আয়বৈষম্য বাড়ছে, প্রবৃদ্ধির সুফল কমছে দারিদ্র্য বিমোচনে – মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড on 18 October 2026

দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ স্থবিরতায় দেশের ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ ‘ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্তের’ কাতারে

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশংসা হয়েছে অনেক, কিন্তু এর নেপথ্যে এক গভীর ও জটিল কাঠামোগত সংকট ধামাচাপা পড়ে রয়েছে—যা অনিয়ন্ত্রিত দারিদ্র্য বৃদ্ধি, স্থবির বিনিয়োগ এবং সাধারণ পরিবারের চরম আর্থিক দুর্দশায় প্রকট হয়ে উঠেছে। গতকাল আয়োজিত এক সম্মেলনে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

দেশের প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ—বা মোট পরিবারের প্রায় ১৮ শতাংশ—বর্তমানে এক ‘ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্ত’ শ্রেণির আওতায় রয়েছেন। সরকারি দারিদ্র্যসীমার ঠিক সামান্য ওপরে বসবাস করলেও, এই বিশাল জনগোষ্ঠী প্রকৃত আয়ের স্থবিরতা, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং একের পর এক অর্থনৈতিক অভিঘাতের কারণে, যেকোনো মুহূর্তে ফের দরিদ্র্য হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা ‘স্টেট অব দ্য রিয়েল ইকোনমি: ডাইনামিকস অব রিভার্সালস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পিপিআরসির এই গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে ব্যয়ভিত্তিক ‘গিনি সহগ’ ২০২২ সালের ০ দশমিক ৩৩৪ থেকে বেড়ে ০ দশমিক ৪৩৬-এ দাঁড়িয়েছে—যা দেশে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রমাণ।

‘কাঠামোগত ফাঁদে’ বন্দি অর্থনীতি

পিপিআরসি-র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সতর্ক করে বলেন, এই গবেষণার তথ্যপ্রমাণ নির্দেশ করে যে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে পরিবারের চরম দুর্দশা, দুর্বল মূলধনী বিনিয়োগ এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির একটি স্ব-প্ররোচিত কাঠামোগত থাকা ফাঁদে আটকা পড়েছে।

“এটি কেবল সাময়িক কোনো অর্থনৈতিক মন্দা নয়,” উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান সরকারকে অনুরোধ করেন যে, নতুন করে কোনো কমিশন গঠন বা নীতিপত্র প্রকাশের পেছনে সময় নষ্ট না করে, যেন অবিলম্বে মৌলিক ও বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, স্বাস্থ্যসেবার পেছনে বাড়তি ব্যয় দেশের পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত, যাদের নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা খরচে পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ চলে যায়।

ড. জিল্লুর বলেন, যেকোনো স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা, চাকরি হারানো কিংবা মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সঞ্চয় বা আর্থিক নিরাপত্তাবেষ্টনী পরিবারগুলোর হাতে আর অবশিষ্ট নেই, যার ফলে ঋণের জালে জড়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। তিনি দেশের সামনে তিনটি সংকটের কথা তুলে ধরেন: পরিবার পর্যায়ে আর্থিক দুর্দশার চাপ, স্থবির বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার অভাব, এবং রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের সংকট।

পিপিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ শুধু বহিরাগত অর্থনৈতিক ধাক্কার কাছেই জিম্মি নয়। গভীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতাই বাংলাদেশকে বাইরের যেকোনো চাপের মুখে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।”

এমন সময়ে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো—যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য এক দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক মন্থরতার পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে—২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশের সামান্য ওপরে থাকবে, এবং পরবর্তী চার বছর তা বছরে ৩ শতাংশের নিচেই অবস্থান করবে।

একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১১ শতাংশের মতো উচ্চপর্যায়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টানা সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যাওয়ায়—মানুষের প্রকৃত আয় ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারের ক্রয়ক্ষমতায় ধস নামিয়েছে।

প্রবৃদ্ধি থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের হার কমছে

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে। অথচ প্রবৃদ্ধির সুফল আগের মতো দারিদ্র্য কমাতে পারছে না।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণা উদ্ধৃত করে তিনি জানান, বাংলাদেশে দারিদ্র্য নিরসনে প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা বর্তমানে প্রায় ০.৯; যেখানে সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এই অনুপাত প্রায় ১.৫। এর অর্থ দাঁড়ায়, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য বিমোচনে অনেক কম কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, “এখন আমাদের কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধির পরিমাণের দিকে তাকালেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা ঝুঁকিমুক্ত, এর কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা কতটা এবং তা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক।”

মোস্তাফিজুর রহমান সরকারের রাজস্ব চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে কম রাজস্ব আদায় ও কম সরকারি ব্যয়ের কারণে বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে সরকারের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গেলে ব্যয় বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই, আর রাজস্ব সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে এই ভারসাম্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

