Tuesday, April 14, 2026
spot_img

জ্বালানি সংকট মোকাবেলা এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য সহজ শর্তে ঋণ খুবই প্রয়োজন হবে

Originally posted in বণিকবার্তা on 13 April 2026

ছবি: বণিক বার্তা (ফাইল ছবি)

ড. ফাহমিদা খাতুন, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক, ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের স্প্রিং মিটিংয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের গুরুত্বসহ ব্যাংক খাতের সংস্কার ও রিজার্ভ সংকটের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং করণীয় নিয়ে তার বিশেষ সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বদরুল আলম

এবারের স্প্রিং মিটিংয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি’ এবং যুদ্ধাবস্থার প্রভাব বড় আলোচ্য বিষয়। বাংলাদেশ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ পক্ষ না হয়েও আমদানীকৃত মূল্যস্ফীতির শিকার। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুরক্ষা দিতে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের কি কোনো বিশেষ আপৎকালীন তহবিলের প্রস্তাব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

যথার্থই বলেছেন, যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এ স্প্রিং মিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের ফলে তেল আমদানিকারক দেশগুলোতে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই তাদের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তার একটি হিসাব করেছে। কথাবার্তা চলছিল যে বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে আরো ২ বিলিয়ন ডলার চাইবে কিনা। সেটা হয়তো সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সব উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশ এ ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি অর্থ দাবি করবে। এছাড়া অনেক দেশ ঋণের জালে জর্জরিত। ফলে ‘ডেট রিলিফ’ এবং ‘ডেট সাসটেইনেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ পুনরায় বিবেচনা করার বিষয়টি আলোচনার মধ্যে থাকবে।

আইএমএফের এবারের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? আমরা ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচিতে থাকার পরও কেন অতিরিক্ত ঋণের আলোচনা উঠছে? এটি কি আমাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনারই কোনো বড় ইঙ্গিত?

এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অর্থনীতি আগে থেকেই চাপের মুখে ছিল, বিশেষ করে ফিসকাল স্পেস ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। কর আদায় এবং কর-জিডিপি অনুপাত আমাদের আগে থেকেই অনেক কম। যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এ চাপ আরো বেড়েছে। আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন ধরনের ‘শক’-এর কারণে ফিসকাল সাপোর্ট বা আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ কয়েক মাস আগে বলেছিল মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ২০২৫ অর্থবছরে কিছুটা বাড়বে ও মূল্যস্ফীতি কমবে—এমন ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান ধাক্কাটি সহসা যাবে না। যুদ্ধ বন্ধ হলেও এ ক্ষতি রিকভার করতে সময় লাগবে। ফলে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে আমরা খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো চলমান সংকট থেকে বের হওয়া মূল বিষয়। সেজন্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলা এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য কনসেশনাল সাপোর্ট বা সহজ শর্তে ঋণ খুবই প্রয়োজন হবে।

রিজার্ভের ক্রমাগত ক্ষয়রোধে এবং টাকার বিনিময় হার নির্ধারণে যে নতুন পদ্ধতিগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে, তা কি দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান দেবে? এবারের মিটিংয়ে ওয়াশিংটন থেকে আমরা কি মুদ্রানীতি বা রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন কোনো নীতিগত ‘প্রেসক্রিপশন’ আশা করতে পারি?

আইএমএফের জানুয়ারির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সম্ভবত মে-জুন থেকে বাংলাদেশের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে যাতে হঠাৎ কোনো ফ্লাকচুয়েশন বা বড় ধরনের পরিবর্তন না হয়। যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ থাকে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক তা কিনে রিজার্ভ বিল্ড আপ করে; আবার প্রয়োজন হলে ডলার ছাড়ে। এ পদ্ধতি ভারতেও চালু রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পেরেছে। তবে এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। কৃত্রিমভাবে বিনিময় হার ধরে রাখা যায় না। দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী বিনিময় হার ব্যবস্থার জন্য রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্সের মাধ্যমে রিজার্ভকে সবসময় স্বাস্থ্যবান রাখার চেষ্টা করতে হবে। বর্তমানে আমদানি সংকোচনের ফলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালে আমদানির চাহিদা ও রিজার্ভের চাপ বাড়বে। সেজন্য নমনীয়তা থাকবে এবং বিনিময় হারকে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাখতে হবে। যদি আমরা শক্তিশালী বিনিময় হার ব্যবস্থা করতে চাই।

আইএমএফের মিটিং থেকে সরাসরি কোনো ‘ম্যাজিক প্রেসক্রিপশন’ আসে না। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার অংশ। আমরা যখন ঋণ চাই, তখন তারা ভর্তুকি কমানো, বিনিময় হার নমনীয় করা, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো কিছু শর্ত দেয়। একটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে এ সংস্কারগুলো আমাদের নিজেদের স্বার্থেই করতে হবে।

ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক একীভূতকরণের চলমান প্রক্রিয়াকে দাতা সংস্থাগুলো কীভাবে দেখছে? এবারের মিটিংয়ে কি ব্যাংকিং সুশাসনের বিষয়ে কোনো কঠোর দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা আছে? আমরা কি শর্ত পূরণে বড় কোনো চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছি?

