Tuesday, March 10, 2026
spot_img
Home CPD in the Media CPD events mention

CPD event discussion on Indian election cited

Discussion on CPD in-house seminar on “Election with a Difference: Analysing the Verdict of Indian Elections in 2014” held on 11 December 2014, was cited in a column published in Samakal on Monday, 15 December 2014.

সময়ের কথা

ভারতের নির্বাচন :নরেন্দ্র মোদি বনাম কংগ্রেস

অজয় দাশগুপ্ত

untitled-6_105128

ভারতে লোকসভার নির্বাচন হয়েছে এপ্রিল-মে মাসে। নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। এ নির্বাচনের আগে একাধিক সংস্থা জরিপ পরিচালনা করেছে। ফল প্রকাশের পরও তার বিশ্লেষণ করেছে একাধিক সংস্থা। এ ধরনেরই একটি সংস্থা সিএসডিএস_ সেন্টার ফর দি স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটি। নির্বাচনের পূর্বাভাস বিষয়ে সিএসডিএসের জরিপের ফল অনেকটাই মিলে গিয়েছিল। সম্প্রতি এ সংস্থার পরিচালক সঞ্জয় কুমার ঢাকা এসেছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ বা সিপিডির আমন্ত্রণে। তিনি এ নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে বক্তব্য রাখেন সিপিডির লালমাটিয়ার কার্যালয়ে। অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান।

সঞ্জয় কুমারের গবেষণামূলক কাজের বেশিরভাগ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। তার কয়েকটি বইয়ের তালিকা দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ অ্যান্ড ইলেকটোরাল পলিটিক্স :অ্যান এমার্জিং এনগেজমেন্ট, চেঞ্জিং ইলেকটোরাল পলিটিক্স ইন দিলি্ল :ফ্রম কাস্ট টু ক্লাস এবং প্রাভীন রাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে মেজারিং ভোটিং বিহেভিয়ার ইন ইন্ডিয়া। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার পর একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকে অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ওসমান ফারুক, সাবেক সচিব ও বিএনপি নেতা এনাম আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক এমএম আকাশ, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সিপিডির ড. খোন্দকার গোলাম মোস্তফা, ব্রতীর শারমিন মোরশেদ প্রমুখের কাছ থেকে।

একটি প্রশ্ন ছিল_ নির্বাচনের বেশ আগে বিজেপি নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীপদে দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। কংগ্রেস কেন রাহুল গান্ধীকে সেটা করেনি! উত্তরে সঞ্জয় কুমার বলেন, নির্বাচনের বেশ আগেই কংগ্রেস পরাজয় নিশ্চিত বুঝে গিয়েছিল। এ অবস্থায় রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা রাজনৈতিকভাবে ঠিক হতো না বলেই দলের হাইকমান্ডে মনে করেছে। সে পরাজয় তখন রাহুলেরও পরাজয় হিসেবে গণ্য হতো। প্রকৃতপক্ষে, কংগ্রেস হাইকমান্ড বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধী ভেবেচিন্তেই এটা করেছেন।

এর ধারাবাহিকতাতেই প্রশ্ন আসে_ রাহুল গান্ধী কংগ্রেস দলের সম্পদ না বোঝা_ উত্তরে সঞ্জয় কুমার বলেন, সম্পদ এবং বোঝা, দু’ভাবেই বলা যায়। সম্পদ এ অর্থে যে, তিনি কিংবা সোনিয়া গান্ধী দলের হাল না ধরলে কংগ্রেসে নেতৃত্ব নিয়ে এমন কোন্দল দেখা দেবে যে, ঐতিহ্যবাহী দলটি ৪-৫ ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে। নেহরু-গান্ধী পরিবার দলের ঐক্যের সূত্র হিসেবে কাজ করছে। আবার ‘বোঝা’ এ অর্থে যে, তিনি উদ্যমী, নিষ্ঠাবান এবং জনদরদি হলেও ‘হিজ হার্ট ইজ নট ইন পলিটিক্স’। তাকে যেন রাজনীতির মাঠে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটাও বলা হয় যে, রাহুল গান্ধীই বিজেপির জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। সঞ্জয় কুমার হেসে বলেন, কেউ কেউ বলছেন_ রাহুল এবং কংগ্রেসের অপর শীর্ষ নেতা মনি শংকর আয়ারই বিজেপির শ্রেষ্ঠ প্রচারক। তিনি এ তথ্যও তুলে ধরেন যে, নির্বাচনের আগের ৮ মাসে নরেন্দ্র মোদি প্রায় তিন হাজার জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি অন্তত চারশ’ দলীয় প্রার্থীর সমাবেশে গেছেন। সে তুলনায় রাহুল গান্ধী হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদির মাত্র ১০ ভাগের মতো সমাবেশে_ তিনি তিনশ’ সভা-সমাবেশে এবং ১০০ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাচনে প্রচারমাধ্যমে কংগ্রেসের তুলনায় বিজেপি এবং রাহুল গান্ধীর তুলনায় নরেন্দ্র মোদি অনেক বেশি কভারেজ পেয়েছেন। মিডিয়া যদি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে, তাহলেও যিনি বেশি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তার কভারেজই বেশি দেবে।