সমাজে বৈষম্য মারাত্মক রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি হিসাব করে দেখান যে, ‘পালমা অনুপাত’—যা সমাজের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের সাথে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের তুলনা করে—তা ২০২২ সালের ৩.২ থেকে একলাফে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭-এ পৌঁছেছে।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ— উৎপাদনশীল খাতে বহুমুখীকরণ, শিক্ষাব্যবস্থার সাথে শ্রমবাজারের চাহিদার সমন্বয় এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত উল্লেখ করে তিনি জানান, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ২৯ শতাংশ—যা অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতার এক বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশকে সামনের দিনে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সংরক্ষণবাদের মতো প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। এলডিসি উত্তরণের সময়ও ঘনিয়ে আসছে, এমতাবস্থায় বাণিজ্য সুবিধার বদলে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতাই হবে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি।

‘তৈরি পোশাক ছাড়া কোনো খাত এগোতে পারেনি’

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি ঝুড়ি বিস্তৃত করার বিষয়ে দুই দশক ধরে আলোচনা হচ্ছে। এরপরও কেন বাংলাদেশ নতুন কোনো বড় রপ্তানি খাত গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো—সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্য কোনো খাত দাঁড়াতে পারেনি। দেশের মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের একক অবদান আগে যেখানে ৭৩-৭৫ শতাংশ ছিল, তা এখন বেড়ে ৮৪-৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চামড়া, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বারবার বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করার পরও—এই একক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। পাশাপাশি দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষি খাতের ওপর আরও বেশি নজর দেওয়া দরকার।

দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট এখন আর চাকরির নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। “আজকে আমরা কেবল সার্টিফিকেটের কারখানা বানিয়েছি। আমাদের এই সনদসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বের হয়ে ফলাফলনির্ভর বা দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় যেতে হবে।” প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কতজন কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন, তার কার্যকর মূল্যায়নও জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

ফজলুল হক বলেন, শিক্ষার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও তরুণদের কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করছে। তরুণ প্রজন্ম নিয়মিত একটি অনুমোদনের জন্য সরকারি অফিসে ৩০-৪০ বার দৌড়াদৌড়ি করতে চায় না; তারা দ্রুত ও ডিজিটাল সেবা প্রত্যাশা করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মানবিক বিপর্যয় ও কষ্টের কথা স্বীকার না করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহনশীলতার অহেতুক প্রশংসা করা ঠিক নয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা একের পর এক ধাক্কা সামলে নিচ্ছেন ঠিকই, তবে তাদের এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতাকে মূল সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া ভুল হবে।

“প্রচণ্ড কষ্ট ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই সহনশীলতা তৈরি হচ্ছে,” মন্তব্য করে এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, এই টানাপোড়েন একসময় গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, অর্থনীতির প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে বাণিজ্য, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরাতে শ্রমবাজার ও শিক্ষাব্যবস্থাকে শিল্প ও ব্যবসা খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা না থাকায় জীবনযাপনে হিমশিম খাচ্ছেন। তৈরি পোশাক খাতে নারী কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার কারণে আমাদের বিকল্প কৃষি-পরিবেশগত চাকরি, শিশু যত্ন কেন্দ্র এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল বিনিয়োগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, কাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশ এক ধরনের ‘ধারণাগত ফাঁদে’ বাস করছে।

সাত্তার মণ্ডল ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে বৈশ্বিক কারণে অর্থনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা সাময়িক, এবং আন্তর্জাতিক বাজার শান্ত হলে পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই ধারণা নিয়ে থাকাটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।”

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তাই কেবল বৈশ্বিক পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করে দেশীয় ভঙ্গুরতা কাটানো যাবে না। কৃষির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসায়নিক সার ও বীজের ব্যবহার বাড়িয়ে আমরা ফসল উৎপাদন বাড়ালেও, এই খাতটি এখনো কম-উৎপাদনশীলতার জাঁতাকলে আটকে আছে। এখন আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত সার্বিক দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা।

এই সার্বিক সংকট নিরসনে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র, প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শাসনব্যবস্থার সংস্কার—এই পাঁচটি স্তম্ভের ভিত্তিতে সমন্বিত ‘ট্রানজিশন কমপ্যাক্ট’ বা উত্তরণকালীন সমঝোতা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে পিপিআরসি।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর জোর দিয়ে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক হয়রানি প্রতিদিন সাধারণ নাগরিক ও উদ্যোক্তাদের কাজ করার উদ্যম নষ্ট করছে। তাই একটি প্রকৃত সংস্কার এজেন্ডাকে কাগজে-কলমে পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, শাসনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও সেবার মানকে উন্নত করতে হবে।

Get latest updates of CPD's research, policy discourse, publications, and events.