Originally posted in কালবেলা on 2 March 2026
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে দ্রুত থেমে যায়, তবে এর প্রভাব হয়তো খুব বেশি প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকট ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল নিয়ে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তেল এবং এক-পঞ্চমাংশ এলপিজি সরবরাহ হয় হরমোজ প্রণালির মধ্য দিয়ে। ইরান যদি এ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এ ছাড়া শিপিং কস্ট (পণ্য পরিবহন খরচ) এবং ইন্স্যুরেন্স কস্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।
প্রবাসী শ্রমিক ও রেমিট্যান্স খাত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রয়োজনে অন্যান্য দেশ বা উৎস থেকেও জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি রাখতে হবে, যাতে বাজারে কোনো বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, জরুরি পণ্য ও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত বা স্টক নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ব রাজনীতির এ অস্থির সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।


