Tuesday, March 10, 2026
spot_img
Home CPD in the Media

জাপান চুক্তির পূর্ণ সুবিধা পেতে রপ্তানি ও প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে হবে: মোস্তাফিজুর রহমান

Originally posted in The Business Standard on 13 January 2026

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব থেকে বাংলাদেশ যেভাবে লাভবান হবে

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) হলে শুরুতে বিপুলসংখ্যক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তবে ছয় বছর পর থেকে ধীরে ধীরে ভারসাম্য জাপানের অনুকূলে যেতে শুরু করবে।

সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে এতে বাংলাদেশের জন্য রাজস্ব ঝুঁকি রয়েছে। তবে তাঁদের মতে, জাপানি পণ্য ধাপে ধাপে শুল্ক হ্রাসের কারণে এই ঝুঁকি সীমিত থাকবে এবং স্থানীয় শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সময় পাওয়া যাবে।

তারা বলেন, ইপিএ রপ্তানি বাড়াবে, বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এই চুক্তি অন্যান্য দেশকেও বাংলাদেশের সঙ্গে অনুরূপ চুক্তিতে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে—যার একটি কপি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে এসেছে—উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে, জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশে একই সুবিধা পাবে।

যদিও প্রাথমিকভাবে এই হিসাব বাংলাদেশের অনুকূলে, তবে পরবর্তী ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও ২ হাজার ৭০২টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

এভাবে এক পর্যায়ে মোট ৯ হাজার ৩৫৪টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশে শুল্ক ছাড়াই প্রবেশ করবে, আর ৭ হাজার ৪৩৬টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বিভিন্ন খাতে শুল্ক ছাড় ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ায় সব জাপানি পণ্য একসঙ্গে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, “এর ফলে রাজস্ব ক্ষতি বা জাপানি পণ্যের অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি খুবই কম। ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক খাতেই প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ উন্নত দেশ যেহেতু ক্রমাগত শুল্কহার কমাচ্ছে, তাই বাংলাদেশকেও ধীরে ধীরে কম আমদানি শুল্ক কাঠামোর দিকে যেতে হবে—এক্ষেত্রে একই পন্থা অবলম্বন না করার কোনো বিকল্প নেই।

মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেন, জাপানের রাজধানী টোকিওতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি সই হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়া নিয়ে সংশয়ও রয়েছে।

রাজস্ব ক্ষতি ২৪৮.৩৪ মিলিয়ন ডলার

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাপানি পণ্যে কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক তুলে দিলে বছরে ২৪৮.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব হারাবে। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই না হলে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরে বাংলাদেশি পণ্য জাপানের স্বাভাবিক শুল্কের মুখে পড়ে তাহলে দেশটিতে রপ্তানি ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রপ্তানি কমার আশংকা রয়েছে।

বাংলাদেশ শুরুতে জাপানের যে ১,০৩৯টি পণ্যে শুন্য শুল্ক সুবিধা দিবে, সেগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে শূন্য বা ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তৈরি পোশাক খাতে বড় সুযোগ

তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এই চুক্তিতে একটি সুখবরও রয়েছে। বর্তমানে জাপানের বাজারে তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ, জাপানে কোনো পণ্য রপ্তানি করতে হলে ওই পণ্যের কমপক্ষে দুটি ধাপ বাংলাদেশে সম্পন্ন হতে হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইপিএ কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য সিঙ্গেল-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করেই জাপানে রপ্তানি করতে পারবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে যেকোনো একটি উৎপাদনের ধাপ সম্পন্ন হলেই ওই তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে রপ্তানি করা যাবে।

চামড়া, কৃষি ও সেবা খাত

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত ২০৬টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের খাতটি জাপানের জন্য উচ্চ স্তরের স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত। জাপানের কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা ইপিএতে এ খাত অন্তর্ভুক্ত নেই।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ১,২৫৯টি কৃষিপণ্যের বেশিরভাগই চুক্তি সইয়ের পরপরই জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না।

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) খাতভিত্তিক শ্রেণিকরণে সেবাখাতে ১৫৫টি খাত রয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ১২০টি সেবাখাত জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, অন্যদিকে জাপানের ৯৭টি সেবাখাত বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

গাড়ি আমদানি

জাপানের সিকেডি (কমপ্লিটলি নকড ডাউন) যাত্রীবাহী গাড়ি বা কার এর ক্ষেত্রে ১২ বছরে ধাপে ধাপে শুল্ক কমিয়ে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জাপানি গাড়ির বড় বাজার হওয়ায় জাপান শুরুতেই জোরালোভাবে এ দেশের বাজারে তাদের গাড়ির শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছিল। কিন্তু, রাজস্ব আয়ের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে এখনই সম্মতি দেয়নি।

