Originally posted in টাঙ্গাইল নিউজ বিডি on 2 March 2026

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য টাঙ্গাইল নিউজবিডি ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন সরকারের আর্থিক, সামাজিক ও আইন পরিস্থিতি ইত্যাদি অনেগুলোই চ্যালেঞ্জ আছে। সরকারের পক্ষ থেকে এগুলি সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। এই নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নেওয়া, সামাজিক-সাম্য এবং বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয় আছে। সরকারের মূল চ্যালেঞ্জটা হবে তৃণমূল পর্যায়ে সুনির্দিষ্টভাবে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে। এটা ঢাকার চেয়ে অনেক বেশি বোঝা যাবে স্থানীয় পর্যায়ে।
আমরা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন জায়গায় অঞ্চলভিত্তিতে যে নাগরিক সংলাপগুলো করেছি। সেটাতে দেখা যায় নাগরিকদের ভিতরে ৩ টা প্রত্যাশা খুব বড়বড় ভাবে এসেছে। যেটা সম্ভাব্য প্রতিনিধিরা যারা নির্বাচনে আসবেন নির্বাচনের আগে তারা এটাকে মেনে নিয়েছেন। প্রথম যেটা দাঁড়িয়েছে সেটা হলো প্রত্যেক এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কর্মসূচি দিতে হবে। সেটা রাস্তাঘাট বলেন, স্কুল-হাসপাতাল বলেন, কর্মসংস্থান বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বলেন। সেহেতু সুনির্দিষ্টভাবে কর্মসূচি থাকতে হবে। প্রত্যেকটি সংসদ সদস্যে তার নিজের এলাকার জন্য।
দুই নম্বর যে বিষয়টি দাঁড়িয়েছে সেটা হলো সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যরা যে ধরনের আর্থিক প্রণোদনা পেয়ে থাকেন বা আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকেন। অথবা চাকরি ক্ষেত্রে যে সমস্ত কোটা এখনও আছে, কাকে কতগুলো কর্মসংস্থান হলো সেইটা স্বচ্ছভাবে তদের জবাবদিহিতার ভেতরে আনতে হবে। অর্থাৎ কতো পেয়েছেন কতো খরচ করেছেন কোথায় করেছেন এইটাকে তালিকা করে স্থানীয়ভাবে দিতে হবে। প্রত্যেক বছরের শেষে ওনাদের আয়-ব্যয়ের হিসেব, ওনাদের সম্পদ কতো বাড়লো বছর বছর সেইটারও একটা হিসেব ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
দেখা যায়, অনেক সংসদ সদস্য ঢাকা শহরে থাকেন। স্থানীয়ভাবে তাদের দপ্তর থাকে না। কখন কোথায় পাওয়া যাবে ইত্যাদি জানা থাকে না। সেহেতু স্থানীয়ভাবে দপ্তর থাকতে হবে। যেখানে নাগরিকরা ভোটাররা এসে তাদের অনুযোগ অভিযোগ অথবা পরামর্শ নিতে পারবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে এইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সরকার কেমন কাজ করবে এইটা বোঝা যাবে তার প্রতিটি সংসদ সদস্য স্থানীয়পর্যায়ে তৃণমূলে কতখানি স্বচ্ছ জবাবদিহিতার সাথে কার্যকরভাবে কাজ করেন।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কতো বিগত সময়কালে আগের যে সরকার ছিলো পতিত সরকারের পরবর্তী সময় নিঃসন্দেহে একটা জটিল অবস্থার ভিতরে দিয়ে গেছে। কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। এই বর্তমান নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত যিনি প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছেন ফোন করেছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার এসেছিলেন। এই আচরণ থেকে মনে হয় ভারত বাংলাদেশে নতুন সরকারের সাথে নতুনভাবে একটি সূচনা করতে চাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় আমরা নিজেদের মর্যাদাবোধ নিজেদের স্বার্থগুলোকে সুরক্ষা দিয়ে কিভাবে আগামীদিনে সম্পর্ক আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। সাধারণভাবে এইটা তো সত্য ভারত বাংলাদেশের ভেতরে সহযোগিতার জায়গা প্রচুর রয়েছে। সেটা বিদ্যুৎ থেকে যোগাযোগ থেকে আরম্ভ করে এবং আমাদের বাণিজ্য বিভিন্ন বিষয়ে, মানুষের যাতায়াতের বিষয় রয়েছে। ভিসা নিয়ে এখনো যে সমস্যা রয়েছে, এগুলো সমাধান করাটা খুবই জরুরি। আমি মনে করি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা নতুন সূচনা হওয়ার ইঙ্গিত লক্ষ্য করছি।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) বলেছেন আইনের শাসন সবার জন্য সমান হবে। আইনের শাসনটি সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। এই যে মবতন্ত্র সৃষ্টি হয়েছিলো সেইটাকে বন্ধ করা একটা বড় বিষয় আছে। নিজের মতামতের কারণে কাউকে কোন জায়গায় অপদস্ত না করা হয়। যেসমস্ত জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার এবং অনান্য পিছিয়ে পড়া বিপন্ন মানুষগুলো আছে, তারা যেনো তাদের পেশার ক্ষেত্রে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বৈষম্যের শিকার না হয় এটিই প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা থেকেইতো বর্তমান সরকারের পক্ষে নির্বাচনে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বা জাতিগত সংখ্যালঘু বিপন্ন মানুষেরা ভোট দিয়েছে। নির্বাচন বর্জনের ডাককে অবজ্ঞা করে তারা অনেকেই ভোট দিয়েছে। তারা সেই ভোটের যোগ্যতার সুযোগ্য সম্মান পাবে এটিই প্রত্যাশা।