সঞ্জয় কুমার এটাও বলেন যে, নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর জনমত আরও বেশি বিজেপি জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়, ২০১৪ সালের এপ্রিলে এ ধরনের প্রশ্নে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা নরেন্দ্র মোদির নাম করেন। কংগ্রেসের সোনিয়া, রাহুল ও মনমোহন সিংয়ের নাম উল্লেখ করেছেন এর অর্ধেক সংখ্যক উত্তরদাতা। জনমত জরিপ থেকে এটাও জানা যায় যে, মোদিকে বিজেপি প্রার্থী না করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অন্য কোনো দলকে ভোট দিত। প্রকৃতপক্ষে এবারের নির্বাচনে মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ভোটারদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যেখানে রাহুল গান্ধী হেরে গেছেন।

উন্নয়নে গুজরাট রাজ্য সেরা এবং তার কৃতিত্ব নরেন্দ্র মোদির_ এমন প্রচার ব্যাপকভাবে করা হয় এবং জনগণের মনে এ ধারণা গেঁথেও যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক সূচকে গুজরাটের অবস্থান ভারতে ষষ্ঠ। গুজরাটই এগিয়ে_ প্রকৃতপক্ষে এটা হচ্ছে কেবলই একটি ধারণা, যা পুরোপুরি সঠিক ছিল না। এ ধারণা সৃষ্টির পেছনে গ্রামের তুলনায় শহরগুলোর অধিবাসীরা বেশি ভূমিকা রেখেছেন। জনগণের মধ্যে এ ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টির জন্য সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অবদানের কথা তিনি উল্লেখ করেন। এটাও জরিপ থেকে জানা গেছে যে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে এসেছে, জনগণ তত বেশি টেলিভিশন দেখেছে ও পত্রিকা পড়েছে। এর ফলে বিজেপির প্রতি ঝুঁকে পড়ার হারও বেড়েছে। বিজেপির প্রচার কৌশলও খুব কাজ দিয়েছে। তারা জনমত গঠনে আগ্রাসী প্রচার চালিয়েছে।

নির্বাচনে কার কত ব্যয়_ এ প্রশ্ন রাখা হয় সঞ্জয় কুমারের কাছে। তিনি বলেন, সঠিক হিসাব কষা সহজ নয়। অনুমানেও বিস্তর পার্থক্য। কেউ বলেন, বিজেপি প্রার্থীরা গড়ে কংগ্রেসের তুলনায় ২০ গুণ ব্যয় করেছে। কেউবা বলেন ৫০ গুণের কথা। তবে বিজেপি যে বিপুল ব্যয় করেছে এবং কংগ্রেস ক্ষমতাসীন হয়েও তাদের ধারেকাছে যেতে পারেনি, সেটা নিয়ে দ্বিমত করার লোক মিলবে খুব কম। তারা কর্মীদের সমাবেশ ঘটিয়েছে প্রতিটি বুথ ধরে। প্রত্যেক কর্মীকে তারা এক পৃষ্ঠার একটি তালিকা ধরিয়ে দিয়ে কেবল তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে বলেছে। তাদের হয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন, যারা প্রচারের জন্য বক্তব্য তৈরি করে দিয়েছে নেতাদের জন্য। গণমাধ্যমেও তারা বক্তব্য পাঠিয়েছে। তবে কেবল অর্থেই জনমত পক্ষে টানা যায় না, এটা স্পষ্ট করে বলেন তিনি। এমনটি হলে ভারতের যেসব ধনী শত শত কোটি টাকার মালিক, তারা সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারতেন। আসল কথা হচ্ছে, মাঠের মনোভাব। জনগণ কোন দিকে ঝুঁকে আছে, সেটাই মূল বিষয়।