তবে জাপানকে বাংলাদেশ গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে এক্সটেন্ডেড মোস্ট ফেভারড ন্যাশন (ই-এমএফএন) মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ কখনও যদি অন্য কোনো দেশের গাড়ি নিজস্ব বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা দেয়, সেক্ষেত্রে জাপানি গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই সুবিধা পাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই চুক্তিকে কেবল পণ্য বাণিজ্যের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না; এখানে সেবা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “জাপান তাৎক্ষণিকভাবে ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও—বাস্তবে বর্তমানে খুব অল্প পণ্যই সেখানে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশকে এর পুরো সুবিধা পেতে হলে নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রতিযোগী সক্ষমতাকে শক্তিশালী করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, জাপানি পণ্যের শুল্ক ছাড় স্থানীয় শিল্পের জন্য বড় হুমকি নয়। “বাংলাদেশের কোনো খাতই জাপানি আমদানির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেই। বরং বর্তমানে যেসব পণ্য অন্য বাজার থেকে শুল্ক দিয়ে আমদানি করা হয়, সেগুলো ভবিষ্যতে জাপান থেকে শুল্কমুক্ত এলে ভোক্তা ও উৎপাদক—উভয়ই উপকৃত হবে।”

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার উন্নত পরিবেশ, ওয়ান-স্টপ সেবা, নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ, উন্নত বন্দর সুবিধা ও কম লিড টাইম নিশ্চিত করা জরুরি।

মোস্তাফিজুর নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাপানের দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণসহ সেবা রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক টিবিএসকে বলেছেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএতে বেশকিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাপানে সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। ফলে এলডিসি উত্তরণের পরও এসব পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত থাকবে। ইপিএ না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশি পোশাকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।”

তিনি আরও বলেন, জাপান একটি উন্নত দেশ এবং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত আলোচক। “জাপানের সঙ্গে ইপিএ অন্য দেশগুলোকেও বাংলাদেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।”

রাজ্জাক বলেন, জাপান বড় বিনিয়োগকারী। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে জাপানের উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

তবে তিনি ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, এখানে রাজস্ব হারানোর ক্ষতি ঘিরেই প্রধান উদ্বেগ।

তার মতে, “যত বেশি জাপানি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে বাংলাদেশে আসবে, রাজস্ব ঝুঁকি তত বাড়বে। স্থানীয় শিল্পকেও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি, চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে—আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।”

ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তাফা আবিদ খান এ বিষয়ে টিবিএসকে বলেন, বাংলাদেশ জাপানের সাথে ইপিএ করতে পারছে, এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত কতটা সুবিধা পাবে—সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “জাপানি পণ্যের আমদানি বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে না, যদি অন্যান্য দেশের জন্য শুল্কনীতি সঠিকভাবে সমন্বয় করা হয়। এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) রেট সমন্বয় করা না হলে ট্রেড ডাইভারশনের ঝুঁকি থাকবে।”

সম্ভাবনা দেখছে সরকার

সরকার মনে করছে, জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাপানকে একটি বড় রপ্তানি বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

জাপান বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে (ডব্লিউটিও) দেওয়া এক নোটিফিকেশনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি ও এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলোকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইপিএকে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছে। কারণ, জিএসপি সাময়িক হলেও ইপিএ একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি।

বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৮.৭ শতাংশ পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। জাপান বাংলাদেশের রপ্তানির অন্যতম বাজারও।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য জাপানে রপ্তানি হয়েছে। অন্যদিকে ওই অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

সাত দফা বৈঠক

বাংলাদেশ–জাপান ইপিএর উদ্যোগটি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে যৌথ গবেষণা দল ১৭টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে দর-কষাকষির পরামর্শ দেয়।

ওই প্রতিবেদনের আলোকে ২০২৪ সালের ১৯ মে ঢাকায় প্রথম বৈঠক হয়। তবে একই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচনা থমকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসে এবং এক বছরের মধ্যে চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এরপর ঢাকা-টোকিও-ঢাকা—এভাবে মোট সাত দফা বৈঠক করে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জাপানের সঙ্গে ইপিএর লক্ষ্য হলো এলডিসি উত্তরণ–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। আবার এতে সেবাখাতের বাণিজ্যও সম্প্রসারণ করা যাবে। এপর্যন্ত একমাত্র ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ছাড়া আর কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্য চুক্তি নেই।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.