এফডিআই বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও নীতিমালার ধারাবাহিকতা জরুরি: নাজনীন আহমেদ

Originally posted in দেশ রুপান্তর on 21 October 2026

এফডিআইয়ে গতি কম

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে গত আট মাসে সরকারের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে অর্থ, শিল্প, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউএই, জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোথাও বন্দর ও শিল্পাঞ্চল, কোথাও জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ এসেছে। কোটি কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ঘোষণা, সমঝোতা স্মারক ও প্রকল্পের কথাও সামনে এসেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতসব বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, আলোচনা এবং সরকারের মন্ত্রীদের মুখে মুখে এফডিআই প্রবাহের যে বক্তব্য-বিবৃতি পাওয়া যাচ্ছে, তার বিপরীতে বাস্তবে কত নতুন বিদেশি মূলধন বাংলাদেশে আসছে! বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু নতুন নিট ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে। অর্থাৎ, বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ এফডিআই বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখলেও নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসা মূলধনের গতি এখনো দুর্বল।

এ প্রসঙ্গে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে এখনও এক ধরনের ‘আনপ্রিডিকটিবিলিটি’ (অস্থিরতা) আছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। নানারকম প্রচেষ্টা আছে। এসব দেখে বোঝা যায়, সরকার এফডিআই চায়। কিন্তু ব্যবসার পরিবেশ উন্নতি করতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা প্রতিযোগী দেশ যেমন থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যাবে।

বিশ্বব্যাংক গত এপ্রিলে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট ২০২৬-এ বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘সাবডিউড’ (অবনমিত বা বশীভূত) হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের ঝুঁকি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করতে হলে বিনিয়োগ উজ্জীবিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে জোর দেওয়া।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এফডিআই আনতে বিনিয়োগবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি কোনো বড় পরিবর্তন গত চার দশকেও হয়নি। ব্যবসা শুরু ও ক্লোজ (গুটিয়ে নেওয়া) করতে এ দুই ক্ষেত্রেই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশ নিয়ে অনাগ্রহী করে তোলে। ফলে সম্ভাবনা দেখলেও তারা দূরে সরে যায়। তবে, আশাব্যাঞ্জক বিষয় হলো, সর্বশেষ বাজেটে বড় রকমের কর সংস্কার করা হয়েছে এবং এটি বিনিয়োগবান্ধব। কিন্তু এই নীতির স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘকাল ধরেই আমরা দেখে এসেছি যে, ব্যবসা ও কর-সংক্রান্ত নীতিমালা বারবার পরিবর্তন হয়। এতে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ কর্র্তৃপক্ষ নিয়ে একটা শঙ্কায় থাকে; কখন না নীতিমালা পরিবর্তন হয়ে যায়। এ জন্য আমাদের নীতিমালার কনসিসটেন্সি (ধারাবাহিকতা) খুবই দরকার; যাতে বিনিয়োগকারীর আস্থা তৈরি হয়।

এফআইসিসিআই নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির আরও বলেন, নতুন যেসব বিনিয়োগের প্রস্তাব আসছে, সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সম্প্রতি বেশ কিছু দেশ বেসরকারি প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ সফর করেছে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও বন্দর পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড ছাড়া তেমন বড় বিনিয়োগকারী আসেনি।

তিনি বলেন, এফআইসিসিআই বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা সরকারকে এফডিআই বাড়াতে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। তার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, নতুন বিনিয়োগের যেসব প্রস্তাব আসছে, সেখানে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়ই কিছু চাওয়া আছে। সরকার তাদের চাওয়া কীভাবে নেগোশিয়েট করবে তার ওপর নতুন এফডিআই প্রবাহ নির্ভর করবে। তবে, মাত্র ক’মাস হলো এই সরকার যাত্রা শুরু করেছে। চেষ্টা করছে এবং এর ফলাফল পেতে আরও দুয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

