Originally posted in কালবেলা on 9 February 2026
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন কি বাস্তবায়নযোগ্য
বিএনপি ও জামায়াতের ইশতেহার
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের আকার কাগজে-কলমে এখন প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সামলে নিয়ে তা ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি তাদের ইশতেহারে (ম্যানিফেস্টো) ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে আধুনিক উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দলটি বলেছে, তারা অর্থনীতির অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, মধ্যবিত্তের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য দেবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে দেশের অর্থনীতিকে ২০তম স্থানে উন্নীতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার হবে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের, যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১০ হাজার ডলার। তবে এ দুই দলের এমন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নাকি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন মহলে চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, তাত্ত্বিকভাবে এটি অসম্ভব নয়। দল দুটির পরিকল্পনার অনেকটাই বাস্তবায়নযোগ্য। আবার অর্থনীতিবিদের একাংশের মত হলো, ইশতেহারের কিছু কিছু বিষয় অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে তা বাস্তবায়ন খুবই কঠিন।
বিএনপি অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়োগ ও আর্থিক খাত সংস্কার; শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন; সেবা খাত উন্নয়ন; বিদ্যুৎ জ্বালানি ও পরিবহন খাত উন্নয়ন, আইসিটি; রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থা—এ সাতটি ধাপে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন প্রসঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের উৎপাদনশীল শক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও সবার জন্য উন্মুক্ত অর্থনীতি গড়ে তেলার কথা বলেছে। অর্থনীতির অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, মধ্যবিত্তের ভিত্তি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয় সাধন, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গঠন ও সিঙ্গেল ক্লিয়ারেন্স এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।
বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে বিনোয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বিষয়ে বিএনপি বিনিয়োগ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত, নীতির আকস্মিক পরিবর্তন রোধ, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজ করা, হয়রানিমুক্ত মুনাফা প্রত্যাবাসন, ভ্যাট ও কাস্টমস রিফান্ড ডিজিটালাইজড, যৌথ অংশীদারত্বে কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠন, ইনভেস্টর প্রোকেটশন রেগুলেশন প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছে। দলটি বেসরকারি খাতের উন্নয়নে লাইন্সেস প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সহয়তা বাড়ানো, শিল্পপার্কের সক্ষমতা বাড়ানো ও রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত, বেসরকারি বিনিয়োগকে বিশেষভাবে উৎসাহিত, ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জিডিপি ১৪ শতাংশে উন্নীত করবে। তারা রাজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যায় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত, করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, বাজেটের ঘাটতি কোনোভাবেই ৫ শতাংশ অতিক্রম না করা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন, করপোরেট ট্যাক্স পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করবে দলটি। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা ও আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ, মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতে আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করার কথাও বলেছে জামায়াত।
বিএনপি ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে সুদহার যৌক্তিক করা, অবসায়িত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত দেওয়া, অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান ও বীমা খাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। একইভাবে পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের অংশ হিসেবে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন, পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, শেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধ, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট গঠন, করপোরেট ও সুকুক বন্ড প্রবর্তন, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু, শেয়ারবাজারে ব্লক চেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছে। বাণিজ্য সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ বিষয়ে বিএনপি বলেছে, ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সম্পাদন, প্রতিযোগিতা সক্ষম বাণিজ্য গড়ে তোলা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তি ও লজিস্টিক হাব প্রতিষ্ঠার কথা।
অন্যদিকে জামায়াত শেয়ারবাজারে সব অনিয়ম, কারসাজি দূর, আস্থাহীনতা দূর এবং শেয়ারবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস ও এগ্রো প্রসেসিং খাতকে আধুনিকায়ন, বৈদেশি বিনিয়োগে বাধা দূর, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে লাভজনক করা, অলাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থলে প্রয়োজনীয় অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, সরকারি ক্রয় ও টেন্ডারে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট ভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু, কাস্টমস ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, বেকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানকে গতিশীল করার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নামে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য ভাতা এবং কর্মবীমা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এমএমইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।
