে উচ্চ মূল্যসংযোজিত পোশাকের চাহিদা থাকলেও দ্রুত সরবরাহ ও উন্নতমানের পণ্য তৈরির সক্ষমতার ঘাটতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পোশাক খাতকে পরবর্তী স্তরে নিতে নিম্ন মূল্যসংযোজিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উন্নতমানের পণ্য, গবেষণা ও গতিশীল সরবরাহব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
চীন-ভারতে রপ্তানি বাড়লেও ঘাটতি বড় : রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চীনে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৩৩ শতাংশ বেশি। ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫১ কোটি ডলারের, প্রবৃদ্ধি ৫.৪৪ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৭.২৯ শতাংশ। জাপানে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ডলারের পণ্য।
তবে রপ্তানি বাড়লেও চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বড়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে এক হাজার ৮৫৬ কোটি ডলারের পণ্য; অথচ রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৭৮৬ কোটি ডলার। একই অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে আমদানি ছিল ৯৬২ কোটি ডলার, রপ্তানি ১৭৬ কোটি ডলার। ঘাটতি প্রায় ৭৮৬ কোটি ডলার।
চীন থেকে বাংলাদেশ শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য, কাপড় ও সুতা আমদানি করে। ভারত থেকেও আসে তুলা, সুতা, কাপড়, খাদ্যশস্য ও বিভিন্ন শিল্পের উপকরণ। এসব পণ্যের অনেকই দেশের উৎপাদন ও রপ্তানিশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই আমদানি কমিয়ে ঘাটতি কমানোর চেয়ে রপ্তানি বাড়ানো, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আমদানি করা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি শুধু চীন ও ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩৫৮ কোটি ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২৮০ কোটি ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২০১ কোটি ডলার। দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যে ঘাটতি রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পণ্য আমদানি দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ১১৪ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০.৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি আয় ছিল চার হাজার ৩৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার, আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এশিয়ার বাজারে প্রবৃদ্ধি, বাংলাদেশের প্রস্তুতি কোথায় : চীনের শুল্ক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এপেকের অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ সাত হাজার কোটি ইউয়ান, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩.৯ শতাংশ বেশি। এ বাণিজ্য চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৬০.৩ শতাংশ। একই সময়ে এপেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের উচ্চ প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য বেড়ে ছয় লাখ ৬৬ হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ আমদানিও বেড়েছে ৫৬ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। একই সময়ে চীনের প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ এবং ভারতের ৭ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, বাণিজ্য উত্তেজনা ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এশিয়ার এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য সরাসরি রপ্তানি বৃদ্ধির নিশ্চয়তা নয়। সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আঞ্চলিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যন্ত্রাংশ, মধ্যবর্তী পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও তথ্য-প্রযুক্তি সেবার বাজার তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের মান, উৎপাদনশীলতা, দক্ষ জনবল ও সরবরাহের সময় নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ এপেকের সদস্য না হলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার ও আঞ্চলিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাবসায়িক সংযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
আসিয়ান বাজারেও বাধা : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের বাজার বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের জন্য সম্ভাবনাময় হলেও সেখানে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি সীমিত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্যচুক্তি না থাকায় উচ্চ শুল্কের মুখে ভারতসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে উঠছেন না রপ্তানিকারকরা।
পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাণ গ্রুপ আগামী পাঁচ বছরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ১০ কোটি ডলারের বেশি খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে চায়। লক্ষ্যবাজার ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুর। তবে উচ্চ শুল্কহার এবং বাংলাদেশি হালাল সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে আসিয়ানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি না থাকায় বড় শুল্ক দিয়ে পণ্য পাঠাতে হয়। এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যায়।’
১৮টি বাজারে দেশভিত্তিক কৌশল : রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যের জন্য পৃথক কৌশল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মশালায় জানানো হয়, এসব বাজারের চাহিদা, বাণিজ্য বাধা, প্রতিযোগী দেশ ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য বিশ্লেষণ করে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকায় চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন বাজার রয়েছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, তথ্য-প্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক সেবা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রপ্তানির ভিত্তি বিস্তৃত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে প্রত্যাশা : এশিয়ার বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি জাপানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবরের জাপান সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে উৎপাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, গাড়ি ও যন্ত্রাংশ, পরিবহন অবকাঠামো, জ্বালানি এবং জলবায়ু সহনশীলতা খাতের প্রকল্প রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৩৮টি; ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার। জাপান থেকে আমদানি ছিল ২.০৬ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১.৩৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে।
জাপানের বাজারে বাংলাদেশ বছরে ১৪০ কোটি ডলারের বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই পোশাক। বিজিএমইএ জাপানে পোশাক রপ্তানি বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণে কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা, করসংক্রান্ত জটিলতা, অর্থ পরিশোধের সমস্যা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে হবে। আড়াইহাজারে জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ও দক্ষ কর্মী তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ।