জনমত কেন কংগ্রেস থেকে সরে গেল_ এ প্রশ্নে জরিপের তথ্য তুলে ধরে সঞ্জয় কুমার বলেন, দুর্নীতি এবারে বড় ইস্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বড় বড় কেলেঙ্কারির দায় চেপেছিল ড. মনমোহন সিংয়ের ওপর। পেঁয়াজ, আলু, চাল, তেলের দাম বৃদ্ধিও ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে। মোদি ফ্যাক্টরও কাজ করেছে। তিনি সৎ_ এ প্রচার হয়েছে ব্যাপকভাবে। তদুপরি তিনি নিজেকে গুজরাট উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। তিনি একনায়কের কাজ করেন, এ প্রশ্ন কেউ কেউ তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আরও বেশি করে সামনে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জনমত বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারা দেখতে চায় কাজ হচ্ছে কিনা। সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বস্তবায়নে ভূমিকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নরেন্দ্র মোদি সেটাই করতে পারছেন। নির্বাচনে বিজেপি এসব ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে। তারা বিশেষভাবে বলেছে_ কংগ্রেস সরকার হচ্ছে দুর্নীতিবাজ সরকার; কিন্তু কংগ্রেসের কোনো ফোকাস ইস্যু ছিল না।

বহু বছর ভারতে এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, কংগ্রেস হচ্ছে উচ্চবর্ণের দল। এবারে বিজেপি এ অংশের মধ্যে ভোট আরও বাড়াতে পেরেছে। এ অংশের মধ্যে কংগ্রেস হয়েছে আরও দুর্বল। গত কয়েক বছর ‘পশ্চাৎপদ’ জনগোষ্ঠীর সমর্থন বিজেপি ও কংগ্রেসের প্রতি প্রায় সমান সমান ছিল। কিন্তু এবারে এ অংশের অনেক ভোটার কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। আদিবাসী ও দলিতরাও অনেকে কংগ্রেস ছেড়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগ দিয়েছে।

ভারতের নির্বাচনে মুসলিম ফ্যাক্টরও গুরুত্বপূর্ণ। তারা মোট ভোটারের ১২-১৩ শতাংশ। বিজেপির অনেকের মত যে, এদের ভোট পাওয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। এবারে কংগ্রেসের পক্ষে মুসলিম ভোট আগের মতোই রয়েছে। বিজেপি মুসলিম ভোট পেয়েছে ৮ শতাংশ। যেসব রাজ্যে মুসলিম ভোট তুলনামূলক বেশি, সেখানে তারা ভালো করেনি। বিশাল ভারতে ৮০ কোটি ভোটারের মধ্যে তারা এ ভোট পেয়েছে। ভারতে প্রায় ৭০টি আসন রয়েছে, যেখানে প্রতিটিতে মুসলিম ভোট মোট ভোটারের ৩০ শতাংশ বা তার বেশি। ২০-২৫ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে আরও কিছু আসনে। মুসলিমরা জোট বেঁধে বা ব্লকে ভোট দেয়, এমনটি দেখা যায়। এ কারণে বিজেপির পক্ষে পাল্টা মেরুকরণ ঘটে থাকতে পারে। তারা হিন্দুত্ববাদের পক্ষে সেখানে প্রচার করেছেন। দেখা গেছে, যেসব আসনে মুসলিম বেশি সেখানে তাদের মধ্যে বিজেপির ভোটার নেই। বিহারে নীতিশ কুমারের দল এবং পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির দল মুসলিমদের বড় অংশের ভোট পেয়েছে। নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল বিজেপি মুসলিমদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে সচেষ্ট হবেন কিনা, সে প্রশ্ন কেউ কেউ করেছেন। এর উত্তরে সঞ্জয় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম রয়েছেন। তাদের ভোটের বড় অংশ পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ রাজ্যের নির্বাচন সামনে এবং সেখানে বিজেপি মুসলিমবিরোধী ভোট নিজের পক্ষে টানার জন্য সচেষ্ট রয়েছে। এভাবে মেরুকরণ হলেই তাদের সুবিধা। তবে সব রাজ্যে একই পন্থা অনুসরণ করবে কিনা, সেটা স্পষ্ট নয়। দলটি যদি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি অনুসরণ করে, তবে জাতীয়ভাবে জনপ্রিয়তা হারানোর ভয় রয়েছে।