বিএনপি শিল্প খাত ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন বিষয়ে নতুন শিল্পায়ন কৌশল হাতে নিয়েছে। তারা বলেছে, অভ্যন্তরীণ শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রণোদনা, বন্ধ শিল্প চালু করা ও রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা, রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে বন্ডেড সুবিধা দেওয়া, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, ন্যাশনাল ট্রেড কম্পিটিভনেস কাউন্সিল ও কৌশলগত টেক্সটাইল ফান্ড গঠন, ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসির কথা। কারু ও হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নারী নেতৃত্বাধীন হস্তশিল্প উদ্যোক্তা, অর্থনীতি ও দেশি ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে সাপোর্ট দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সেবা খাতে উন্নয়নের বিষয়ে সমন্বিত কৌশল হাতে নিয়ে ব্যাংক, আইসিটি, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব সেবার জন্য সিঙ্গেল ডিজিট উইন্ডো এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনে প্রণোদনার কথা বলেছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামী সুনীল অর্থনীতির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সুনীল অর্থনীতি গঠনের উদ্যোগ, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জাকাত সংগ্রহ ও সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা, সফল ইসলামী ব্যাংক ও বিমা খাতের বিকাশে সহায়তা, কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপনের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার কথা বলেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের উন্নয়ন বিষয়ে বিএনপি উৎপাদন ও স্মার্ট গ্রিড সক্ষমতা বাড়ানো, ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তি সংস্কার, সর্বনিম্ন ব্যয়ভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা, জ্বালানিতে আমদানি নির্ভরতা কমানো, ক্রয় নীতির স্বচ্ছতা, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং রূপপুর প্রকল্প পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। যোগাযোগ ও পরিবহন খাত সম্পর্কে বলেছে, জাতীয় এক্সপ্রেস ওয়ে গ্রিড, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু ও গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, স্মার্ট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নতুন সড়ক আইন, নদী তলদেশে টানেল নির্মাণ, রেললাইন ডাবল ট্র্যাক করা ও উচ্চগতির রেল চালু, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ভাড়ায় বিশেষ ছাড় কার্যকর করবে। সুনীল অর্থনীতির বিষয়ে তাদের টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও লুণ্ঠন রোধ, তেল গ্যাস অনুসন্ধানে অংশীদারত্ব ইত্যাদি বিষয় নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
জামায়াত দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ, পিডিবির সক্ষমতা বাড়ানো, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য কয়লার ব্যবহার কমানো, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো, কুইক রেন্টালসহ অন্যান্য দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে সর্বস্তরে জ্বালানির অপচয় রোধ করার কথা বলেছে।
বিএনপি রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভ্যাট সমন্বয় এবং তামাক ও দূষণকারী জ্বালানিতে কর দিয়ে জিডিপির অতিরিক্ত ২ শতাংশ আয় বাড়ানো, প্রশাসন সংস্কারের মাধ্যমে মধ্য মেয়াদে রাজস্ব ১০ শতাংশ বাড়ানো, উচ্চবিত্তদের করজালে আনা, ডিজিটাল অডিট ও বৈষম্যমূলক কর ছাড় বাতিল, মেগা প্রকল্পে সংসদীয় নজরদারি ও ব্যয়-লাভ বিশ্লেষণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছে। রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে বিনিয়োগ-উৎপাদন ও কর্মসংস্থান-ভ্যাট কর চক্র সক্রিয় করা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ রাজস্ব বৃদ্ধির প্রথম শর্ত, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি-করভিত্তিক প্রকৃতি সম্প্রসারণ, ভ্যাট ও পরোক্ষ কর বৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধিকে রাজস্বে রূপান্তর, প্রণোদনা থেকে রাজস্ব ক্ষয় বন্ধ, সম্পত্তি ও সম্পদ কর এবং কর প্রশাসন সংস্কারের কথা বলেছে দলটি।
দল দুটির পরিকল্পনার অনেকটাই বাস্তবায়ন যোগ্য মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম কালবেলাকে বলেন, ‘জামায়াত ও বিএনপির ইশতেহারে অর্থনীতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনা এসেছে—তার অনেকটাই বাস্তবায়ন যোগ্য; কিন্তু কিছু কিছু বিষয় রয়েছে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন খুবই কঠিন। অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব।’
যদিও দল দুটি ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান কালবেলাকে বলেন, ‘দুটি দল যে সময়সীমা উল্লেখ করেছে সেখানে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে গেলে প্রায় ১০ শতাংশ গ্রোথ রেট প্রয়োজন। নানাবিধ বাস্তবতায় এটা প্রায় অসম্ভব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যারাই দায়িত্ব নেবেন তাদেরকে অর্থনীতিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তাদের পক্ষে ইশতেহারে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন খুবই কঠিন হবে। এক্ষেত্রে আর্থিক অসক্ষমতা, নানা সীমাবদ্ধতা ও অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে আমাদের অর্থনতি। ভেতরে বাইরে অনেক বিষয় আছে। যারাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেবেন, তাদের উচিত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা।’
তৌফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘অনেক প্রতিশ্রুতি আছে যেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষমতা নাই। অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা দেওয়া হয়নি। অর্থনীতির এখন যে সংকটকালীন সময় যাচ্ছে তার একটা বড় কারণ হচ্ছে—এটার ভেতরে গোষ্ঠী স্বার্থ ছিল। নীতির ক্ষেত্রে গোষ্ঠী স্বার্থকে পরিহার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে নানাবিধ সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।’