এফডিআইয়ের সর্বশেষ হিসাব

ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক ছিল বিদ্যমান বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ। ২০২৫ সালে পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা বেড়ে ৪৩৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ১০৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, ইকুইটি মূলধন বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ চলতি অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত হিসাব দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এফডিআই রয়েছে ২০৮ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এক্সিকিউশন স্টেজে (বাস্তবায়নাধীন প্রক্রিয়ায়) ১৪১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, বিবেচনাধীন ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং সম্ভাবনাপূর্ণ অবস্থায় আরও ৫৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে নিট ইকুইটি বিনিয়োগ ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের নিট প্রবাহও কমেছে।

অর্থাৎ, এফডিআইয়ের মোট অঙ্ক বাড়লেও নতুন বিদেশি মূলধন আসার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গতি নেই। বিনিয়োগের ঘোষণা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধানও বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৫ সালে ২০টি দেশের ৭০ জন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে।

৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চীনের প্রস্তাব, বাস্তবায়নের অপেক্ষা : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জুনে চীন সফর ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের বড় উদ্যোগগুলোর একটি। বেইজিংয়ে বিনিয়োগ সম্মেলন, চীনা ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের চুক্তি হয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, উৎপাদনশিল্প ও শিক্ষা খাতে ১২টি চীনা প্রতিষ্ঠান ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তবে এই অঙ্ককে বাস্তব বিনিয়োগ হিসেবে গণনা করার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে, সেখানে ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এগোনো ইতিবাচক ঘটনা। শিল্পাঞ্চলটি পুরোপুরি গড়ে উঠলে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিশ্রুত অর্থের কতটা বাস্তবে বিনিয়োগ হবে, তা নির্ভর করবে কারখানা নির্মাণ, জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো ও উৎপাদন শুরুর ওপর।

এ ছাড়া চীনের সিসিইসিসির সঙ্গে মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে সমঝোতা হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা : গত আগস্টে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। এতে ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলে শেভরন, বোয়িং, মেটলাইফ, ভিসা, মাস্টারকার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, ক্লাউড ও সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্প ও আর্থিক খাতে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। আমেরিকান ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনার আকাক্সক্ষার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত বিনিয়োগ চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে বৈশ্বিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। এতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি এফডিআই আকর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্টার্টআপ, প্রযুক্তি দক্ষতা ও উদ্ভাবনকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এটিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের পথ, বাস্তবে আসা অর্থ নয়।

বন্দর, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে সৌদি বিনিয়োগ আগ্রহ : জুলাইয়ে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বে একটি প্রতিধধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিও এতে ছিলেন। বাংলাদেশে বে-টার্মিনাল নির্মাণে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের বন্দর খাতে মোট বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আগ্রহের কথা জানানো হয়। গত আগস্টে বাংলাদেশ সফরে ওই সৌদি প্রতিধধিদল মাছ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহ প্রকাশ করে।

এদিকে, গত মে মাসে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বে-টার্মিনাল প্রকল্পকে বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটিতে ৮০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় আসে। তবে আগ্রহ প্রকাশ ও চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।

খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও আইসিটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ জাপান : জুনে জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আগস্টে জাপানের জ্যেষ্ঠ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরেও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পায়। তবে এসব বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট খাতে কত অর্থের নতুন বিনিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ জাপানের মারুবেনি করপোরেশনও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রতিবন্ধকতা কী! : সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগ আকর্ষণকে কঠিন করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির বাড়তি দাম, বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয় এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্পে সতর্ক রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বৈশ্বিক এফডিআই বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কয়েকটি দেশ ও কৌশলগত খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সামনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ, জমি ও অবকাঠামো, ব্যবসা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা, মুনাফা প্রত্যাবাসন এবং আইনগত নিশ্চয়তা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদেও দুর্বল বিনিয়োগ কার্যক্রম, জ্বালানি খাতের সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক খাতের দুর্বলতাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, সরকার বিনিয়োগসেবা সহজ করতে বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্র্তৃপক্ষকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করেছে। সংস্থাটির দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আশিক চৌধুরী। সদ্য অতীত অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রত্যাশা ছিল, বিশ্বের এফডিআই মুভমেন্ট ও গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হবেন। কিন্তু এফডিআইপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে তার অভিজ্ঞতার ফসল পায়নি বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে ইনভেস্ট বাংলাদেশ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের টেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Get latest updates of CPD's research, policy discourse, publications, and events.