তরুণদের মধ্যেও বিজেপি সমর্থন বাড়াতে পেরেছে। যারা প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছে তাদের বড় অংশ নরেন্দ্র মোদিকেই যোগ্য মনে করেছে। যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছর অর্থাৎ ফার্স্ট টাইম ভোটার তাদের ৪৩ শতাংশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে দেখতে চেয়েছে। বিজেপি দেশের মোট ভোটের মাত্র ৩১ শতাংশ পেয়েছে; কিন্তু প্রথমবারের মতো যারা ভোটার হয়েছে তাদের ৩৬ শতাংশের ভোট পেয়েছে।

বিজেপি ও কংগ্রেস নির্বাচনে যে ভোট পেয়েছে তাতে নারী ও পুরুষের ভাগ প্রায় সমান। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি এবং তামিলনাড়ূতে জয়ললিতার দল নারী সমাজের ভোট তুলনামূলক বেশি পায়।

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সম্পর্কে অভিযোগ ছিল যে, তিনি কথা বলেন না। নীরব থাকেন। সিদ্ধান্ত নেন না। কর্তৃত্বের প্রয়োগ ঘটান না। নরেন্দ্র মোদিও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিতর্কিত বিষয়ে নীরব থাকছেন। এখন পর্যন্ত এটা তার পক্ষে কাজ করছে। তিনি দুর্নীতিতে যুক্ত নেই, এটা দেশবাসী মনে করে। তবে দলের মধ্যে যারা ‘টাকা কামাতে চান’ তারা এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি বেশি সময় কাজ করেন এবং অন্যদের কাছ থেকেও সেটা দাবি করেন। জনগণ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। রাজ্যনেতারা অনেক চেষ্টা করেও তার দর্শন পায় না, এমন অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে।

এবারে কংগ্রেস মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছে এবং মোট ভোটের পেয়েছে ১৯ শতাংশ। বিজেপি ৩১ শতাংশ ভোট পেয়েও আসন পেয়েছে ২৮৩টি। এত আসন পাবে, সেটা দলের নেতারাও ভাবেননি। এ প্রসঙ্গে সঞ্জয় কুমার একটি চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরেন_ বিজেপি যেসব আসনে জয়ী হয়েছে তার বেশিরভাগে জয়ী ও প্রধান প্রতিপক্ষের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি। কিন্তু কংগ্রেস যে মাত্র ৪৪ আসনে জয়ী হয়েছে সেগুলোতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের এত ব্যবধান নেই। যদি কংগ্রেস আর এক থেকে দুই শতাংশ ভোট কম পেত, তাহলে তাদের আসন তৃণমূল কংগ্রেস বা জয়ললিতার দলের থেকেও কমে যেতে পারত।

নির্বাচনের পর নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তিনি নিজেকে আরও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সচেষ্ট রয়েছেন। ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনও কম নেই। তিনি নিজেকে এ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছেন এবং কিছুটা সফলতাও পাচ্ছেন। তাকে ইতিমধ্যেই ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তো ভাবছেন, তিনি পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরুর মতো সফল নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। তবে ইতিমধ্যেই একটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বলে সঞ্জয় কুমার জানান_ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা কম বলেন, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কিছু কাজ তো তাকে করে দেখাতে হবে। মনমোহন সিংকে পুতুল প্রধানমন্ত্রী মনে করা হতো। তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন না। নরেন্দ্র মোদি যে পুতুল নন, সেটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।

পাদটীকা :সিপিডিতে সঞ্জয় কুমারের উপস্থাপনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে কেউ একজন মুক্ত প্রশ্ন রাখলেন_ হাউ টু উইন এ ইলেকশন? আরেকজন বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে বললেন_ নির্বাচন কীভাবে লড়তে হয়, কিছু বোঝা গেল?

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.