Originally posted in প্রথম আলো on 26 January 2026
প্রকল্প অনুমোদনে ক্ষমতা কমল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের
এখন থেকে আর ৫০ কোটির বেশি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করতে পারবেন না মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। এ ধরনের প্রকল্প পাশের জন্য পাঠাতে হবে পরিকল্পনা কমিশনে। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ পরিবর্তন আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এত দিন স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন, রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানির শতভাগ নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প– অনুমোদন দিতে পারতেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থের প্রকল্প নিলে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হবে। সেখানে প্রকল্প যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন নিতে হবে। তবে প্রকল্প ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে হলে আগের মতোই অনুমোদন দিতে পারবেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
সূত্র জানিয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এ মন্ত্রণালয়ের অধীন পিডিবি, আরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকোসহ অনেক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা নিজেদের অর্থায়নে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। প্রকল্পগুলো একনেকে পাঠাতে হয় না, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা উপদেষ্টা অনুমোদন করতে পারেন।
পরিকল্পনা কমিশনের এক নথিতে উঠে এসেছে, এমন প্রকল্পগুলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাইরে থাকায় সরকারি সংস্থা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে নজরদারি ও মূল্যায়ন করা হয় না। তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল্যায়ন ও নজরদারি হয় না।
এ কারণে কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা যায় না। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রকল্প প্রস্তাব ও গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন একই প্রক্রিয়ায় আনা প্রয়োজন।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য ফলাফল পরিকল্পনা কমিশন যাচাই করবে। ৫০ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রকল্প একনেকের অনুমোদন ছাড়া বাস্তবায়ন করা যাবে না।
নতুন নির্দেশিকায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি উন্নয়ন বাজেটের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অপচয়ের ঝুঁকি কমবে, বাড়বে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর মধ্যে দীর্ঘসূত্রতার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লষকরা। অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো অনেক সময় মন্ত্রণালয়ের সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ নিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ কমবে। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর একটি অংশের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত ধাপ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্প অনুমোদনে সময় বাড়তে পারে। এতে জরুরি কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সময় কিছুটা বাড়লেও এর মাধ্যমে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি উন্নয়ন বাজেটের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অপচয়ের ঝুঁকি কমবে, বাড়বে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সমন্বয়ের জন্য সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক। কারণ, অনেক সময় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো মন্ত্রীদের পছন্দমতো প্রকল্প নিয়ে থাকে। মন্ত্রীরা প্রভাব খাটিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করেন। সে ধারা থেকে এখন বের হওয়া যাবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি গেলে দীর্ঘসূত্রতায়ও পড়তে হতে পারে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে। তাই দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি সরকারের মাথায় রাখতে হবে, যাতে প্রকল্প অনুমোদনে দেরি না হয়।



