ব্যবসার খরচ কমানো ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: ফাহমিদা খাতুন

Originally posted in নিউজ২৪ on 30 September 2026

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, সরকার বেসরকারি খাতের বেতন নির্ধারণ করবে না। তবে বেসরকারি খাতকে তাদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার আহ্বান জানাতে পারে সরকার।

কিন্তু বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে বলা হতে পারে, তারা এমনিতেই ব্যবসায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় ব্যবসা পরিচালনার খরচও বেড়েছে। ফলে এ অবস্থায় কর্মীদের বেতন বাড়ানো কঠিন।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বেসরকারি খাত সরকারকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানোর দাবি জানাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে উন্নতি হলে ব্যবসায় মুনাফা বাড়বে এবং তখন কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বেসরকারি খাতে সরাসরি বেতন বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের না থাকলেও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা, উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমাদের দেশে বৈষম্য বাড়ছে। সমাজের একটি শ্রেণির আয় বাড়ছে, অন্য একটি শ্রেণির আয় বাড়ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অন্য শ্রেণির মানুষের আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বেন।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সরকার খোলা বাজারে (ওএমএস) পণ্য বিক্রির আওতা বাড়াতে পারে এবং এতে আরও বেশি ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠী নয়, প্রয়োজনের মধ্যে থাকা নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদেরও সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ড. ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য জ্বালানিতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি বাড়ানো, গণপরিবহনে সহায়তা দিয়ে যাতায়াত ব্যয় কমানোর ব্যবস্থা এবং পরিবারগুলোর শিক্ষা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

Get CPD's latest research, policy insights, publications, and event updates.