আইএমএফের প্রতিনিধি দল যখনই বাংলাদেশে আসে, তারা সরকারের পাশাপাশি আমাদের সঙ্গেও এনবিআর, ভর্তুকি ও ব্যাংক খাতের সংস্কারের কথা বলে। তারা বহু বছর ধরে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলছে। বর্তমানে কিছু ব্যাংকের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর) হওয়ায় দেখা যাচ্ছে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের সহায়তার অন্যতম প্রধান শর্তই হচ্ছে ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার (ম্যাক্রো ইকোনমিক ভালনারেবিলিটি) প্রধান উৎস। অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সব দুর্বল ব্যাংকে সম্প্রসারণ করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং রাখা, মূলধনের অভাব দূর করা, ব্যাংকিং রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক, ব্যাংকের আইনি সংস্কার, ব্যাংককে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা তাদের নজরে রয়েছে।

ব্যাংক খাতের আসল চেহারা বের হয়ে আসায় খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে। নতুন করে খেলাপি হয়নি। তদারকি ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার কারণেই আগের হিসাবগুলো এখন স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ খেলাপি ঋণ ৩৬ শতাংশের ওপরে উঠে গিয়েছিল, যা পুনঃতফসিল করার ফলে কিছুটা কমেছে। আমাদের বোঝাতে হবে যে আমরা সংস্কার কার্যক্রম চলমান রেখেছি। ব্যাংক একীভূতকরণ বা প্রয়োজনে অবসায়নের মাধ্যমে খাতের স্বাস্থ্য উন্নত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক ভর্তুকি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশে এর প্রভাব সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? এতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব মোকাবেলা করা কীভাবে সম্ভব হবে?

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক মনে করে ভর্তুকি দিলে সম্পদের অপব্যবহার হয়। আমাদের মতো দেশে যেখানে বিরাট জনগোষ্ঠী দরিদ্র, সেখানে হঠাৎ ভর্তুকি উঠিয়ে দেয়া যাবে না। তবে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সবাইকে ঢালাওভাবে ভর্তুকি দিলে যাদের প্রয়োজন নেই তারাও সুবিধা পায়। সেটার পরিবর্তে আমাদের অবস্থান হবে, যেটা অন্যান্য দেশেও প্রয়োজন, ‘টার্গেটেড’ বা লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ওপর জোর দিতে হবে। সর্বজনীন ভর্তুকি হলে একদিকে খরচ, টাকা নেই বলে সেটা হয় অকার্যকর। এবং ধনীরা সুযোগ পেয়ে যায়। আমাদের দেশে পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়া যাবে না এ পরিপ্রেক্ষিতে যে আমাদের জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভর্তুকি প্রয়োজন। তবে লক্ষ্য হবে যে যেটাই দেয়া হোক, ব্যবহার যেন খুব দক্ষ হয়। যাতে করে অপচয় না হয়, সত্যিকার অর্থে খাদ্যসহায়তা, পুষ্টিসহায়তা, কৃষি কিংবা গণপরিবহন—এ রকম গণমানুষ যেসব ক্ষেত্রে জড়িত থাকে, সেসব ক্ষেত্রে যেন দেয়া হয়। উৎপাদনশীল কাজে এবং সামাজিক সুরক্ষার কাজগুলোতে ভর্তুকি চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি ব্যয় ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে, কারণ ভর্তুকি দিয়ে বেশিদিন অর্থনীতি চালানো সম্ভব নয়। আমরা যেহেতু ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছি, তাই সেই অর্থের সুচারু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি প্রতিনিধিরা যখন দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে দেনদরবার করছেন, তখন আপনাদের মতো থিংকট্যাংক বা নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ সেখানে কতটা প্রভাব ফেলে? বিশেষ করে সিপিডির পক্ষ থেকে আপনারা এবারের স্প্রিং মিটিংয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির কোন বিশেষ দিক বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাইছেন?

সিপিডি মাঝেমধ্যেই ‘সিভিল সোসাইটি পলিসি ফোরাম’-এর অংশ হিসেবে এ মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে। এখানে ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সরকারি আলাপ-আলোচনা। তার পাশাপাশি ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সিভিল সোসাইটি ফোরাম। নাগরিক সমাজের কাজ হলো একটি ‘ওয়াচ ডগ’-এর মতো। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিভিন্ন দেশকে সুশাসন বা ভর্তুকি কমানোর শর্ত দেয়, তখন সিভিল সোসাইটি এ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের সংস্কার, জবাবদিহিতা, যেসব ঋণ তারা দেয় সেগুলোর কঠিন শর্ত এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বিষয়ে ‘ওয়াচ ডগ’ হিসেবে কাজ করে। তারা বলে যে তাদেরও (আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর) একটা জবাবদিহিতার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। সিভিল সোসাইটি একটা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করে। যার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, জ্বালানি ধাক্কা এবং বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতার এ সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা বাড়ানোর দাবি তোলা হয়। বাংলাদেশ সেই পর্যায়ে না থাকলেও অনেক দরিদ্র দেশ ঋণের ভারে জর্জরিত, তাদের জন্য ‘ডেট রিলিফ’ বা ঋণ স্বস্তির বিষয়ে সিভিল সোসাইটিগুলো এ ধরনের ফোরামে আলোচনা এবং চাপ সৃষ্টি করে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এ ধরনের আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে।

আইএমএফের এ মিটিংকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য আপনার কোনো বার্তা?

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ মিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মিটিংগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতি বৈচিত্র্যায়ন বা ডাইভার্সিফিকেশনের ওপর জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশগুলো এখন দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানেই হিমশিম খাচ্ছে। অনেক দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। বিশ্ব এখন একটি নতুন ‘পলিটিক্যাল ডাইনামিজম’ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলো এখন ভূ-অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বাংলাদেশকেও অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে হবে। কার সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে, কোন দেশ বা কোন গ্রুপের সঙ্গে—এ বিষয়গুলো চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ অর্থনৈতিক বিষয়কে এখন আর শুধু অর্থনীতির মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। রাজনীতি এবং কূটনীতি—এ দুটোর মধ্যে অর্থনীতিকে এখন একাকার করে দেখতে হচ্ছে।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.