Originally posted in বাংলাদেশ প্রতিদিন on 2 January 2026
২০২৫ সাল বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মানুষ দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে বলে আশা করেছিল। সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার ওপর চাপ তৈরি করে রেখেছে। এ সময় বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার আগের শেষ বছরে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এসব পরিবর্তন একদিকে চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও অন্যদিকে অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ ও আশার জন্ম দিচ্ছে। তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে হলে নীতি, আইন এবং প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে সিপিডির গবেষকেরা পুরো বছর কাজ করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন খাতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। পাশাপাশি সরকারের দেওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও সিপিডি কাজ করেছে। এসব গবেষণা সামষ্টিক অর্থনীতি, জাতীয় বাজেট এবং বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সিপিডি মোট ৫৭টি গবেষণা ও প্রকাশনা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ছিল গবেষণা প্রতিবেদন, নীতিপত্র, বই, আলোচনা পত্র, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের নিয়মিত বিশ্লেষণ এবং মাসিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন। এ ছাড়া সিপিডি সারা দেশে ও বিদেশে মোট ১৩২টি সভা, আলোচনা ও কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ছিল সংলাপ, সম্মেলন, গোলটেবিল আলোচনা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, গণমাধ্যম ব্রিফিং এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। চলতি বছরে সিপিডির বোর্ডের সম্মানিত সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং অ্যাপেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মনজুর এলাহীকে হারিয়েছে। তাঁদের অবদান ও নেতৃত্বের জন্য সিপিডি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছে এবং তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।
একই সঙ্গে সিপিডির বোর্ডে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়েরকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা সিপিডির কাজকে আরও শক্তিশালী করবে। ২০২৬ সালে সিপিডি একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বাধীন গবেষণা, গঠনমূলক আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কাজে সহকর্মী, বোর্ড সদস্য, অংশীদার ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নতুন বছরে সবার জন্য শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করছি।
লেখক : ড. ফাহমিদা খাতুন, নির্বাহী পরিচালক, সিপিডি



