Originally posted in কালবেলা on 16 October 2026
৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল টিসিবির
ডিজিটাল যাচাইকরণ (ই-কেওয়াইসি ও জাতীয় পরিচয়পত্র মেলানো) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকারভোগীর তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
সংস্থাটি বলেছে, এর মাধ্যমে সরকারি পণ্যের অপচয় ও কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে। পাশপাশি ডিজিটাল ট্রেজারি এবং সরাসরি গুদাম থেকে ডিলারের পণ্য সরবরাহ করে বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে আয়োজিত ‘ট্রেড উইথ টিসিবি’ শীর্ষক বিজনেস টকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। টিসিবির সেবা সহজ করা এবং পণ্য ক্রয় কার্যক্রমে দরদাতা ও সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক বদরুন্নেসা আহমেদ জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, সরাসরি ব্যাংক এপিআই লেনদেন এবং স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে টিসিবি কার্যক্রম পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও বিপুল ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে।
সারা দেশে স্বল্প আয়ের এক কোটি পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এরই মধ্যে ৭৯ লাখ ৯০ হাজার প্রকৃত সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল ডেটাবেজে যাচাই ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭৩ লাখ ৭ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় করা হয়েছে। ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি পণ্যের অপচয় ও কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আধুনিক ডিজিটাল ট্রেজারি এবং সরাসরি গুদাম থেকে ডিলারের কাছে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতি বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করছে। এর মধ্যে ডিলারদের কাছ থেকে ব্যাংক এপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি টাকা জমা নেওয়ায় ৬০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনায় ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণের ওপর ব্যাংক সুদ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৫৩৩ কোটি টাকা থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুদ ব্যয় কমে প্রায় ১০৬ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় টিসিবি।
সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে টিসিবির কাঠামোগত সংস্কার, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা।
শুধু ডিজিটাল কার্ড চালু করলেই উপকারভোগীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবেন না বলে মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, টিসিবির পণ্য বিতরণে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠী নয়, অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় নিয়েও টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সেবা কার্যক্রমের মান বাড়াতে ভোক্তাদের মতামত নেওয়া, নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, টিসিবির ডিজিটাল পেমেন্ট ও বিল পরিশোধ ব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে। তবে দরপত্র জমা দেওয়ার পর চুক্তি সম্পন্ন করতে কখনো কখনো চার মাস পর্যন্ত সময় লাগে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।


